তিন সন্তানের মা‘কে থানায় নিয়ে গণধর্ষণ:ওসি ওসমান গণি পাঠান ও এসআই নাজমুল হক প্রত্যাহার

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

এক নারী (৩০)কে থানায় নিয়ে গণধর্ষণ করে তাকে মিথ্যা মাদকের মামলায় দেবার দায়ে খুলনার জিআরপি (রেলওয়ে) থানার ওসি ওসমান গণি পাঠান ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হককে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার সকালে তাদের প্রত্যাহার করা হয়। ওসি ওসমান গণি পাঠানসহ ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগ করেছেন ধর্ষিতা নারী।

ধর্ষিতা নারীর অভিযোগ, ২ আগষ্ট যশোর থেকে ট্রেনে আসার সময় ফুলতলা এলাকায় জিআরপি পুলিশ মোবাইল চুরির অপরাধে তাকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। পরে গভীর রাতে ওসি ওসমান গণি পাঠান থানার ভেতরেই এই নারীকে ধর্ষণ করে। এরপর আরও ৪ পুলিশ সদস্য এই ধর্ষিতা নারীকে ধর্ষণ করেছে। পরদিন ৩ আগস্ট সকালে ৫ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদকের মামলা দিয়ে ধর্ষিতা নারীকে খুলনার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করে ধর্ষণকারী পুলিশ খুলনা জিআরপি থানার ওসি ওসমান গণি পাঠান।আদালতে বিচারকের সামনে নেয়ার পর ধর্ষিতা নারী জিআরপি থানায় তাকে গণধর্ষণের ঘটনা আদালতের সামনে তুলে ধরেন। আদালতের বিচারক তার মেডিকেল পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

তিন সন্তানের মা এই নারীকে থানায় নিয়ে  গণধর্ষণের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফিরোজ আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।ঘটনার সঠিক তথ্য উদঘাটনের লক্ষ্যে গত সোমবার দুপুরে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

ধর্ষিতা তরুণীর এক আত্মীয় জানান, গত ২ আগস্ট ঘটনার রাতে খুলনা রেলওয়ে জিআরপি থানার ওসি ওসমান গণি পাঠান, এসআই গৌতম কুমার পাল, এসআই নাজমুল হাসান, কনস্টেবল মিজান, হারুন, মফিজ, আব্দুল কুদ্দুস, আলাউদ্দিন, কাজলসহ বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

তদন্ত কমিটিকে ঘটনাটি সরেজমিন অনুসন্ধান করে সুস্পষ্ট মতামতসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন আগামী ৭ দিনের মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তদন্ত কমিটির প্রধান কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ এবং সদস্যরা হলেন কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের ডিআইও-১ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শ.ম. কামাল হোসেইন ও দর্শনা রেলওয়ে ইমিগ্রেশন ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাহারুল ইসলাম।

গণধর্ষণ ঘটনার তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান,গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে তদন্ত কমিটির সদস্যরা খুলনা জিআরপি থানার ওসি ওসমান গণি পাঠানসহ ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে একজন নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেন। পুলিশের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়া এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এছাড়া ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাদের ক্লোজ করা হয়েছে। বাকি তিন পুলিশ সদস্যের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে, তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত ধর্ষণের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না বলে জানিয়েছেন ফিরোজ আহমেদ।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 × one =