তৎপর প্রশাসন, নিষিদ্ধ শিশু ইলিশ শিকার, দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর পর ভারতে ইলিশ রপ্তানি শুরু

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত শিশু ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ করেছে মৎস্যসম্পদ মন্ত্রনালয় । দেশের ১৭টি জেলা-চাঁদপুর, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালি, বরগুনা, ফিরোজপুর, মাদারিপুর, শরিয়তপুর, ঝালকাঠি, মুন্সিগঞ্জ, নোয়াখালি, বাগেরহাট, মানিকগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও সিরাজগঞ্জে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৭৪ মৎস্যজীবীদের প্রতি মাসে ৪০ কিলোগ্রাম করে চার মাস খাদ্য সহায়তা দেবে সরকার। এই জেলাগুলির ৮৫ উপজেলায় মৎস্যজীবীরা ও তাঁদের পরিবার আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় এ সহায়তা পাবেন। এই কর্মসূচির জন্য চার মাসে মোট চাল লাগবে ৩৯ হাজার ৭৮৮ টন। জেলাশাসক দুঃস্থ মৎস্যজীবীদের মধ্যে এই চাল বিতরণ করবেন। শিশু ইলিশ শিকার থেকে তাঁদের বিরত রাখতেই এই উদ্যোগ প্রশাসনের।

দেশে প্রতি বছর ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত খোকা ইলিশ (লম্বায় ৯ ইঞ্চির চেয়ে ছোট) আহরণ, ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকে। এর অন্যথা হলে দোষী সাব্যস্তের এক থেকে দুই বছর কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকার জরিমানার বিধান রয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি মাসেই দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর পর ভারতে ইলিশ রপ্তানি থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয় ।এবার সরকারিভাবে, সরাসরি শহর কলকাতাতেই পাওয়া যাবে বাংলাদেশের সুস্বাদু ইলিশ। দেশে ইলিশের উৎপাদন বহুল হারে বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি রুপোলি শস্যের চোরাচালান রুখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ।

নারায়ণ চন্দ্র চন্দ জানিয়েছেন, “আমরা ইলিশ রপ্তানি করতে চাইছি। কারণ দেশে ইলিশের বহুল উৎপাদন হচ্ছে। আবার আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদাও রয়েছে। তাই আমরা কিছুটা হলেও এই মাছ রপ্তানি করতে চাই। এমনিতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি না দিলেও এই মাছ চোরাপথে নানা জায়গায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।ফলে ন্যায্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয় দেশ। তাই যদি আমরা সরাসরি ইলিশ রপ্তানির পথটা খুলে দিতে পারি, তাহলে গোপনে মাছ পাচার বন্ধ হবে।” মন্ত্রীর কথায়, ‘‘ইলিশের দাম না কমিয়ে তা রপ্তানি করা হচ্ছে কারণ চোরাপথে যে ইলিশ পাচার হয়, তার সিংহভাগই বড় আকৃতির। কাজেই দেশের বাজারে বড় ইলিশ আসে কম। সেই জন্যই দেখা যায়, বড় ইলিশ কেজি প্রতি বিকোয় ১৬০০ টাকায়। ছোট মাছের কিন্তু দাম কম। বাজারে বড় মাছের জোগান ফিরিয়ে আনতে গেলে এই চোরা পথে মাছ পাচারের পথ বন্ধ করতে হবে।”

মৎস্যজীবীদের জাল এবং নৌকা দিয়ে স্বনির্ভর করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। আবার ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নানা উদ্যোগও গ্রহণ করা হচ্ছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল জাটকা নিধন বন্ধ করা, বিচরণ ক্ষেত্রগুলির সংরক্ষণ, নদীতে ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করা প্রভৃতি।” উল্লেখ্য, বর্তমান সরকারের তরফে গৃহীত একাধিক পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশের ইলিশ জিআই তকমা অর্জন করেছে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 8 =