দলিত বিক্ষোভকারীদের দ্বারা অবরুদ্ধ ভারতের মুম্বাই

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

মারাঠি অস্মিতা বনাম দলিত আবেগের লড়াইয়ের জেরে মঙ্গলবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়ল ভারতের মুম্বাই । পুলিসের লাঠি, কাঁদানে গ্যাস কিছুই স্তব্ধ করতে পারেনি দলিত বিক্ষোভকারীদের। পুলিসকে লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ার ঘটনা সামনে এসেছে। শেষে একজন বিক্ষোভকারী গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করতে যান। তাঁকে সময়ে রক্ষা করা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত পাঁচজন আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন চারজন পুলিসকর্মী। মহারাষ্ট্রের বেশ কিছু জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আনা হয়েছে রায়ট পুলিস। ভিম কোরেগাঁও যুদ্ধের ২০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার পুণেতে হাজির হন কয়েক লক্ষ দলিত।

সোমবার দলিত এবং মারাঠাদের মধ্যে সংঘর্ষে এক জনের মৃত্যু হয়। আহত হন অনেকে। মঙ্গলবার দোষীদের শাস্তির দাবিতে মুম্বই বন্‌ধের ডাক দেয় একটি দলিত সংগঠন। বন্‌ধ সফল করতে মুম্বই আসতে শুরু করেন দলিতরা। মুলুন্দ, চেম্বুর, ভান্দুপ, রামবাই, আম্বেদকর নগরে রেল অবরোধ করেন দলিতরা। রাস্তা রোকোর ডাকও দেওয়া হয়। পুলিস দাবি করেছে, রাস্তা রোকো অভিযান রুখে দেওয়া গিয়েছে। মুম্বইয়ের ইস্টার্ন এক্সপ্রেস হাইওয়ে কয়েক ঘণ্টা বন্ধ ছিল। দুপুরে খুলে দেওয়া হয়। চারজনের বেশি মানুষের একসঙ্গে চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বেশ কিছু স্কুল এবং কলেজ ছিল বন্ধ। ‌

১৮১৮ সালে মারাঠাদের পেশোয়া গোষ্ঠীর সঙ্গে যুদ্ধ বাধে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির। পেশোয়া দ্বিতীয় বাজিরাওয়ের নেতৃত্বে পুণে আক্রমণের জন্য ২৮ হাজার সেনা রওনা দেয়। সেখানেই ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হেড কোয়াটার্স। কোরেগাঁওতে কোম্পানির ছাউনি আক্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন বালাজি। কিন্তু ক্যাপ্টেন ফ্রান্সিসের নেতৃত্বে মাত্র ৮০০ সেনা তাঁদের রুখে দেয়। প্রায় ১২ ঘণ্টা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ছিল দু’‌পক্ষের সেনা । কোম্পানি আরও সেনা আনতে পারে এই ভয়ে ১ জানুয়ারি পুণে ছেড়ে চলে আসেন বাজিরাও। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনা দলে ছিলেন মহর দলিতরা। তাঁরা মনে করেন এই যুদ্ধ দলিতদের আত্মাভিমানের প্রতীক। তাঁরা এই দিনকে ‘‌বিজয় দিবস’‌ হিসেবে পালন করেন।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 × 2 =