দারিদ্রতার সাথে যুদ্ধ,এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ উওম রবি দাশ

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail
পিকলু চক্রবত্তী, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজার জেলার শমশেরনগর চা বাগানের চা-শ্রমিক সন্তান উত্তম রবিদাস এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো। সুজা মেমোরিয়াল কলেজ থেকে 2.50 পেয়ে এইচ এসসি পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয় সুদর্শন রবি দাশ (উওম), পিতা শিউনারায়ন রবিদাশ, মাতা মণি রবিদাশ,  পাঁচ সদস্যের পরিবারে উত্তমের বাবাই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তিন বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় তার বাবা গুরুতর আহত হন (এখন পর্যন্ত অসুস্থ আছেন) অসুস্থ হবার পর উত্তমকেই পরিবারের হাল ধরতে হয়।
একবেলা স্কুল আর অন্যবেলা ইট ভেঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় সে। তার পর নিজেই ভর্তির টাকা জোগাড় করে ভর্তি হয় কলেজে,কলেজে ভর্তি হবার পর মুহূর্তেই উত্তমের মা এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত (এখনও তিনি অসুস্থ) একদিকে মা অন্যদিকে বাবা তার উপর স্কুল পড়ুয়া ছোট ভাই-বোনদের পড়ার খরচ চালানো। সবকিছু মিলিয়ে তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কোনভাবেই সম্ভব ছিল না।
তারপরও হাল ছাড়েনি উত্তম। এতটুকু বয়সে সবকিছুই সামাল দিতে হয়েছে তাকে।
একবেলা কলেজ অন্যবেলা ইট ভাঙ্গা। এমনকি এইচএসসি পরীক্ষা দেবার সময়ও সে ইট ভেঙ্গেছে। তাড়াতাড়ি পরীক্ষা শেষ করে ইট ভাঙ্গতে যেতো কেননা, ইট না ভাঙ্গলে থাকতে হবে অনাহারে। যখন অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী রেজাল্ট জানার গভীর আগ্রহে কলেজে  কিংবা অনলাইনে, সেই সময়ও উওম বেঁচে থাকার কর্ম সংগ্রামে নিয়োজিত। উওমের বাবা মা বলেন মানুষ বলছে ছেলের রেজাল্ট বেরিয়েছে কিন্তু জানার কোনো উপায় পাচ্ছিলাম না, রেজাল্টেরর দিন হঠাৎ তাদের বাড়িতে আসেন জাগো ফোরামের সভাপতি মোহন রবিদশ জিজ্ঞেস করলেন উওমের রেজাল্ট কি হলো তার বাবা জানান সে কাজে গেছে।
তারপর তিনি নিজেই তার রেজাল্ট দেখেন, সে উত্তীর্ণ হয়েছে। তার বাবা রেজাল্ট শোনার পর কান্না ধরে রাখতে পারলেন না। আমরা তো রেজাল্ট জানলাম- কিন্তু তাকে কিভাবে জানাবো।
এ ব্যাপারে মোহন রবিদাশ  উওমকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন  তোমার এ জয় লাখো ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে দারিদ্র্যকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শমশেরনগর চা বাগানের চা-শ্রমিক সন্তান উত্তম রবিদাস এক অালোরন সৃষ্টি করলো।
এ ব্যাপারে উওম রবিদাশ। বলে পড়াশুনা তার স্বপ্ন সে পড়াশুনা করে নিজের পায়ে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়, পাশাপাশি ছোট ভাই বোনদের পড়াশুনা করাতে চায়। কিন্তু বাস্তবতা বড়ই নিষ্টুর সব কিছু মিলিয়ে তার পক্ষে আর সম্ভব নয়। সে নিজের স্বপ্নকে কবর দিয়ে ভাই বোনদের পড়াশুনা নিয়ে এখন বেশি চিন্তিত, উওম আরো বলে সরকার যদি আমাদের পড়াশুনার প্রাতি সুনজর দেন তা হলে আমি আমার স্বপ্ন পূরণের লক্ষে পৌঁছাতে পারব বলে অাশাবাদি।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

two × 5 =