দুই ছাত্রীর অসদুপায়:ব্যবস্থা নিতে বলাতে ম্যাজিস্ট্রেটকে ধাক্কা দিয়েছেন শিক্ষক

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শুধু মাত্র একটি সাজানো ছবিকে ভিত্তি করে কোন তথ্য প্রমাণ যাচাই না করেই  পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়ার  নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আশ্রাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে জনৈক সহকারী অধ্যাপককে ‘লাঞ্ছিত ‘করার অভিযোগ এনে প্রশ্নবিদ্ধ হলো বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি এবং শিক্ষক সমাজ ।

গত ৯ এপ্রিলএইচএসসি পরীক্ষা চলাকালীন ভান্ডারিয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে কর্তব্যরত প্রধান প্রত্যবেক্ষককে (সহকারী অধ্যাপক) ‘লাঞ্ছিত’ করার অভিযোগ এনে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উদ্দেশ্য মূলক এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে । ঘটনার ব্যাপারে সূর্যবার্তা টোয়েন্টি ফোর ডটকম এর অনুসন্ধানে জানা যায় অসদুপায় অবলম্বনকারী দুই ছাত্রীকে সতর্ক করতে অনুরোধ করার কারণে কেন্দ্র পরিদর্শনরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে পরীক্ষার হল থেকে ধাক্কা দিযে বের করে দেন পরীক্ষাকেন্দ্রে কর্তব্যরত প্রধান প্রত্যবেক্ষক মোনতাজউদ্দিন ।সেখানেই ঘটনার সূত্রপাত । এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা মন্ত্রনালয় , শিক্ষা বোর্ড এবং প্রশাসন থেকে  তিনটি তদন্ত দল কাজ করছে ।

ঘটনায় জড়িত শিক্ষক ,উপস্থিত অধ্যক্ষ,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকদের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলে জানা যায় , ৯ এপ্রিল ৪টি পরীক্ষা কেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আশ্রাফুল ইসলামের পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল। তিনি ভান্ডারিয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালীন পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালনকালে দেখতে পান পরীক্ষা চলাকালীন একটি হলে দুই ছাত্রী ঘনিষ্ঠ ভাবে বসে কথা বলছে এবং দেখাদেখি করে লিখছে। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আশ্রাফুল ইসলাম পরীক্ষার হলে শব্দ না করে কর্তব্যরত প্রধান প্রত্যবেক্ষক (সহকারী অধ্যাপক) মোনতাজ উদ্দিনের কানে কানে বলেন অসদুপায় অবলম্বনরত দুই ছাত্রীকে সরিয়ে তাদের নির্ধারিত স্থানে বসাতে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর ও তাদের সরানো না হওয়াতে  নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট প্রশ্ন করেন কখন তাদের সরানো হবে? এতে মোনতাজ উদ্দিন বেশ উত্তেজিত হয়ে আশ্রাফুল ইসলামের ব্যাচ নাম্বার জানতে চান । একই সাথে তার ছাত্রীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করে  উল্টো নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আশ্রাফুল ইসলামকে ব্যবস্থা নিতে বলেন মোনতাজ উদ্দিন । তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে “আমি এখানে অল ইন অল ।”একথা বলে মোনতাজউদ্দিন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আশ্রাফুল ইসলামকে ধাক্কা দিয়ে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেন ।

পরীক্ষার্থীদের সামনে উত্তেজিত মোনতাজউদ্দিনের চরম দুর্ব্যবহারে অপমানিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশ্রাফউদ্দিন  ইউওনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবহিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবার ব্যাপারে আলোচনা করেন।এ সময়ে ইউএনও অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম জানতে চাইলে তা জানাতে পারেননি আশ্রাফুল ইসলাম ।ইউএনও অধ্যক্ষের কক্ষে ঢুকে দেখেন আশ্রাফুল ইসলাম বিমর্ষ চেহারায় বসে আছেন । ইউএনও’র সাথে  ভান্ডারিয়া কলেজে উপস্থিত হন এলাকার বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা।

ভান্ডারিয়া সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে ৬ এপ্রিল দায়িত্ব নিলেও  সেদিনই প্রথম শিক্ষকদের সাথে মিটিং করেছিলেন প্রফেসর এ বি এম ফখরুজ্জামান ।ঘটনা প্রসঙ্গে  জানতে চাইলে  প্রফেসর এ বি এম ফখরুজ্জামান সূর্যবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকমকে শুক্রবার সকালে বলেন,”আজ ২টি তদন্ত কমিটি এসেছে ।শুক্রবারেও তাই আমরা বসে আছি কলেজে। ” তদন্ত কমিটি রিপোর্ট প্রকাশের আগে ঘটনার বিস্তারিত বলতে অপারগতা প্রকাশ করলে ও সেদিনের ঘটনা প্রসঙ্গে  তিনি বলেন ,”সেদিনকার ঘটনা আজ হলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতো। আমি সব নিয়ন্ত্রন করে ফেলতাম,এতো  ন্যাক্কারজনক এবং দুঃখজনক ঘটনা ঘটতো না। সেদিন এখানকার কাউকে তেমন চিনতাম না ।জেলা প্রশাসক বা দায়িত্বশীল কারো ফোন নাম্বার ও আমার কাছে ছিল না। তাই হঠাৎ সেই পরিস্থিতিতে আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গিয়েছিলাম। “

তিনি জানান ,তাঁর কক্ষে  উপজেলা নির্বাহী অফিসার,শিক্ষক সমিতি নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকসহ মোনতাজউদ্দিন এবং নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট  আশ্রাফুল ইসলাম উপস্থিতিতে পুরো ঘটনা খোলামেলা আলোচনা করা হয়। সেই আলোচনায় সহকারী অধ্যাপককে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেছেন কিনা জানতে চাইলে প্রফেসর এ বি এম ফখরুজ্জামান বলেন, ” না, ম্যাজিষ্ট্রেট সাহেব মোনতাজউদ্দিন সাহেব কে বলেন নি তাঁর কাছে ক্ষমা চাইতে। ” বিসিএস শিক্ষা সমিতির প্রতিবাদ কর্মসূচী  প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ বলেন শিক্ষক হিসেবে সমিতির বাইরে যেতে পারি না আমরা। তবে সমিতির সঠিক অবস্থান আমরা প্রত্যাশা করি। শিক্ষকদের সংগঠন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে আশা করে তিনি বলেন , “যে কোন সমিতি কোন অপরাধীর পক্ষ নেয়া দুর্ভাগ্যজনক । “

৯ এপ্রিল সকালে এমন বিব্রতকর  ঘটনার পর সেদিন দুপুরে ভান্ডারিয়া সরকারী কলেজের অধ্যক্ষের রুমে সবাই আলোচনায় বসেন। এ সময়ে  মোনতাজউদ্দিন ইউএনওকে বলেন ,” নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আমার কানে কানে  ফিসফিস করে বলেছেন,দুই ছাত্রীকে সরিয়ে দিতে। আমি  সেটা পারি নাই।”

এ সময়ে ইউএনও প্রশ্ন করেন, “আপনি পারতেন না দুই ছাত্রীকে তাদের নির্ধারিত স্থানে বসাতে ? অসদুপায় অবলম্বনকারী দুই ছাত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হলো ,আপনি নেন নি কেন? ” মোনতাজউদ্দিন এ প্রশ্নের জবাবে বলেন,” তিনি এতো আস্তে বলেছেন ,আমি শুনতে পাইনি ।তাছাড়া আমার পুরো হলের দায়িত্ব । এতো স্বাক্ষর করতে হয়েছে , সময় পাই নি ।” ইউএনও তখন বলেন , ” নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পরও অভিযুক্ত ছাত্রীদের আপনি সতর্ক করেন নি কেন? জবাবে “মোনতাজউদ্দিন বলেন , আমি তো আমার ছাত্রীদের বিরুদ্ধে যেতে পারি না। তাদের কোন ডিসটার্ব করতে পারি না।” এ সময়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রশ্ন করেন ,এই পরীক্ষার্থীরা আপনার ছাত্রী ? তাহলে কি ভান্ডারিয়ার সবাই আপনার স্টুডেন্ট ? আমিও কি আপনার স্টুডেন্ট? যদি হই ও বা পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনকারীকে আপনি কি ছেড়ে দেবেন?” মোনতাজউদ্দিন আবার বললেন , “আপনাকে আমি বলতে বাধ্য নই ;আমি স্টুডেন্টদের পক্ষ নিয়েছি। “

ঘটনা শুনবার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনির হোসেন হাওলাদার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট  আশ্রাফুল ইসলামকে জিজ্ঞেস করেন,অসদুপায় অবলম্বনকারী ছাত্রীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কঠোরভাবে না বলে তিনি কেন মোনতাজউদ্দিনের কানে কানে বলেছেন? নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট তখন বলেন ,আমিও শিক্ষকতা করেছি । তাই কোন শিক্ষকের অসম্মান হোক্, সেটা আমি চাই নি । তাছাড়া পরীক্ষার হলে নীরবতা রক্ষা করার জন্যে আস্তে আস্তে শিক্ষকের কানে কানে কথা বলেছি। উল্লেখ্য, ২৮তম বিসিএস করে স্বরূপকাঠি সরকারী কলেজে শিক্ষক পদে যোগ দিয়েছিলেন আশ্রাফুল ইসলাম ।এর পরের বছর ২৯তম বিসি এস করে প্রশাসনে যোগ দেন আশ্রাফুল ইসলাম ।

এ সময়ে ইউএনও তাকে প্রশ্ন করেন ১৯৮০ সালের আইন  THE PUBLIC EXAMINATIONS (OFFENCES) ACT, 1980
(http://bdlaws.minlaw.gov.bd/sections_detail.php?id=610&sections_id=11241) সম্পর্কে তিনি জানেন কিনা। মোনতাজউদ্দিন বলেন , তাঁর পড়া নেই সেই আইন। ইউএনও আবার জিজ্ঞেস করেন মোবাইল কোর্টের আইনী ক্ষমতার কোন আইন তাঁর জানা আছে কিনা। মোনতাজউদ্দিন বলেন , তা ও তাঁর জানা নেই । এই আইনে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনকারী বা তাদের সহায়তাকারী কে কমপক্ষে ২ বছরের কারাদন্ড দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রটের ।

লাঞ্ছিত ম্যাজিষ্ট্রেট আশ্রাফুল ইসলামকে ইউএনও প্রশ্ন করেন,কেন তিনি তাৎক্ষণিক আইনী ব্যবস্থা নিলেন না । তিনি বলেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট তাৎক্ষণিক আইনী পদক্ষেপ নিলে তাকে এভাবে হেনস্থা হতে হতো না। এ সময়ে  মোনতাজউদ্দিনের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেবার জন্যে ভান্ডারিয়া থানা থেকে পুলিশ চাইলেন  নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আশ্রাফুল ইসলাম । থানা থেকে একজন এসআই পাঠানো হয়। সেসময়ে উপস্থিত শিক্ষকেরা সমস্বরে বলে উঠেন, মোবাইল কোর্টেই যদি ব্যবস্থা হবে , আমরা আছি কেন? তারা মোনতাজউদ্দিন কে অনুরোধ করেন তার ভুল স্বীকার করতে। শিক্ষকদের কেউ কেউ বলেন পায়ে ধরে ক্ষমা চাইতে। এ অবস্থায় মোনতাজউদ্দিন প্রথম হাত জোড় করে বলেন , “আমি ভুল করে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সাহেব কে দরজা থেকে সরিয়ে দিয়েছি।” একথা বলে তিনি আবার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রটের পা ছোঁয়ার ভান করেন। সকলের অজান্তে এক সাংবাদিক  ছবি তুলে নেন। ।এ সময়ে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট হঠাৎ চমকে দাঁড়িয়ে যান। তিনি মোনতাজউদ্দিনকে বলেন ,”আপনি আমার  পা ছুঁতে যাচ্ছেন কেন?  যেখানে আমাকে এতোগুলো স্টুডেন্ট এর সামনে অপমান করেছেন, সেখানেই সত্যি কথা বলতে হবে আপনাকে ।  ” এর পর তারা দু’জন পরীক্ষার হলে গিয়ে একথা গুলো বলে চলে আসেন। সবাই মিলে চা নাশতা খেয়ৈ ঘটনার আপাত সমাধান করে যান। এর বেশ কিছুদিন পর সংবাদপত্রে এই ছবি ছাপানো হয়। অনেকের মতে স্থানীয় সাংসদ  বর ও পরিবেশ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর বিরোধী পক্ষ নাজিউর রহমান মঞ্জুর পুত্র আন্দালিব রহমান পার্থই প্রথম তার ফেসবুকে এই ছবি পোস্ট করেন। এর পর কিছু পত্রিকাতে মনগড়া সংবাদ প্রচার করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষা ক্যাডার এবং প্রশাসন ক্যাডার সহ বিভিন্ন পর্যায়ে পারস্পরিক বিদ্বেষ ছড়িয়ে  সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে সরকারের বিরুদ্ধে উত্তেজনা সৃষ্টি করা।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক মোনতাজউদ্দিনের সাথে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সূর্যবার্তাটোয়েন্টিফোরকে বলেন, “আজ তদন্ত দল এসেছে, অধ্যক্ষ স্যার অনুমতি না দিলে আমি কিছু বলতে পারবো না। ” নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আশ্রাফুল ইসলাম সূর্যবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম কে বলেন, ” আমি শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সম্মান করি। আমি নিজেও শিক্ষকতা করেছি।অসদুপায় অবলম্বনকারী  পরীক্ষার্থীদের সতর্ক করতে বলতে গিয়ে  এভাবে হেনস্থা হবো আমি কখনো ভাবিনি। “

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন হাওলাদার সূর্যবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম কে বলেন , আমি নিজেও শিক্ষকতা করেছি । বিসিএস শিক্ষা সমিতির মহাসচিব ঢাকা কলেজে আমার সরাসরি শিক্ষক ছিলেন। তাঁর কাছে আমার প্রত্যাশা ছিল তাঁরা সত্য ঘটনা জানতে চাইবেন। কিন্তু সেটা না করেই কর্মসূচী আহ্বান করে দিয়েছেন তাঁরা। সত্য ঘটনার ধারে কাছে না গিয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কাজে নিয়োজিত থেকে আমরা কোন কর্মসূচী দিতে পারি না। কোন সরকারী কর্মচারী আইনত তা পারেন না।আমার কাছে ঘটনার তথ্যপ্রমাণ রয়েছে ,তদন্ত কমিটির কাছে আমি তা উপস্থাপন করবো। “

এ ব্যাপারে ঘটনার সময়ে উপস্থিত স্থানীয় সাংবাদিক দৈনিক বরিশালের কথা ‘র প্রতিবেদক মো. বাহাদুর হোসেন সূর্যবার্তা টোয়েন্টি ফোর ডটকমকে বলেন , “আমরা হঠাৎ জানতে পারি পরীক্ষার হল থেকে ম্যাজিষ্ট্রেটকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছে। সাথে সাথে আমরা কয়েকজন সাংবাদিক ভান্ডারিয়া কলেজে ছুটে যাই। অধ্যক্ষের রুমে আমরা পুরো ঘটনার আলোচনা শুনি।” মো. বাহাদুর হোসেন বলেন তাদের সামনেই পুলিশ দেখে   মোনতাজউদ্দিন নিজেই দৌড়ে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আশ্রাফুল ইসলামের পায়ে ধরার  ভঙ্গী করেন। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সাথে সাথে উঠে দাঁড়ান। মোনতাজউদ্দিন  সকলের  সামনে স্বীকার করেন , তিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কে দরজা থেকে বের করে দিয়েছেন । একই সাথে বেশ দম্ভের সাথে বলেছেন , তিনি তাঁর স্টুডেন্ট দের ডিস্টার্ব করতে চান নি বলেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কথামতো তাদের ঘনিষ্ঠ ভাবে বসে লিখা থেকে বিরত করেন নি। ” তবে বাহাদুর হোসেন মনে করেন দু’জনেই তরুণ  কর্মকর্তা বলে যে যার ক্ষমতা দেখাতে চেয়েছেন । যা কোনভাবেই ঠিক হয় নি।

উল্লেখ্য , শিক্ষা মন্ত্রনালয়, শিক্ষা বোর্ড এবং শিক্ষা ভবন থেকে আলাদা আলাদা তিনটি তদন্ত দল ঘটনার তদন্ত করছে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 × three =