দুই জঙ্গির মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়েছে : আজ ময়নাতদন্ত

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সিলেটের  জঙ্গি আস্তানা ‘আতিয়া মহল’ থেকে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দলের উদ্ধার করা  দুই জঙ্গির মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডিএনএ’র নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা ।

দুই জঙ্গির একজন নারী, অন্যজন পুরুষ ।আজ মঙ্গলবার মরদেহ দু’টির ময়নাতদন্ত করা হবে।সোমবার তৃতীয় দফা সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনী জানায়, আতিয়া মহলে আরও দুজন জঙ্গির মরদেহ পড়ে রয়েছে । অভিযানে এ পর্যন্ত চার জঙ্গি নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে আছে তিন পুরুষ ও এক নারী।
এরপর শনিবার সকাল থেকে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দল ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ নামে অভিযান শুরু করে। এ অভিযানের মধ্যেই শনিবার সন্ধ্যায় সিলেটে পুলিশ চেকপোস্টে দুই দফা বিস্ফোরণে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৬ জন নিহত এবং র‍্যাবের গোয়েন্দা প্রধান আবুল কালাম আজাদ গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি সিঙ্গাপুরে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে আছেন। এ ছাড়া আরো৪৩  জন আহত হন , তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় সিলেটে সেনাবাহিনীর এক সংবাদ সম্মেলনে মরদেহগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলের নিচতলাটি কাওসার আলী ও মর্জিনা বেগম নামে দুজন স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ভাড়া নিয়েছিলেন। কিন্তু এ দু’টি মরদেহ তাদেরই কিনা সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারছে না পুলিশ। সেজন্যই মরদেহ দুটির ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়েছে।

মরদেহগুলো এখন রাখা হয়েছে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে। মোগলাবাজার থানা-পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এর আগে জঙ্গি আস্তানার খবর পেয়ে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে ঘিরে রাখা হয় সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার এই বাড়িটি। শুক্রবার ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াত এবং সিসিটিসি সিলেটে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ঘটনাস্থল ঘেরাও করে।

এরপর শনিবার সকাল থেকে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দল ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ নামে অভিযান শুরু করে। দুপুর নাগাদ ওই বাড়িতে জিম্মি হয়ে থাকা ২৮ পরিবারের ৭৮ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় সেনাবাহিনী। তবে রাতে অভিযানস্থলের বাইরে ৩০০ গজ উত্তরের রাস্তায় দুই দফা বোমা বিস্ফোরণে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ছয়জন নিহত এবং আরও ৪৪ জন আহত হন।

সোমবার সন্ধ্যায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ওই ভবনের নিচতলায় চারজনের মরদেহ পড়ে রয়েছে। এর মধ্যে দুজনের লাশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী ওই ভবনের নিচতলায় চারজন আছেন। এর মধ্য তিনজন পুরুষ এবং একজন নারী। বাকি দুটি মরদেহে আত্মঘাতী বেল্ট লাগানো আছে। পুরো ভবনে যে পরিমাণ বিস্ফোরক আছে, তা যদি ফেটে যায়, তাতে পুরো ভবন ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। তাই বেশ সতর্কতার সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া সুন্দর ও সফলভাবে আজকের অভিযান শেষ হয়েছে। দিনব্যাপী অভিযান চালানো হয়েছে।

জঙ্গি আস্তানা ‘আতিয়া মহলে’ অভিযানে সেনা কমান্ডোদের তরফে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। অভিযানের পুরোটা সময় জুড়েই পরিস্থিতি প্যারা-কমান্ডোদের নিয়ন্ত্রণে ছিলো। তবে এখনও অভিযান পুরোপুরি শেষ হয়নি। তল্লাশি শেষ হলে ঘটনাস্থলে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটকে পাঠানো হবে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 × 5 =