দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর ফিরেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদেকুল ইসলাম মিলন

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail
দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর পরিবারের কাছে ফিরেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাদেকুল ইসলাম মিলন, তবে তাকে কারা ধরে নিয়ে কোথায় রেখেছিল, কিছুই বলতে পারছেন না তিনি।

গত ২৩ মে ভোরে রাজধানীর আদাবরে বাসা থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে কয়েকজন মিলনকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। পুলিশ কিংবা র্যাব তাকে ধরার কথা অস্বীকারের পর তার পরিবার আদাবর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে।

পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মিলনের সন্ধান দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করছিলেন তার সহপাঠীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও এই ছাত্রের খোঁজ বের করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল।

এর মধ্যেই ‘অপহরণকারীরা’ রোববার সকাল ৮টার দিকে বান্দরবানের একটি এলাকায় রাস্তার পাশে মিলনকে ফেলে রেখে যায় বলে শুভ নামে তার এক সহপাঠী জানিয়েছেন।

শুভ বলেন, “সকাল ১০টার দিকে মিলন আমাদেরই এক বন্ধুকে ফোন দিয়ে বিকাশে ২ হাজার টাকা পাঠাতে বলে। টাকা পাঠালে রাত ৮টার দিকে গাজীপুরে তার বোনের বাসায় ফেরে।”

মিলন এখন গাজীপুরে তার বোনের বাসায় রয়েছেন জানিয়ে তার বন্ধু বলেন, “কোথায় ছিল, কীভাবে ছিল- এসব প্রশ্ন করলে সে কোনো উত্তর দেয়নি।”

মিলনের মা বলেন, “আমার ছেলে কিছুই বলতে পারছে না। তার কিছুই মনে নেই। তাকে চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখে গেয়েছিল।”

কী কারণে, কারা মিলনকে ধরে নিয়েছিল, সে বিষয়ে পরিবারসহ কেউ কোনো ধারণা দিতে পারেনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নূর মোহাম্মাদ  বলেন, মিলন ফিরেছেন বলে তার সহপাঠীদের কাছে শুনেছেন তিনি।

নিখোঁজ হওয়ার পর প্রক্টর নূর মোহাম্মদ ও পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নূরে আলম আবদুল্লাহ পুলিশের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষার্থীদের জানিয়েছিলেন, মিলন ‘ডিবি হেফাজতে রয়েছে’।

কিন্তু ডিবি কার্যালয়ে মিলনের মা-বাবা যাওয়ার পর সেখানে তাকে পাননি। তখন অধ্যাপক নূরে আলম আব্দুল্লাহ বলেছিলেন, “আগের তথ্যটি ভুল ছিল। পুলিশ স্বীকার করছে না যে তাদের হেফাজতে মিলন আছে।”

এরপর মিলনের সন্ধান দাবিতে বিক্ষোভসহ ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের মতো কর্মসূচি পালন করেন সহপাঠীরা। ছাত্রকে উদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তোলেন তারা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্রের ফিরে আসার বিষয়ে পুলিশও কিছু জানে না। আদাবর থানার এসআই জামান জানান, মিলনের পরিবারের পক্ষ থেকে কিছু এখনও পুলিশকে জানানো হয়নি।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

one + nineteen =