দুদক আয়োজিত গণশুনানিতে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যের চিত্র তুলে ধরলেন ভুক্তভোগীরা

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিআরটিএ (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ) তে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ গ্রাহকরা। রাজধানীর মিরপুরে প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর, কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া অফিসে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে সামনে হাজির হন এই চক্রের সদস্যরা।

গণশুনানির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসাচ) এর প্রতিষ্ঠাতা জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ও বিআরটিএ’ র চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান বক্তব্য রাখেন। সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন দুদকের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক নাসিম আনোয়ার। মঞ্চে বিআরটিএর সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা ভুক্তভোগীদের অভিযোগের জবাব দেন। এর আগে বিআরটিএ’ র সেবা কার্যক্রম নিয়ে ২০১৬ সালের ৯ মে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সোমবারই তারই ফলোআপ হয়।

কী কাজ- প্রথমেই জানতে চাওয়া হয় তা। তারপর কত টাকায় কতদিনে কাজটি করে দেবে তাও জানিয়ে দেন তারা। সেবা পেতে অধিকাংশ গ্রাহকই দালালের খপ্পরে পড়েন।

সোমবার বিআরটিএ’র সেবা কার্যক্রম নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আয়োজিত গণশুনানিতে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যের চিত্র তুলে ধরেন ভুক্তভোগীরা। দুদক কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ওই গণশুনানি হয়।

গণশুনানিতে বলা হয়, ওই দালাল চক্রের সঙ্গে বিআরটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশ রয়েছে। দীর্ঘদিনেও দালালমুক্ত বিআরটিএ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

দুদক কমিশনার নাসির উদ্দিন বলেন, দুই বছর আগের গণশুনানির ফল আশাব্যঞ্জক নয়। ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশনে সহজ পদ্ধতি বের করার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলেন, গোপনে দুর্নীতিবাজদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিআরটিএ কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আগামী ১৫ মে’র মধ্যে এবারের গণশুনানির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানাতে হবে।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারকেই প্রধান দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ কাজে জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি সড়কে নছিমন, ভটভটি বন্ধ, চালকদের জন্য পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, চালকের মাদকাসক্তি কঠোর হস্তে বন্ধ, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা, হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো বন্ধ করা, চালকদের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বিআরটিএ গাড়ির যে ফিটনেস সনদ দিচ্ছে তা মূলত কাগুজে। টাকা দিলেই কাগজ পাওয়া যায়। প্রযুক্তি দিয়ে ফিটনেস যাচাই করা হয় না।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান বলেন, দুর্নীতি অনেকাংশে কমে এসছে। দুর্নীতির মাত্রা আগের মতো নেই। অভিযোগকারীদের সব সমস্যা সমাধান করা হবে বলে জানান। শিগগির অটোমেটেড পদ্ধতিতে গাড়ির ফিটনেস সনদ দেওয়া হবে। কোনো গ্রাহক যাতে সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি, ভোগান্তির শিকার না হন সেদিকে নজরদারি জোরদার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে তাদের গ্রেফতার করা হবে।

গণশুনানি চলাকালে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এফআর খান বলেন, টাকার বিনিময়ে অযোগ্য লোকদের লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে। যোগ্য লোকদের দেওয়া হচ্ছে না। অভিযোগ জানাতে এসে কেরানীগঞ্জের বেগম বেদৌরা বলেন, পাঁচশ’ টাকা দিলেই লাইসেন্স পাওয়া যায়। টাকা না দিলে পাওয়া যায় না।

রাজধানীর ধানমণ্ডির সেবাগ্রহীতা রেহানা সালমা বলেন, গাড়ির মালিকানা হস্তান্তরের সমস্যা সমাধানের জন্য দুই বছর আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। এই সময়ে বহুবার ঘোরাঘুরি করার পরও কোনো কাজ হয়নি। এবারের ফলোআপ গণশুনানি সামনে রেখে মালিকানা হস্তান্তরের কাজটি সম্পন্ন করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

fifteen + nineteen =