দেশ আজ ধর্মান্ধতা ও সাম্প্রদায়িকতার খপ্পরে ম্রিয়মান ! পিতা, তুমি যদি আরেকবার প্রত্যাবর্তন করতে – জ.শ. তিমির

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

এ দেশের মানুষের অধিকার আদায় করবার জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান পাকিস্তান শাসনামলের ২৩ বছরে ১৮ বার কারাবরণ করেছেন, সাড়ে ১১ বছর জেল খেটেছেন।

একাত্তরে বঙ্গবন্ধু যখন মিয়ানওয়ালী কারাগারে বন্দী তখন হাবীব আলী ছিলেন সেই কারাগারের প্রিজন গভর্নর। মিয়ানওয়ালী কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে বঙ্গবন্ধুর নয় মাস চৌদ্দ দিনের কঠিন কারাজীবনের কথা, কীভাবে তিনি মুক্তিলাভ করেছেন সবিস্তারে তার বর্ণনা পাওয়া গেছে এই হাবীব আলীর মারফত।

“বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর অর্থাত্ ১৬ই ডিসেম্বরের ১০ দিন পর ২৬শে ডিসেম্বর রাতে মুজিবকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশের পরপরই একটা ট্রাক নিয়ে মিয়ানওয়ালী কারাগারের দিকে যাই। কারা ফটক খুলে তার সেলের কাছে গিয়ে দেখি তিনি একটা কম্বল জড়িয়ে বিছানার উপর ঢুলছেন। এমন সময় সেখানে যারা কয়েদী ছিল তারা শেখ মুজিবকে ফিসফিস করে বলছিল যে, ‘ওরা এসেছে।’

মুজিবও ফিসফিসিয়ে বললেন যে, ‘শেষ পর্যন্ত আমি মাথানত করবো না।’ তার আগে মিয়ানওয়ালী কারাগারেই সেলের সামনে একটা কবর খনন করা হয়েছিল। শেখ মুজিব যখন জিজ্ঞেস করেছিল, ‘এটা কী?’ তখন তাঁকে বলা হয়েছিল যে, ‘যুদ্ধ চলছে এটা বাংকার। শেল্টার নেবার জন্য।’ আসলে ছিল কবর। তখন মুজিবকে একজন কয়েদী বলছিল যে, ‘আসলে এটা কবর। আপনি যদি আজ বের হন আপনাকে মেরে এখানে কবর দেয়া হবে।’ তখন মুজিব আমাকে বলেছিলেন, ‘কবরকে আমি ভয় পাই না। আমি তো জানি ওরা আমাকে ফাঁসি দেবে। কিন্তু আমি জানি আমার বাংলাদেশ একদিন স্বাধীন হবে। ’

২৬ তারিখে আমি ট্রাকে করে মুজিবকে নেয়ার জন্য মিয়ানওয়ালী কারাগারে আসি। কারণ, ইতিমধ্যে ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন এবং জুলফিকার আলী ভুট্টো পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। ক্ষমতা হস্তান্তরকালে ইয়াহিয়া খান ভুট্টোর কাছে প্রার্থনা করেছিল যে, ‘আমার ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে শেখ মুজিবকে হত্যা করার অনুমতি দাও। আমার জীবনে যদি কোন ভুল করে থাকি তাহলো শেখ মুজিবকে ফাঁসি কাষ্ঠে না ঝুলানো।’

তখন প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো আমার নিকট এই মর্মে জরুরি বার্তা প্রেরণ করেন যে, ‘শেখ মুজিবকে কারাগার থেকে দ্রুত নিরাপদ কোন স্থানে সরিয়ে ফেলা হোক।’ তখন আমি মুজিবকে মিয়ানওয়ালী কারাগার থেকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে ট্রাক নিয়ে কারা ফটকে আসি এবং সেলের মধ্যে গিয়ে শেখ মুজিবকে আমার সাথে যেতে অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি আমাকে বাধা দেন।

তখন আমি তাঁকে বলি, ‘শেখ, আমি আপনার একজন শুভাকাঙ্ক্ষী, বন্ধু। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমি আপনাকে এখান থেকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে এসেছি। কারণ, এখানে কমান্ডো আসতে পারে। তারা আপনাকে হত্যা করবে। আমার উপর আপনি আস্থা রাখুন।’ তারপর মুজিবকে ট্রাকে তুলে, ট্রাকের মধ্যে লুকিয়ে, আমার চশমা ব্যারাজ নামক বাড়িতে নিয়ে যাই। সেখানে গিয়েই তিনি একটা টেলিফোন করতে চান। মুজিব আমাকে বলেছিলেন, ‘আমি কী আমার স্ত্রীর সাথে কথা বলতে পারি।’ তখন আমি তাকে বলেছিলাম, ‘না, আমার একমাত্র কাজ হলো আপনার জীবন রক্ষা করা।

আপনি টেলিফোন করতে পারবেন না।’ তখন তিনি বললেন, ‘আমি কী খবরের কাগজ পড়তে পারি।’ আমার উত্তর ছিল, ‘না।’ এরপর বললেন, ‘আমি কী এক কাপ চা পেতে পারি।’ তখন তাঁকে এক কাপ চা দেয়া হয়। আমার বাড়িতে তিনি দুই দিন থাকেন। দিন দুই পরে শেখ মুজিবকে নিয়ে যাই শাহুল্যা নামক স্থানে। যেটা এক সময় বৃটিশ সেনাবাহিনীর রেস্ট হাউস ছিল। পিন্ডির থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে এই শাহুল্যাতে প্রেসিডেন্ট ভুট্টো মুজিবের সাথে সাক্ষাত্ করতে আসেন। ভুট্টো যখন আসেন তখন একজন কর্নেল এসে মুজিবকে বলছিল, ‘পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসবে।’

তারপরে সেখানে ভুট্টো এলেন এবং মুজিবকে সালাম দিয়ে বললেন যে, ‘নাউ আই অ্যাম দি প্রেসিডেন্ট অব পাকিস্তান অ্যান্ড চীফ মার্শাল ল’ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর।’ তারপরই শেখ মুজিবের প্রশ্ন ছিল যে, ‘ভুট্টো, টেল মি ফার্স্ট, হোয়েদার আই অ্যাম এ ফ্রি ম্যান অর প্রিজনার।’ তখন ভুট্টো উত্তর দিয়েছিলেন, ‘নাইদার ইউ আর এ প্রিজনার, নর ইউ আর এ ফ্রিম্যান।’ তখন শেখ মুজিব বললেন, ‘ইন দ্যাট কেইস আই উইল নট টক টু ইউ।’

তখন জুলফিকার আলী ভুট্টো বলতে বাধ্য হলেন যে, ‘ইউ আর এ ফ্রিম্যান।’ এরপর শেখ মুজিব প্রেসিডেন্ট ভুট্টোর সাথে কথা বলতে শুরু করলেন। তারপরে সে অনেক রকমের প্রস্তাব দিলেন। কীভাবে একটা কনফেডারেশন করা যায়, কীভাবে একসাথে থাকা যায় ইত্যাদি। কিন্তু শেখ মুজিব কোন কথাই বললেন না। চুপ করে থেকে শুধু বললেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আমি আমার প্রিয় সহকর্মীদের সাথে কথা বলতে না পারবো, ততক্ষণ আমার পক্ষে কিছুই বলা সম্ভবপর নয়।’

এরপর শেখ মুজিবকে একটা যৌথ ইশতেহার দেয়া হয়েছিল স্বাক্ষর করার জন্য। মুজিব সেটাও প্রত্যাখ্যান করলেন। পরিশেষে শেখ মুজিব বললেন, ‘আমি কী এখন দেশে যেতে পারি?’ ভুট্টো বললেন, ‘হ্যাঁ, যেতে পারেন। কিন্তু কীভাবে যাবেন? পাকিস্তানের পিআইএ ভারতের উপর দিয়ে যায় না।’ তখন মুজিব বললেন, ‘সেক্ষেত্রে আমি লন্ডন হয়ে যাবো।’ এরপর ৮ জানুয়ারি শেখ মুজিব মুক্তি পেয়ে পিআইএ’র একটি বিশেষ বিমানে লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।”

পাকিস্তানের কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠের নারকীয় বন্দীদশা থেকে মুক্ত হয়ে বিশ্বের নিপীড়িত-মেহনতী মানুষের অকৃত্রিম মুখপাত্র বঙ্গবন্ধু মুজিব জানুয়ারির ৮ তারিখে পিআইএ’র একটি বিশেষ বিমানে লন্ডনের হিথ্রো বিমান বন্দরে পৌঁছান। বঙ্গবন্ধুর লন্ডন আগমনের সংবাদ শোনামাত্র জামুরকাই নামক অবকাশ যাপন কেন্দ্রে ছুটিতে থাকা বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ্রো ছুটে আসেন ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটে অবস্থিত বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এবং বৃটিশ রীতি-ঐতিহ্য অনুযায়ী সদ্য-স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাগত জানান।

সেখানে এক ভাষণে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে সমর্থন ও সহযোগিতাদানের জন্য ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন, পোল্যান্ড, ফ্রান্স ও ব্রিটেনকে আমি ধন্যবাদ জানাই। স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এখন একটি বাস্তব সত্য। এ দেশকে বিশ্বের স্বীকৃতি দিতে হবে। বাংলাদেশ অবিলম্বে জাতিসংঘের সদস্য পদের জন্য অনুরোধ জানাবে।

কলকাতায় লক্ষ লক্ষ মানুষ ময়দানে তার জন্যে অপেক্ষা করলেও তিনি স্বাধীন দেশে ফিরতে উতসুক থাকাতে পরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ভারত ছাড়েন, স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পথে লন্ডন হয়ে দিল্লিতে পৌঁছান, সকাল হতে দিল্লীর রাজপথ ধরে হাজার হাজার মানুষের মিছিল পালাম বিমান বন্দর ও প্যারেড গ্রাউন্ডের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। দিল্লীর জনসাধারণ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে এক অভূতপূর্ব রাষ্ট্রীয় সম্বর্ধনা জ্ঞাপন করে।

বিমান বন্দরে বঙ্গবন্ধুকে অভ্যর্থনা জানান রাষ্ট্রপতি শ্রী ভি ভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী ও সরকারের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ। বৃটিশ রাজকীয় বিমান বাহিনীর কমেট জেটটি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অবতরণ করলে তাঁর সম্মানে ২১ বার তোপধ্বনি করা হয়। ভারতীয় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব আব্দুস সামাদ আজাদ তাঁকে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করেন।

শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী দিল্লি প্যারেড গ্রাউন্ডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পাকিস্তানের জেলে তাকে বন্দী করে রাখা হয়েছিল কিন্তু তার আত্মাকে কেউ কয়েদ করার ক্ষমতা রাখেনি, বাংলাদেশের মানুষ তার সেই শক্তিময়তা থেকে প্রেরণা পেয়ে লড়াই করে গেছেন এবং আজ তারা মুক্ত !

উপস্থিত জনতা এবং শ্রীমতি গান্ধীও জনসভাতে তাকে বাংলাতে ভাষণ দিতে বলেন, ভারতের সকলে ও বিদেশী কূটনীতিবিদ রা তার সেই ভাষণ আগ্রহ ও উষ্ণ অভ্যথনা দিয়ে বরণ করেন, সেই ভাষণে আবার বঙ্গবন্ধুর সেই উচ্চারণ – ”আমি বিশ্বাস করি ধর্মনিরপেক্ষতায় , আমি বিশ্বাস করি গণতন্ত্রে,আমি বিশ্বাস করি সমাজতন্ত্রে”!

”মিত্র বাহিনীর যুদ্ধে যুক্ত হওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের পক্ষে জনমত সৃষ্টির জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করেন।কথায় আছে, ‘দুর্দিনের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু’। একাত্তরে এদেশে এসেছিল সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্দিন। সেই চরম দুর্দিনে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন মানবতার অগ্রদূত বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী”।

ভারত সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু বলেন ”ভারতের মানুষ নিজেরা দুরাবস্থাতে থাকার পরও তারা এক কোটি মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে, যুদ্ধে পাশে দাড়িয়েছে, জীবিতভাবে পাকিস্তানের কারাগার থেকে তার মুক্তির জন্যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশ্বে কুটনৈতিক তত্পরতার জন্যে ইন্দিরা গান্ধীর অবদান, ভারতের অবদান – বাংলাদেশের মানুষ কখনো ভুলবে না, তিনি বলেন ইন্দিরা গান্ধীর সাথে তার মিল আদর্শের মিল – নীতির মিল, মনুষ্যত্বের মিল, বিশ্ব শান্তির মিল”, তিনি বলেন ”বাংলাদেশ শেষ হয়ে গেছে – ভারত সহ বিদেশী কূটনীতিবিদদের তিনি মনে করিয়ে দেন যে বাংলাদেশকে ঘুরে দাড়াতে হলে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন” ।

এর পরের স্মৃতিচারণ আমরা নিয়েছি ঊনসত্তরের তুখোড় ছাত্রনেতা, আওয়ামী লীগ নেতা, সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদের, ”দিল্লী থেকে বঙ্গবন্ধুকে বহনকারী বৃটিশ রাজকীয় বিমান বাহিনীর কমেট বিমানটি ঢাকার আকাশ সীমায় দেখা দিতেই জনসমুদ্র উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। দুপুর ১-৫১ মিনিটে বিমানটি অবতরণ করে।

বিমানে সিঁড়ি স্থাপনের সাথে সাথে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমেদ ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, আমরা মুজিব বাহিনীর চার প্রধান, কেন্দ্রীয় স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ ছুটে যাই নেতাকে অভ্যর্থনা জানাতে। আমার হাতে ছিল পুষ্পমাল্য। জাতির জনককে মাল্যভূষিত করার সাথে সাথেই তাঁর সংযমের সকল বাঁধ ভেঙে যায়। তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিমানের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু জনতার মহাসমুদ্রের উদ্দেশে হাত নাড়েন। তাঁর চোখে তখন স্বজন হারানোর বেদনা-ভারাক্রান্ত অশ্রুর নদী, আর জ্যোতির্ময় দ্যুতি ছড়ানো মুখাবয়ব জুড়ে বিজয়ী বীরের পরিতৃপ্তির হাসি।

রেসকোর্স ময়দানে যাওয়ার জন্য জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অপেক্ষমাণ ট্রাকে উঠে রওয়ানা দেই। সুদৃশ্য তোরণ, স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি দিয়ে সজ্জিত রাজপথের দু’পার্শ্বে দাঁড়ানো জনসমুদ্র পেরিয়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যখন ময়দানে পৌঁছলাম তখন বিকাল সাড়ে চারটা। অর্থাত্ বিমান বন্দর থেকে ময়দান পর্যন্ত আসতে সময় লেগেছে ২ ঘণ্টা ১৩ মিনিট। নেতাকে নিয়ে যখন ময়দানে প্রবেশ করি কোনদিকে তিলধারণের ঠাঁই নেই। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার মুহুর্মুহু করতালিতে চারদিক মুখরিত”।

বঙ্গবন্ধু মঞ্চে উঠে ডায়াসের সামনে দাঁড়িয়ে চতুর্দিকে তাকালেন এবং রুমালে চোখ মুছে চিরাচরিত ভঙ্গিতে ‘ভায়েরা আমার’ বলে উপস্থিত জনসমুদ্রের উদ্দেশে নিবেদন করলেন তাঁর ঐতিহাসিক বক্তৃতা।

হূদয়ের সবটুকু অর্ঘ্য ঢেলে আবেগঘন ভাষায় বললেন, ‘ফাঁসির মঞ্চে যাবার সময় আমি বলবো, আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা।’ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘ভায়েরা, তোমাদেরকে একদিন বলেছিলাম, ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। আজকে আমি বলি, আজকে আমাদের উন্নয়নের জন্য আমাদের ঘরে ঘরে কাজ করে যেতে হবে।

আমি স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই যে, বাংলাদেশ একটি আদর্শ অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হবে। আর তার ভিত্তি বিশেষ কোন ধর্মীয় ভিত্তিক হবে না। রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে— গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র।’

তথ্যসূত্র/ কৃতজ্ঞতা : বিদেশী সাংবাদিকের রেকর্ড , প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ, ভারত, মুজিবুর রহমান, বাঙলাদেশের স্বাধীনতা ও পাকিস্তান – শশাঙ্ক এস ব্যানার্জী
একাত্তরে বন্দী মুজিব পাকিস্তানের মৃত্যুযন্ত্রনা – অধ্যাপক আবু সাইয়ীদ, ভারতীয় সংবাদ আর্কাইভ ও নেট

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

7 + 6 =