দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে সমুদ্র

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের দাপটে চিন্তিত বিজ্ঞানীরা। তাঁদের সমস্ত অঙ্ককে ভুল প্রমাণ করে দ্রুত বাড়ছে সমুদ্রের জলের উষ্ণতা। সাধারণত, এন নিনো বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুত্পাতের কারণে প্রতি বছর ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা বাড়লেও সাগরের জলে তার প্রভাব পড়ে না।

কিন্তু গত বছর, ২০১৮ সালে সমুদ্রের তাপমাত্রা আগের সমস্ত রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে। ২০১৬ সাল থেকেই টানা বাড়ছে লবণাক্ত জলের উষ্ণতা। যার জেরে বিপন্ন হয়ে পড়ছে সামুদ্রিক প্রাণীদের জীবন। আন্তর্জাতিক ‘সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত সাম্প্রতিক গবেষণায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে।

এর আগে গত ১৫ বছর ধরে বিশ্ব উষ্ণায়নের তীব্রতা কমে আসার দাবি করে আসছিলেন গবেষকরা। কিন্তু এই নতুন গবেষণায় রীতিমতো তথ্য-প্রমাণ দিয়ে সেই দাবি খারিজ করা হয়েছে।

গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির নির্গমন রোখা যাচ্ছে না। সেই কারণে সূর্যের তাপ মহাকাশে ফিরে যেতেও পারছে না। আর তার জেরেই ভূপৃষ্ঠের পাশাপাশি গরম হয়ে উঠছে সমুদ্র। এই শতাব্দী শেষের আগেই সমুদ্রপৃষ্ঠের উপরের দু’হাজার মিটারের তাপমাত্রা ০.৭৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে কাপলড মডেল ইন্টারকমপ্যারিজন প্রজেক্ট ৫ (সিএমআইপি৫) মডেল।

উষ্ণতা বাড়ার কারণে হিমবাহ ও মেরুপ্রদেশের বরফ গলে গিয়ে সাগরের জলস্তর ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা গবেষকদের। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জেকে হাউজফাদার বলছেন, ‘যদি আপনাকে বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব কোথায় দেখতে হয়, তাহলে সমুদ্রের দিকে দেখুন।’ তাঁর মতে, ভূপৃষ্ঠের তুলনায় সমুদ্রে বিশ্ব উষ্ণায়নের লক্ষণ বোঝা অপেক্ষাকৃত সহজ।

২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে প্রকাশিত চারটি গবেষণাপত্র সামুদ্রিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা বিশ্লেষণ করে এই নয়া সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন গবেষকরা। তাপমাত্রার পরিমাপ, সেগুলির মধ্যে থাকা তারতম্য ও ত্রুটিগুলি পর্যালোচনা করে তা সংশোধন করা হয়েছে। গত দশক থেকেই সামুদ্রিক নজরদারি সংস্থা আর্গো ৪,০০টি ভাসমান রোবটের মাধ্যমে সমুদ্রের তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, পিএইচ মাত্রা ইত্যাদির তথ্য সংগ্রহ করে। সাম্প্রতিক গবেষণায় তাদের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধির সামগ্রিক চিত্রটি পাওয়া গিয়েছে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

nineteen − 17 =