ধ্বস নামানো ভোটে বিজয়ী বঙ্গবন্ধু দৌহিত্রী টিউলিপ: রাজনীতির দীক্ষাগুরু শেখ হাসিনাকে স্মরণ

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

TULIP Victoryজাতিগত পরিচয় দেখে নয়, সবাইকে নিয়ে সবার জন্য তিনি কাজ করতে চান বঙ্গবন্ধু দৌহিত্রী টিউলিপ সিদ্দিক । লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসনে ধ্বস নামানো ভোটে বিজয় অর্জন করেছেন শেখ রেহানা এবং শফিক সিদ্দিক তনয়া টিউলিপ সিদ্দিক ।

“ আমার খালা শেখ হাসিনার কাছেই রাজনীতির পাঠ নিয়েছি।তাঁর কাছে  সোশ্যাল জাস্টিস শিখলাম। শিখলাম কীভাবে ভোটের প্রচারণা করতে হয় , কী করে  মানুষের কাছে যেতে হয়।  তাই ভোটে বিজয়ী হয়ে আমার খালাকেই সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে । ভোটের ফলাফল জেনে সাথে সাথে সবার আগে খালাকেই  ফোন করেছি;বলেছি খুশির খবরটা।”সেই সঙ্গে মা শেখ রেহানাসহ পরিবারের সদস্যদের এবং স্বামী ক্রিস পার্সির প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিপুল ভোটে বিজয়ী  ব্রিটিশ-বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ টিউলিপ সিদ্দিক। তিনি বলেন, “আমাকে এই সময় আমার মা-বাবা আনেক সাপোর্ট দিয়েছে। পরিবার আর হাজবেন্ডের সাপোর্ট ছাড়া কিন্তু লড়া যায় না।” যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সবার জন্য কাজ করার প্রত্যয় জানিয়েছেন  বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক তাঁর একমাত্র খালা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্মরণ করেন। বৃহস্পতিবার দিনভর ভোট শেষে স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসনের ভোট গণনা কেন্দ্রে ফল ঘোষণার পর লেবার পার্টির প্রার্থী উপস্থিত বাংলাভাষী সাংবাদিকদের বলেন, “আজকে সবচেয়ে মনে পড়ছে আমার খালাকে। কারণ উনি আমাকে সবচেয়ে বেশি শিখিয়েছেন ।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে শেখ রেহানা ও শফিক সিদ্দিকীর মেয়ে টিউলিপ  ১হাজার ১শ’৩৮ ভোটে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনায় অনেক আগে থেকেই ব্রিটিশ গণমাধ্যমের মনোযোগ ছিল এ আসনে ।

টিউলিপ এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে নির্বাচনী মাঠে বাঙালী কমিউনিটি থেকে ব্যাপক মিথ্যা প্রচারণা ছড়ানো হয়েছে ।সেসব লিফলেট নিয়ে লন্ডন পুলিশ তদন্ত করছে । এ ধরণের হীন চর্চা বিদেশের মাটিতে বাঙালী কমিউনিটিকে পিছিয়ে দেবে বললেন টিউলিপ ।তিনি  হতাশ সাংবাদিকদের বলেন, “আমার খুব দুঃখ লেগেছে যখন দেখলাম মানুষ আমাকে নিয়ে নেগেটিভ ক্যাম্পেইন করছে। আমার পরিবার নিয়ে অনেক মিথ্যা কথাও বলেছে। আর ওদের লিফলেট নিয়ে তো এখন পুলিশ রিপোর্টও হয়েছে। যতই নেগেটিভ ক্যাম্পেইন করুক, মানুষ ভোট দেয় পলিসি এবং ক্যারেক্টার দেখে ।”ভবিষ্যতের নির্বাচনে এ বিষয়গুলো সবাই মাথায় রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন টিউলিপ। তিনি আরো বলেন,“আমরা ব্রিটিশ বাঙালি। আমরা সবাই সবাইকে সাপোর্ট করি। খবরে দেখলাম রুশনারা আপাও জিতেছে। আমার খুব ভাল লেগেছে। রূপা আপাও জিতেছে। এখন আমরা তিনজন বাঙালি মেয়ে পার্লামেন্টে। আমরা যদি একসাথে কাজ করি তবে অনেক কিছু করা যাবে আমাদের কমিউনিটির জন্য।” ‘মারামারি কাটাকাটি আর নেগেটিভ ক্যাম্পেইন’ চালিয়ে গেলে প্রবাস জীবনে বাঙালি কমিউনিটি আরও পিছিয়ে পড়বে বলেও টিউলিপ উল্লেখ করেন।

বিজয়ের সংবাদ নিশ্চিত হতেই সাংবাদিকেরা  প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ৩২ বছর বয়সী টিউলিপ বলেন, “আসলে আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না আমি জিতেছি ! দু’বছর ধরে ক্যাম্পেইন করেছি। আমি আমার নিজের এলাকায় এমপি হয়েছি। আমি আমার নিজের এমপি !!এখনও অবাক লাগছে। মানুষের দোয়ায়, মানুষের সাহায্য আজ এই জয় এনে দিয়েছে।” নির্বাচনের পুরো ফল না দেখে লেবার পার্টির পরাজয় নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি টিউলিপ ।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

five − 1 =