নবাবপুরে পুলিশকে কুপিয়ে জখম

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

রাজধানীর নবাবপুরে দিন-দুপুরে জনসম্মুক্ষে পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত মো. আনিসুর রহমান নামে এক এএসআইকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।হামলার নেপথ্যে ব্যক্তিগত বিরোধ নাকি জঙ্গি সংশ্লিষ্ট ঘটনা তা তদন্ত  করছে পুলিশ।  আনিসের চোয়াল, ঘাড় আর গলায় জখম করা হয়েছে। হামলাকারীসহ হামলার সঙ্গে জড়িতদের নাম-পরিচয় শনাক্তের কথা জানা গেলেও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

image_223460.police

গতকাল সকালে বংশালের রহমান ব্রাদার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পাশে আরজু হোটেলের সামনে ঢাকা গলিতে এ ঘটনা ঘটে।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় এএসআই আনিসকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে হৃদরোগ হাসপাতালে প্রেরণ করে চিকিৎসক। খবর পেয়ে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আনিসকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান।
আহত আনিসকে ঢাকা মেডিকেলে দেখে আসার পর ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, একটি হার্ডওয়্যারের দোকানের সামনে অকস্মাৎ ঘটনাটি ঘটেছে। হয়তো কোন মহল পুলিশের ওপর ক্ষিপ্ত থাকায় এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এটি কোন পরিকল্পিত ঘটনা নয়। যেহেতু এএসআই আনিস আহত ও আসামি পলাতক, তাই ঘটনাটি ব্যক্তিগত নাকি পেশাগত, তা বলা যাচ্ছে না। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ডিএমপি কমিশনার ক্ষোভের কারণে এএসআই আনিসকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে বললেও কিসের ক্ষোভ তা তিনি নিশ্চিত করেননি।
লালবাগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মুরাদ আহম্মেদ জানান, ঘটনার সঙ্গে একাধিক দুর্বৃত্ত জড়িত। একজন এসে এএসআই আনিসকে কুপিয়ে জখম করলেও আশপাশে আরও কয়েকজন ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মূল হামলাকারীসহ কারা কারা এ হামলার নেপথ্যে জড়িত ছিল তাদের নাম পরিচয়ও শনাক্ত হয়েছে। তবে গতকাল রাত পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার করা যায়নি। তিনি আরও জানান, জড়িতদের গ্রেফতারের পর হামলার মূল কারণ জানা যাবে। আহত এএসআই অনিসও অসুস্থ থাকায় এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলা যায়নি। আনিসের সঙ্গে কথা বলতে পারলে হামলার কারণ সম্পর্কে কিছুটা পরিষ্কার হওয়া যেতো। তিনি আরও জানান, হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক ইউনিট বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে। গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোরও সহয়তা নেয়া হচ্ছে।
বংশাল থানার এসআই এমদাদুল সাংবাদিকদের জানায়, এএসআই আনিস বংশালের নবাবপুর রোডে পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত। প্রতিদিনের মতো গতকাল সকালে নবাবপুর রোডে ডিউটিতে যায়। ডিউটি করার সময় পৌনে ৯টার দিকে ১৭৭ নবাবপুর রোডের কদমআলী লেনের স্থানীয় পাইপ ব্যবসায়ী খোকা এএসআই আনিসকে ছুরিকাঘাত করে। পাইপ ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার মুখে ও গলার বাম পাশে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে এএসআই আনিসের অবস্থার অবনতি হয়।
এদিকে এই ঘটনায় ওখানকার অন্যান্য ব্যবসায়ীরা মুখ খুলতে রাজি হননি। খোকার সঙ্গে এএসআই’র কি নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছিল তা কারও জানা নেই বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য। ঢামেক সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টার দিকে আনিসকে ঢামেকে ভর্তি করা হয়। এ সময় তিনি পোশাক পরিহিত ছিলেন। রক্তে তার সারা শরীর ভিজে গেছে। তার মুখের বাঁ পাশে, ঘাড়ে ও চোয়ালে ছুরিকাঘাতের ৫টি চিহ্ন পাওয়া গেছে। ছুরিকাঘাতে তার গলার একটি রগ কেটে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে সেখান থেকে আনিসকে হৃদরোগ হাসপাতালে প্রেরণ করে ঢামেক চিকিৎসক।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 × one =