না’গঞ্জ ৭ খুন: ২ মামলার চার্জ গঠিত, সাক্ষ্য শুরু ২৫ ফেব্রুয়ারি

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

নারায়ণগঞ্জের বহুলালোচিত সাত খুনের দুটি মামলায় ৩৫ আসামির বিরুদ্ধে আজ সোমবার অভিযোগ গঠন করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, আদালত দুটি মামলার চার্জ গঠন করেছে এবং আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।

আলোচ্য দুটি মামলায় প্রধান আসামি নূর হোসেন এবং র‌্যাবের চাকরিচ্যুত তিন কর্মকর্তা তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন ও এম. এম. রানাসহ গ্রেফতারকৃত ২৩ জন আসামিকে আজ সকালে কঠোর নিরাপত্তায় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। আসামিরা দোষী না নির্দোষ তা আদালত  জানতে চাইলে, তারা নিজেদেরকে নির্দোষ বলে দাবি করে।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে এঁদের মধ্যেকার ৬ জনের এবং ১ মে বাকি একজনের লাশ পুলিশ উদ্ধার করে।

সাতখুনের ঘটনায় নিহত কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল পৃথকভাবে মামলা দুটি দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছর পর ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের আদালতে ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মামনুর রশিদ মণ্ডল।

অভিযুক্তদের মধ্যে ইতিমধ্যে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নূর হোসেন ছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া বাকিরা হল: সামরিক বাহিনী থেকে বরখাস্ত তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, এম. এম. রানা ও আরিফ হোসেন, র‌্যাব সদস্য এসআই পূর্ণেন্দু বালা, এএসআই  বজলুর রহমান ও আবুল কালাম আজাদ, হাবিলদার এমদাদুল হক ও নাসির উদ্দিন, কনস্টেবল শিহাব উদ্দিন ও বাবুল হাসান, আরওজি-১ আরিফ হোসেন, ল্যান্সনায়েক হীরা মিয়া, বেলাল হোসেন, ল্যান্স কর্পোরাল রুহুল আমিন, সিপাহী আবু তৈয়ব, নুরুজ্জামান ও আসাদুজ্জামান নূর এবং নূর হোসেনের সহযোগী মোর্তুজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান দীপু, রহম আলী ও আবুল বাশার।

অভিযুক্ত বাকি ১২ জন এখনো পলাতক। এরা হল: র‍্যাব সার্জেন্ট এনামুল কবীর, এএসআই কামাল হোসেন, কর্পোরাল মোখলেছুর রহমান, সৈনিক আব্দুল আলিম, মহিউদ্দিন মুন্সী, আল আমিন শরীফ, তাজুল ইসলাম ও কনস্টেবল হাবিবুর রহমান।

হত্যার দায় স্বীকার করে ইতিমধ্যে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে র‌্যাবের ১৭ জনসহ ২২ জন। এ ছাড়া ঘটনার সাক্ষী হিসেবে র‌্যাব সদস্যসহ আরো ১৭ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

17 + 13 =