নারীর সম্মতি ছাড়া তাঁর শরীর স্পর্শ নয়: ‌দিল্লি আদালত

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

‘‌মেয়েদের সম্মতি ছাড়া কেউ তাঁকে স্পর্শ করতে পারবে না’‌, জানিয়ে দিল আদালত। দিল্লি কোর্ট জানায়, মেয়েরা ক্রমাগত কিছু ‘‌লম্পট ও যৌন–বিকৃতকাম’‌ মানুষের লালসার শিকার হচ্ছে।
ন’‌বছরের শিশুকে যৌন হেনস্থা করার অভিযোগে রাম নামে এক অভিযুক্তকে পাঁচ বছরের সাজা ঘোষণা করার সময়ই দিল্লি আদালত এই মন্তব্য করে। অতিরিক্ত নগর দায়রা বিচারক সীমা মাইনি উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা ছাপবি রামকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। ২০১৪ সালে অভিযুক্ত ন’‌বছরের শিশুকে উত্তর দিল্লির মুর্খাজি নগরে ভিড়ে ঠাসা রাস্তায় অশালীনভাবে স্পর্শ করে। আদালত জানায়, নারীদের শরীর তাঁর নিজের এবং তাঁর ওপর একমাত্র অধিকার শুধুমাত্র নারীদেরই রয়েছে। সম্মতি ছাড়া নারীর শরীরে স্পর্শ করা মোটেও ঠিক নয়, কারণ যাইহোক না কেন।

আদালত আরও জানায়, নারীদের গোপনীয়তার অধিকার কখনই কোনও পুরুষ দ্বারা স্বীকৃতি লাভ করে না এবং নারীদেরকে ব্যবহার করে পুরুষরা তাঁদের অপ্রত্যাশিত ইচ্ছা–যৌন লালসা মেটানোর চিন্তাভাবনা দ্বিতীয়বারের জন্য মাথায় আনবে না।
আদালত অত্যন্ত ক্ষোভের স্বরে বলেন, ‘‌এ ধরনের বিকৃতমনস্ক মানুষ মহিলাদের সঙ্গে সহবাস করতেই ভালবাসে। এমনকী তারা শিশুকন্যাদেরও রেহাই দেয় না।’‌ আদালত জানায়, অভিযুক্ত ছাবি রাম এরকমই একজন ‘‌যৌন বিকৃতকাম’‌ চরিত্রের মানু্ষ। তার প্রতি কোনও ধরনের উদার মানসিকতা দেখানোর প্রয়োজন নেই এবং তার সাজার পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হোক। যার মধ্যে ৫ হাজার টাকা আক্রান্ত শিশুকে দেওয়া হবে। এছাড়াও দিল্লি আদালত রাজ্যের প্রশাসনিক দপ্তরকে নির্দেশ দেয় আক্রান্ত শিশুকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য। আদালত বলে, ‘‌সবদিক দিয়ে স্বাধীন, দ্রুত উন্নয়নশীল, প্রযুক্তিগত দিক থেকে এগিয়ে ভারতের মত দেশে এ ধরনের দৃশ্য দেখতে হচ্ছে। মহিলা নাগরিক তা তিনি প্রাপ্তবয়স্কই হোক আর শিশুই হোক, ক্রমাগত তারা কিছু বিকৃতকাম ব্যক্তিদের শিকার হচ্ছে। জনবহুল রাস্তাই হোক আর নির্জন স্থানই হোক মেয়েরা প্রতিদিনই কোনও না কোনওভাবে যৌন লালসার শিকার হচ্ছে।’‌

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 × five =