নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ৯ দফা বাস্তবায়নের আশ্বাস

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail
 
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো – ১. বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো ড্রাইভারকে ফাঁসি দিতে হবে এবং এই বিধান সংবিধানে সংযোজন করতে হবে। ২. নৌপরিবহন মন্ত্রীর  বক্তব্য প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। ৩. ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল বন্ধ ও লাইসেন্স ছাড়া চালকরা গাড়ি চালাতে পারবেন না। ৪. বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া যাবে না। ৫. শিক্ষার্থীদের চলাচলে এমইএস ফুটওভারব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৬. প্রত্যেক সড়কে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্পিডব্রেকার দিতে হবে। ৭. সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্রছাত্রীদের দায়ভার সরকারকে নিতে হবে। ৮. শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে থামিয়ে তাদের নিতে হবে। ৯. শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
বাস দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর সমালোচনার মুখে থাকা নৌমন্ত্রী ও পরিবহন শ্রমিক নেতা শাজাহান খান নিহত দিয়া খানম মিমের বাসায় গিয়ে তার পরিবারকে সান্ত্বনা জানিয়েছেন। দিয়ার বাবা-মাকে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি শাজাহান খান বলেছেন, “আমি হয়ত হেসে কথা বলেছি বলে আপনারা কষ্ট পেয়েছেন। আমি অন্য একটি কথা বলেছিলাম, কিন্তু এ্যাক্সিডেন্টের বিষয়টিতে কথা হচ্ছে আমি জানতাম না। এর জন্য আমি দুঃখিত, আমাকে আপনারা ক্ষমা করে দেন।”
দুই শিক্ষার্থীকে চাপা দেওয়া ওই বাসের চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, গ্রেপ্তার করা হয়েছে জাবালে নূর পরিবহনের মালিককেও। মামলায় দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর সঙ্গে অপরাধজনিত হত্যার ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এখন বিচার প্রক্রিয়াটি আদালতের উপর নির্ভর করছে। আইনমন্ত্রী বলেছেন, দ্রুত বিচার করে দোষীদের সাজা দেওয়া হবে।
সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর জন্য অবহেলাকারী চালকের শাস্তির মাত্রা বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সড়ক  পরিবহন আইন প্রণয়নে গতি এসেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, “সড়ক দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে নতুন আইন শিগগিরই সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কার্যালয়ে ডেকে নেন নিহত দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম রাজীবের পরিবারকে। তাদের ২০ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি সড়কে নিরাপত্তায় নানা নির্দেশনার কথা তুলে ধরেন।দিয়া ও করিমের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী সব স্কুলের সামনে গতিরোধক স্থাপনের নির্দেশ দেন বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানিয়েছেন।রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীদের ৯টি দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করে বলেন, এসব দাবি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, “কোনো স্কুল-কলেজের পাশে রাস্তা থাকলে সেখানে ট্রাফিক পুলিশ থাকবে এবং শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপারে সহযোগিতা করবে।”স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “যান্ত্রিক ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি যাতে রাস্তায় উঠতে না পারে, সেজন্য গাড়ির যাত্রার পয়েন্টে অর্থাৎ টার্মিনালে চেকপোস্ট বসিয়ে দেব, যাতে গাড়িটি বের হওয়া সঙ্গে সঙ্গে প্রথমেই যেন ধরা পড়ে যে গাড়ির ফিটনেস আছে কি না, রেজিস্ট্রেশন ও চালকের লাইসেন্স সঠিক আছে কি না। তারপরও চালক গাড়িটি নিয়ে বের হলে আমরা সে ব্যবস্থাও নিচ্ছি।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুই-একটি দাবি পূরণে সময় চেয়ে বলেছেন, “দুই-একটি দাবি পূরণে সময় লাগবে, যেমন ফুটওভার ব্রিজ কিংবা আন্ডারপাস।”

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরুর পর ঢাকার সড়কে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের ধরতে বিআরটিএকে নির্দেশনা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। জাবালে নূর পরিবহনের বাস দুটির নিবন্ধনও বাতিল করে বিআরটিএ।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সড়ক পরিবহন আইন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী কেবিনেট মিটিংয়ে আসবে । অ্যাপ্রুভ হওয়ার পর সংসদে যাবে এবং আশা করছি, এ আইনটি পাস হবে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

10 − 3 =