নির্যাতনের শিকার সৌদী ফেরত নারীদের চাকরি দেবে এলএফএমইএবি

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজে গিয়ে  অবর্ণনীয় নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন  লক্ষ লক্ষ নারী। সামান্য স্বচ্ছলতার স্বপ্ন তাদের  দুঃস্বপ্নে  পরিণত হয়েছে। শারিরিক, মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে শুধু প্রাণটা নিয়ে দেশে ফেরেন তারা। দেশে ফিরে অনেকে ই পরিবার থেকে পরিত্যক্ত হয়েছেন।

সেসব দুঃস্বপ্নের রাত শেষ হয়ে নতুন ভোর আসতে যাচ্ছে তাদের জীবনে। সর্বহারা এ নারীদের চাকরি দেবে লেদার-গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশে (এলএফএমইএবি)।

সোমবার এলএফএমইএবি এ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই হয় ব্র্যাক মাইগ্রেশনের সঙ্গে। মহাখালীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২২ জন নারীকে এক লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। প্রশিক্ষনের মাধ্যমে চাকরি দেওয়া হবে সৌদি থেকে দেশে ফেরা ৫০ নির্যাতিত নারীকে।

গত তিন বছরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন প্রায় চার হাজার নারী। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ফিরেছেন আরো পাঁচ শতাধিক। তাদের অনেকই ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। কয়েকজন ধর্ষণে গর্ভবতী হয়ে পড়েন। নির্যাতনে কারো পা ভেঙেছে, কারো ভেঙেছে হাত। অনেকেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন।

গত সাড়ে তিন বছরে পৌনে দুই লাখ নারী বাংলাদেশ থেকে গৃহকর্মীর কাজে সৌদি আরব গিয়ে নারী নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরলেও কোন রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বরং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা  বলেছেন, চাকরি পাওয়া নারীর তুলনায় নির্যাতিত মেয়ের সংখ্যা নগন্য।

তবে ব্র্যাকের ’সমঝোতা সই’ অনুষ্ঠানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন, বাংলাদেশি নারীদের কেন গৃহকর্মী হিসেবে বিদেশে পাঠাতে হবে, যেখানে তারা নিরাপদ নন? তিনি  প্রশ্ন করেন, বিদেশফেরত নারীদের আর কত কান্না শুনব? মধ্যপ্রাচ্যে নারীরা শারীরিক, মানসিক এবং যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা যখন নারী কর্মী পাঠানো কমিয়ে দিচ্ছে, বাংলাদেশ কেন পাঠাচ্ছে?

কাজী রিয়াজুল হক বলেন, মানুষ পণ্য নয়। প্রত্যেক মানুষের মানবাধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। নারী কর্মী পাঠানোর আগে অবশ্যই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরা নারীদের পাশে দাঁড়াতে সরকারসহ সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, যেসব নারী বিদেশে কাজ করতে যান তাদের অধিকাংশ দরিদ্র। ভাগ্যবদলের আশায় বিদেশে যাওয়া এই নারীদের অনেকেই শূন্য হাতে ফেরত আসছেন। তাদের শরীরে নির্যাতনের ক্ষত। বিমানবন্দর থেকে বাড়ি যাওয়ার টাকাও নেই তাদের কাছে। দেশে ফিরে সমাজে পরিবারে তাদের ঠাঁই হচ্ছে না। অথচ তারা যখন বিদেশ থেকে টাকা পাঠান তা সবাই গ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের পরিচালক কে এম মোরশেদ। তিনি বলেন, কেউ যদি বলে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি নারীদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে না, তাহলে তারা অসত্য বলছেন। আর এত নির্যাতনের পরেও কেন নারীদের গৃহকর্মীর কাজে পাঠাচ্ছে তা খতিয়ে দেখা উচিত।

এলএফএমইএবি’র প্রেসিডেন্ট সায়ফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ এখন মধ্য আয়ের দেশ। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশের নারীরা বিদেশে গৃহকর্মীর কাজে গিয়ে কেন নির্যাতিত হবে? তারা যেন সম্মান নিয়ে বাঁচতে পারে সেজন্য অন্য খাতের ব্যবসায়ীদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 4 =