নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভেঙে ফেলা হচ্ছে জমিদার ঋষিকেষ দাসের বাড়ি

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পুরান ঢাকার ঋষিকেষ দাস রোডের শত বছরের পুরনো বাড়িটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। প্রায় ৯ কাঠা জমির উপর নির্মিত ঐতিহ্যবাহী বাড়িটি ভাঙা শুরু হওয়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রাও।

গত ১১ মার্চ বাড়িটি ভাঙা শুরু হলে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরপর ১৮ মার্চ আদালত বাড়িটি ভাঙার উপর ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা দিলে কয়েকদিন ভাঙার কাজ বন্ধ ছিল। কিন্তু গত বুধবার বাড়িটির সামনের একটি বড় অংশ নতুন করে ভাঙাতে দেখা যায়। এলাকাবাসী জানান, মঙ্গল ও বুধবার রাতে ভবনটিতে ভাঙার কাজ চলে।

বাড়িটির ভাঙা বন্ধ এবং এটি আগের রূপে সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণের আন্দোলনকর্মীরা। এ প্রসঙ্গে হেরিটেজ নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা আরবান স্টাডি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী তৈমুর ইসলাম বলেন, ‘বাড়িটি ভাঙার কাজ শুরু হওয়ার পর আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করি। আদালতে রিট আবেদন করার পর ভাঙার কাজের উপর ৬ মাসের স্থগিতাদেশ দেয়া হয়। এরপরও বাড়িটি ফের ভাঙা হচ্ছে। এটি স্পষ্ট আদালতের নির্দেশনার অবমাননা। এ বিষয়ে আমরা ফের আদালতে যাব।’

অন্তত ১০০ বছর আগে নিউ ক্ল্যাসিকাল স্থাপত্যরীতিতে পুরান ঢাকায় বাড়িটি নির্মিত হয়। জনশ্রুতি আছে, জমিদার ঋষিকেষ দাস এটি নির্মাণ করেছিলেন। তবে ঐতিহাসিক সূত্রে এর সত্যমিথ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ২০০৯ সালে তৈরি রাজউকের হেরিটেজভুক্ত ভবন-স্থাপনার তালিকায় ছিল ঋষিকেষ দাস রোডের ৪১, ৪১/১, ৪১/২, ৪২/১, ৪২/২ এবং ৪৩ হোল্ডিং নম্বরের বাড়িটি। স্থাপত্য গুরুত্ব বিবেচনায় এটিকে হেরিটেজভুক্ত করে সরকার। তবে ২০১৭ সালের নভেম্বরে প্রণীত সর্বশেষ হেরিটেজ তালিকা থেকে এটিকে বাদ দেয়া হয়। ওই তালিকাকে ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ বলে দাবি করে আসছেন স্থাপত্যবিদ ও ইতিহাসবিদরা।

হেরিটেজ তালিকা থেকে বাদ দেয়ার পরই বাড়িটি ভাঙার উদ্যোগ নেন এর মালিক মির্জা আসিফুর রহমানসহ অন্যরা। এটি ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণ করতে একটি ডেভেলপার কোম্পানিকে নিয়োগ দেয় মালিকপক্ষ। ভাঙার কাজ শুরু হলে এর বিরুদ্ধে গত ১৮ মার্চ হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন আরবান স্টাডি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী তৈমুর ইসলাম। বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মোহাম্মদ ইকবাল কবিরের যৌথ বেঞ্চ ভবনটি ভাঙার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়। রিটে গণপূর্ত ও গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের  মহাপরিচালক, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), রাজউকের সচিব, সূত্রপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ভবনে অবস্থানরতরাসহ দশজনকে বিবাদী করা হয়। রিটের পক্ষে শুনানি করেন এএফ হাসান আরিফ এবং এডভোকেট আশিক আল জলিল।

শনিবার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ভাঙার কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে ভাঙার চিহ্ন হিসেবে বিচ্ছিন্নভাবে ইট-সুরকি ছড়িয়ে রয়েছে। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, স্বপ্নীল রয়াল ক্যাসেল নামে একটি ডেভেলপার কোম্পানি এটি ভাঙছে। সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আশরাফ উদ্দিন বলেন, বাড়িটি এখন আর হেরিটেজভুক্ত নয়। তাই শুরুতে ভাঙার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তবে আদালতের নির্দেশনার পর বাড়ির মালিকদেরকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এরপর আর ভাঙা হয়নি। আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও ভাঙা হয়েছে জানানো হলে তিনি বলেন, ‘না, তেমন কিছু হয়নি’।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

three + 16 =