নীরব শুনশান রাস্তাঘাট, ৭০ জন জঙ্গি স্থানান্তর, ঈদে বাড়ি ফেরা কাশ্মীরিদের জন্য হেল্পলাইন

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কেন্দ্রীয় শাসন চালু হওয়ার পর থেকে থমথমে গোটা কাশ্মীর। শ্রীনগরের ব্যস্ত রাস্তাঘাট বৃহস্পতিবারও ছিল শুনশান। খোলেনি দোকানপাট। কার্ফু জারি থাকায় কেউ বাড়ির বাইরে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। মোবাইল, ইন্টারনেট, ল্যান্ডফোন সহ সব যোগাযোগের সমস্ত পথই বন্ধ। তবে নির্দিষ্ট কিছু ল্যান্ডফোন, মোবাইল কাজ করলেও বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা। রাস্তায় নেই যানবাহন। কেউ গাড়ি নিয়ে বেরলে তাঁকে সেনা আটকাচ্ছে।

তবে রাতের দিকে নিরাপত্তা কম। রাত ১০টার পর অনেকে বেরচ্ছেন। এদিন দুপুরে এক দম্পতি গাড়ি নিয়ে শ্রীনগর থেকে বারামুলায় তাঁদের সন্তানের দেখা করতে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে ছিলেন। কিন্তু শ্রীনগর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে নরবাল রোডে তাঁদের গাড়িটিকে আটকায় নিরাপত্তারক্ষীরা। বহুবার অনুরোধের পরও তাঁদের গাড়িটিকে ছাড়েনি নিরাপত্তা বাহিনী। অবশেষে একটি অ্যাম্বুলেন্স জোগাড় করে তাঁরা উত্তর কাশ্মীর পর্যন্ত যান। মহম্মদ রমজান নামে এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাওয়া যায়নি কোনও অ্যাম্বুলেন্স। অবশেষে নিরাপত্তারক্ষীদের গাড়িতে করে তাঁকে বিমিনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

রবিবার রাতে শ্রীনগরের লাল বাজারের এক বাসিন্দা বদগাঁওয়ে তাঁর মেয়ে বিপদে পড়েছে বলে জানতে পারেন। পরদিন সকালে শ্রীনগর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে বদগাঁও যাওয়ার চেষ্টা করেন ওই ব্যক্তি। প্রায় ১২ কিলোমিটার হেঁটে যাওয়ার পর একটি শেয়ার গাড়ি করে গন্তব্যে যান। বাসিন্দাদের একটাই কথা, আর কতক্ষণ ঘরে থাকা যায়? টান পড়তে শুরু করেছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের। রিয়াজ হায়দার থাকেন শ্রীনগর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরের একটি গ্রামে। রাস্তায় যানবাহন না থাকায় তাঁকে প্রতিদিনই হেঁটে এসে সিভিল লাইন্স এলাকায় ওষুধের দোকান খুলতে হচ্ছে। এদিকে কার্গিল, দ্রাস ও শাঙ্কু শহরে বড় জমায়েতে উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

এদিন সকাল পাঁচটা থেকে চার থেকে পাঁচজনের বেশি জমায়েতের উপর নির্দেশিকা জারি হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই সব এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকবে বলে জানিয়ে দিয়েছে কার্গিলের জেলা প্রশাসন। কেন্দ্র ৩৭০ ধারার কাশ্মীরের বিশেষ অধিকার খারিজের পর থেকে নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ছাড়া বড় কোনও গোলমালের খবর এখনও পর্যন্ত নেই। তবে জম্মুতে এদিন বেশকিছু দোকানপাট খোলা ছিল।

এদিকে ঈদ জম্মু-কাশ্মীরের বাইরে থাকা নাগরিকদের সহায়তায় দু’টি হেল্পলাইন চালু করেছে শ্রীনগরের জেলা প্রশাসন। ঈদের সময় যাঁরা বাড়ি ফিরতে চান তাঁরা ৯৪১৯০২৮২৪২ এবং ৯৪১৯০২৮২৫১ এই দু’টি নম্বরে ফোন করলে তাঁদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জেলা শাসক শাহিদ চৌধুরী ট্যুইটারে জানিয়েছেন।

এছাড়াও ট্রেনে অতিরিক্ত কামরা ও বাসের ব্যবস্থাও করা হয়েছে প্রশাসনের তরফে। এদিকে জম্মু-কাশ্মীরের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন গভর্নর সত্যপাল মালিক। শুক্রবারের নামাজ ও চলতি সপ্তাহে ঈদের উৎসব পালন নিয়ে হয় ওই বৈঠক হয়। রাজ্যপাল পরে বলেন, উপত্যকায় বিভিন্ন স্থান থেকে ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটা করতে পারবেন সাধারণ মানুষ। এদিনের বৈঠকে রাজ্যপালের উপদেষ্টা কে বিজয় কুমার, কে স্কন্দন এবং মুখ্য সচিব বিভিআর সুব্রহ্মণ্যম উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে জম্মু-কাশ্মীরের সমস্ত সরকারি কর্মীদের অবিলম্বে কাজ যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব। জানা গিয়েছে, সাম্বার বেসরকারি স্কুলগুলিকেও শুক্রবার থেকে খুলতে বলা হয়েছে। এদিকে, সূত্রের খবর, জম্মু-কাশ্মীরে গত কয়েকদিনে ৪০০ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে কট্টর জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদীরাও রয়েছে। জানা গিয়েছে, এমন ৭০ জন জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদীকে বিমান বাহিনীর তদারকিতে বিমানে আগ্রায় নিয়ে আসা হচ্ছে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

eighteen + 19 =