পাকিস্তানকে খুশি করাই ছিল জিয়া-এরশাদ-খালেদার এজেন্ডা:গণহত্যাকারীদের বিচার চলবেই -প্রধানমন্ত্রী

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

”একাত্তরের ২৫ মার্চ অতি অল্প সময়ে এত বেশি মানুষ হত্যার নজির বিশ্বে আর কোথাও নেই। তবে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন। কারণ তিনি নিজেই একজন খুনি, আগুনে পুড়িয়ে তিনি মানুষ হত্যা করেছেন। তার স্বামী জিয়াউর রহমানও ক্ষমতায় গিয়ে মানুষ খুন করেছেন “ -বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

গত বছরের নভেম্বরে জাতীয় সংসদে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একাত্তরের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নিহতদের স্মরণে ‘গণহত্যা দিবস’ পালন করছে আওয়ামী লীগ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একাত্তরের এই গণহত্যার প্রতিশোধ তখনই নেওয়া সম্ভব হবে যখন বাংলাদেশ ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশে পরিণত হবে। ওই হত্যা ও ধর্ষণের সহযোগী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, গণহত্যাকারীদের বিচার চলছে, চলবেই। তাদের মদদদানকারীরা সমান ঘৃণার পাত্র- এটা জাতিকে ভুলে গেলে চলবে না। এই মদদদানকারীদের শাস্তিও জাতিকে দিতে হবে। সেটা যদি দেওয়া না যায় তাহলে বাঙালি জাতির অস্তিত্ব থাকবে না।

স্বাধীন বাংলাদেশে বসে যারা পাকিস্তানের প্রতি অনুরাগ প্রদর্শন করছেন তাদের শাস্তি দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পাকি প্রেমে যারা হাবুডুবু খেয়েছে; তাদেরও উপযুক্ত জবাব বাংলার মানুষকে দিতে হবে। তাদেরও শাস্তি দিতে হবে। তাদের পাকি প্রেম ভুলিয়ে দিতে হবে। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকতে জাতীয় প্রচার মাধ্যমগুলোতে ‘পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী’ না বলে শুধু ‘হানাদার বাহিনী’ বলা হতো বলেও স্মরণ করিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে হত্যার পর জিয়া-এরশাদ-খালেদা সবাই পাকিস্তানকে খুশি করার চেষ্টা চালিয়েছে ।

প্রধানমন্ত্রী জাতিকে স্মরণ করিয়ে দেন, জাতির জনককে হত্যার পর রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে শাসক সরকারগুলো ২৫ মার্চ সংঘটিত গণহত্যার বিষয়ে কোনো নজরই দেয়নি। ফলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, যেন ওই দিন কিছুই ঘটেনি। জাতিকে তারা এই দিনটি ভুলিয়ে রাখার অপচেষ্টা করেছিল। তিনি বলেন, অথচ এই গণহত্যার সংবাদ তৎকালীন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আর তাদের দোসর আল-বদর, আল-শামস আর রাজাকাররা এই গণহত্যায় হাত মিলিয়েছিল। এদের মদদদাতারাও সমান দোষী।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বন্দি অবস্থার স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, গণহত্যার রাতে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানি আর্মিরা আগে আক্রমণ করে। ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে আক্রমণ করে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা সেই সময়ের সব প্রচার মাধ্যমে উঠে এসেছিল। এত অল্প সময়ের মধ্যে এত মানুষ হত্যা, এ রকম গণহত্যা আর কোনো দেশে ঘটেনি। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও এই গণহত্যা উঠে এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর যারা ক্ষমতাসীন হয়েছিল, তাদের কেউই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন চায়নি। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর এজেন্ডা অন্যভাবে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছিল তারা। এদেশ ব্যর্থ হলে পাকিস্তান খুশি হবে। আর পাকিস্তানকে খুশি করাই ছিল জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়ার এজেন্ডা।

তিনি বলেন, পঁচাত্তরের পরের সরকারগুলো যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী, এমপি এবং মন্ত্রী মর্যাদায় উপদেষ্টা বানিয়েছে। জিয়া ক্ষমতা দখল করে গোলাম আযমকে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন। পাকিস্তানের পাসপোর্ট নিয়েই গোলাম আযম দেশে এসেছিলেন।

শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কর্নেল (অব.) সাজ্জাদ জহির বীরপ্রতীক, নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন এমপি, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা সাদেক খান ও শাহে আলম মুরাদ। সভা পরিচালনা করেন ড. হাছান মাহমুদ এমপি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে আমির হোসেন আমু চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, জিয়াউর রহমান সেক্টর বা সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে কোনো যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন এমন কোনো প্রমাণ নেই। বরং সোয়াত জাহাজে করে আনা পাকিস্তানিদের অস্ত্র খালাসে গিয়েছিলেন একমাত্র বাঙালি অফিসার জিয়া। তিনি বলেন, দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতেই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। এই ষড়যন্ত্র এখনও শেষ হয়ে যায়নি।

‘বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্র চলছে’- জার্মান সংস্থার এমন জরিপকে ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, জাতি যখন উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আনন্দে আন্দোলিত, তখনই ষড়যন্ত্র করে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

জার্মান সংস্থার ওই প্রতিবেদনের সমালোচনা করে মতিয়া চৌধুরী বলেন, তিন পয়সার এই জরিপে (থ্রি পেনি অপেরা) কোনো কাজ হবে না। অতীতেও এমন জরিপ অনেক দেখা গেছে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

10 − 1 =