’পাকিস্তানের গণতন্ত্র সেনাবাহিনীর সার্কাস-ইমরান খান সেই সার্কাসের ক্লাউন’: ফাতিমা ভুট্টো

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পাকিস্তানের প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য ফাতিমা ভুট্টো বলেছেন, পাকিস্তানের গণতন্ত্র এখন সার্কাসে পরিণত হয়েছে। আর এই সার্কাসের আয়োজক দেশটির সেনাবাহিনী। ইমরান খান সেই সার্কাসের একজন খেলোয়াড় মাত্র, আর কিছু নন।

পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন হয়েছে গত বুধবার । দেশটির নির্বাচন কমিশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা গেছে, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের তুলনায় বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। গত বৃহস্পতিবার দেওয়া এক ভাষণে সরকার গঠনের ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন পিটিআই চেয়ারম্যান। তবে নিন্দুকেরা বলছেন, সেনাবাহিনীর অকুণ্ঠ সমর্থনেই ইমরান খানের এই অভাবনীয় সাফল্য।

সাধারণ নির্বাচনে ভোটের এক দিন আগে দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার মতামত বিভাগে ফাতিমা ভুট্টোর একটি কলাম প্রকাশিত হয়েছে। পাকিস্তানের প্রথম নির্বাচিত সরকারপ্রধান জুলফিকার আলী ভুট্টোর নাতনি ফাতিমা। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নিলেও এখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হননি তিনি।

ফাতিমা ভুট্টো লিখেছেন, ‘আমাদের সার্কাসে শক্তিমান রিংমাস্টার আছে, আছে খাঁচায় আটকা সিংহ। এমনকি প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতাও এতে যোগ হয়েছে। এই সার্কাস শেষ হওয়ার আগে শুরু হয়েছে শেষ পারফরম্যান্স। এতে আবির্ভূত হয়েছে ক্লাউন। সাবেক ক্রিকেট তারকা ইমরান খানের রাজনৈতিক রেকর্ড শুধুই সুবিধাবাদ ও আনুগত্যের।’

২০০৬ সালের একটি ঘটনার সূত্র টেনেছেন ফাতিমা ভুট্টো। তাঁর কথায়, ওই সময় দেশের নারীদের সুরক্ষাসংক্রান্ত একটি বিলের বিরোধিতা করেছিলেন ইমরান খান। বিয়ের আগে যৌনতা বা ব্যভিচারের বিচারে নারীদের কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান সংস্কারের প্রস্তাব ছিল বিলে। আইনটির কারণে ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীদেরই কারাগারে যেতে হতো, ধর্ষকদের নয়। অথচ এই আইন সংস্কারের বিরোধিতা করেছিলেন ইমরান খান।

ফাতিমার দাবি, পাকিস্তানের ব্লাসফেমি আইনের একজন সমর্থক পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান। জাতীয় বাজেটে সেনাবাহিনীর জন্য বরাদ্দ করা অর্থে হাত না দেওয়ার পক্ষে এই সাবেক ক্রিকেট তারকা। নারীবাদের কট্টর বিরোধী ইমরান। এ ছাড়া জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গেও রয়েছে তাঁর দহরম-মহরম।

পিটিআই গঠনের ইতিহাস টেনে ফাতিমা লিখেছেন, দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সুতো ধরে দলটি গঠিত হলেও বিভিন্ন সময় অন্যান্য রাজনৈতিক দলের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের নিজেদের ঘরে ভিড়িয়েছে এটি। পাকিস্তান পিপলস পার্টি ও পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ)—এই দুই দল থেকেই দুর্নীতিগ্রস্ত নেতারা পিটিআইয়ে  যোগ দিয়েছেন।

পাকিস্তানের নির্বাচন ঘিরে কয়েক দফা আত্মঘাতী হামলা চালানোর কথা উল্লেখ করে ফাতিমা ভুট্টো লিখেছেন, ‘পিটিআই-সমর্থকেরা বর্বরতার একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড।’ কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের বর্তমান পরিস্থিতি মাথায় রেখে ইমরানকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন জুলফিকার আলী ভুট্টোর এই নাতনি। তিনি বলেছেন, যারা আজ ইমরানকে সমর্থন দিচ্ছে, সেই সেনাবাহিনীই একসময় নওয়াজের ঘাড়ে সওয়ার হয়েছিল এবং এখন তাঁকে বন্দী করেছে।

ফাতিমা লিখেছেন, নির্বাচনের আগে পিটিআই-সমর্থকেরা প্রকাশ্যে একটি বানরকে বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে। কারণ, পিএমএল-এন নেতাদের বানরের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন ইমরান! এ ঘটনার উল্লেখ করে ফাতিমা ভুট্টো প্রশ্ন তুলেছেন, ‘তাহলে ভেবে দেখুন, এই রাজনৈতিক দল বিজয়ী হওয়ার পর কেমন আচরণ করবে?’

তাঁর মতে, শুধু শক্তিমানের সামনেই মাথা নত করেন ইমরান খান।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

eight + 14 =