পাঠানকোট হামলা পাক-ভারত আলোচনা ব্যাহত করেছে: শরিফের স্বীকারোক্তি

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পাঠানকোটে ভারতীয় বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে জঙ্গি হামলায় ভারত ও পাকিস্তানের পারস্পরিক আলোচনা প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন পাক প্রধান মন্ত্রী নওয়াজ শরিফ।

ওই জঙ্গি হামলার পর দুদেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক পিছিয়ে গেলেও তা পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। এ অবস্থায় আজ রোববার শরিফের বক্তব্যে হতাশাই ফুটে ওঠে।

তিনি বলেন, “ভারত–পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনা প্রক্রিয়া ভালোই এগোচ্ছিল। পাঠানকোট হামলা এতে বিঘ্ন ঘটাল। তবে এ হামলার তদন্ত শিগগিরই শেষ করবে পাকিস্তান। আমাদের দেশেই যদি এ হামলার ষড়যন্ত্র হয়ে থাকে, তা হলে দোষীদের খুঁজে বের করা আমাদের কর্তব্য।“

এ হামলায় জইশ–এ–মোহাম্মদের হাত রয়েছে কিনা প্রশ্ন করা হলে নওয়াজ শরিফ বলেন, তদন্তকারীরা অভিযোগটি খতিয়ে দেখছেন, এবং তদন্ত শেষ হলে এর প্রতিবেদন প্রকাশ করবে পাকিস্তান সরকার।

দিন দুয়েক আগে ভারতে নিযুক্ত পাক রাষ্ট্রদূত আবদুল বাসিত বলেছিলেন, দু-দেশের বিদেশ সচিবদের বৈঠক পিছিয়ে গেলেও, তা যে পুরোপুরি বাদ পড়ে যায়নি তাতেই তাঁরা আশাবাদী।

তিনি বলেন, ২৬/১১’র পর অনেক ভুল হয়েছে, তবে পাঠানকোটের ক্ষেত্রে যেন তা না হয়।

বাসিত এ–ও বলেন, ভারত যথাযথ প্রমাণ দিতে পারলে, জাকিউর রহমান লকভি’র বেলায় যেটা হয়েছে, মাসুদ আজহারের ক্ষেত্রে অন্তত সেটা হবে না।

ভারত সরকারের দাবিমতে, বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে হামলা সংক্রান্ত ‘সুনির্দিষ্ট ও ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য’ তথ্যপ্রমাণ পাকিস্তানে পাঠিয়েছে দিল্লি।

পাঠানকোটে হামলার পেছনে মাসুদ আজহারের জইশ–এ–মোহাম্মদ গোষ্ঠী রয়েছে বলে মনে করছে ভারত। মাসুদের গ্রেপ্তারের খবর নিয়ে সম্প্রতি দু-দেশের সংবাদমাধ্যম সরগরম ছিল। পরে অবশ্য পাকিস্তান সরকার খবরটা নিছক গুজব বলেই জানায়।

তবে পাকিস্তান এ ব্যাপারে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় বসে না থেকে, এ ব্যাপারে তদন্তের জন্যে পাক পাঞ্জাব প্রদেশের সন্ত্রাস দমন শাখার অতিরিক্ত মহাপরিদর্শককে প্রধান করে ছয় সদস্যের এক কমিটি গঠন করেছে, এবং সন্দেহভাজন কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। তদন্তের স্বার্থে পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের একটি দল ভারতে আসার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + nineteen =