পাবনার নারী সাংবাদিক সুবর্ণা নদীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

গত বছরের শেষে প্রকাশিত ”পাবনায় উন্নয়নে নারীর ভূমিকা” প্রতিবেদনে উপসংহারে সুবর্ণা নদী লিখেছিলেন ”প্রাচীন কালে বাইরের অঙ্গন ও কর্মক্ষেত্রে নারীর পদচারণা না থাকলেও বর্তমান সর্বক্ষেত্রে নারীর ব্যপক পদচারণা ঘটেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নারী, সাবেক প্রধান মন্ত্রী নারী, বিরোধী দলীয় নেত্রী নারী, স্পীকার নারী, ধর্ষকের মা নারী, খুনির মা নারী, বিচারকের মা নারী, সংসদ সদস্যের মা নারী, পুলিশের মা নারী, সেনা বাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনীর মা নারী, মানবাধিকার কমিশন, সাংবাদিকের মা নারী , দল বল বাজার ঘাট, মাঠ ময়দান, এনজিও,ভিজিও সব দিকেই নারী…তবুও কেন অরক্ষিত নারী ??? ”

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘আনন্দ টিভি’ ও দৈনিক জাগ্রত বাংলা পত্রিকার সাংবাদিক সুবর্ণা নদীকে (৩২) কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজ বাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। জেলা শহরের রাধানগর আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে সুবর্ণা নদীর বাসা।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাসার কলিং বেল টিপে কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি। গেট খোলার সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাসীরা সুবর্ণাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। এতে তার হাতে ও মাথায় গুরুতর জখম হয়। তার চিৎকারে শুনে লোকজন এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুবর্ণাকে মৃত ঘোষণা করে।

পাবনা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী বাবলা বলেন, “প্রত্যক্ষদর্শীরা আমাদের জানিয়েছেন, ১০/১২ জন সন্ত্রাসী কয়েকটি মোটর সাইকেলে এসে তাকে কুপিয়ে দ্রুতবেগে চলে যায়। যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

সাংবাদিক সুবর্ণা নদী হত্যার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মহলে । তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ( বিএমএসএফ) এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আবুল হোসেন তালুকদার ও সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ।

সেই সাথে সাংবাদিক নদী হত্যায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করেন এবং সারাদেশে সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধে সরকারক এবং আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত সদস্যদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ।

জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সুবর্ণা নদী লিখিত অভিযোগে জানান, গত ৬ জুন ২০১৬ পাবনা সদর থানার সালগাড়িয়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে রাজিব হোসেনের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের ১ বছরের মাথায় তিনি জানতে পারেন তার স্বামী একজন মাদকাসক্ত ও বিভিন্ন মেয়েদের সাথে সম্পর্ক রয়েছে। তার স্বামী প্রতিনিয়ত তার কাছে যৌতুক দাবি করতো। একপর্যায়ে ৫ টাকা লাখ দাবি করেন স্বামী রাজিব হোসেন। এত টাকা দিতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করায় তার ওপর শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এমনকি বাড়ি থেকে রাতের আঁধারে নির্যাতন করে বের করে দেয়া হয়। এরপর উপায় না পেয়ে পাবনা সদর থানায় তার স্বামী রাজিব হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পাবনা সদর থানার মামলা নং- ৮, তারিখ- ০৪.০৬.২০১৭। মামলা করার পর তার স্বামী বারবার তাকে হত্যার হুমকি দেয় এমনকি পুলিশও কোনো সহযোগিতা করছে না। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ার কারণে নদী এখন নিজ বাড়ি পাবনা থেকে ঢাকায় পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আরও জানিয়েছিলেন , যেকোনো সময় তার বখাটে স্বামী এবং তার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা তার বড় ধরনের ক্ষতিসাধন করতে পারেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে আইনি সহায়তা কামনা করেছিলেন ।

সম্প্রতি রাজীবের সঙ্গে তার ডিভোর্স হয়। রাজীবের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়াকে কেন্দ্র করে আদালতে একটি মামলাও চলছে বলে স্থানীয়রা জানান। প্রথম বৈবাহিক সূত্রে জান্নাত নামে সুবর্ণার একটি ৫ থেকে ৬ বছরের একটি কন্যা সন্তান আছে।

এদিকে,সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি সংবাদের লিংক শেয়ার করেন সুবর্ণা; যে পোস্টটি তার শেয়ার করা সর্বশেষ ক্রাইম রিপোর্ট। ‘পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বিয়ের প্রলোভনে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি সংবাদের লিংক, এছাড়া খুন হবার বেশ কিছু দিন আগে থেকে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডি নিয়ে সমস্যায় ছিলেন সাংবাদিক সুবর্ণা। ফেসবুকে সুবর্ণার আইডি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে সাংবাদিক সুবর্ণা হত্যার কোনো কারণ  জানা যায়নি।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

two × one =