প্রতিদিন বাল্যবিবাহের শিকার ২০ হাজার মেয়ে

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিশ্বে প্রতিদিন কমপক্ষে ২০ হাজার মেয়ে বাল্যবিবাহের শিকার হয়। পরে সাংসারিক দায়িত্ব, পারিবারিক ও সামাজিক চাপ এবং মাতৃত্বজনিত সমস্যাসহ নানা কারণে বাধ্য হয় পড়াশোনা ছেড়ে দিতে।

বিশ্বব্যাংক ও সেভ দ্যা চিলড্রেনের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। এতে বিশ্বের ১১২টি দেশের ওপর গবেষণা চালানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাল্যবিবাহ আইনত নিষিদ্ধ এমন দেশগুলিতেও প্রতিবছর গড়ে ৭৫ লক্ষ মেয়ে বাল্যবিবাহের শিকার। আর উন্নয়নশীল দেশগুলিতে প্রতি তিন জনে একজন মেয়ে বাল্যবিবাহের শিকার। পরে নানা কারণে পড়াশোনার ক্ষেত্রে সরকারি বিধিনিষেধের শিকার হয়ে লেখাপড়া বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছে তারা।

এমন একটি দেশ তানজানিয়া। সেখানে অন্তঃসত্ত্বা মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষেধ। অবশ্য গত দু’বছরে দেশটিতে বাল্যবিবাহ প্রতিহত করতে কিছু পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে। মেক্সিকো এবং জিম্বাবুয়ে সহ আরও ১০টি দেশ বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত আইন পরিবর্তন করেছে। এক্ষেত্রে হয় তারা বৈধ বিবাহের বয়সসীমা উঠিয়ে নিয়েছে, নতুবা পরিবার ও আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তা বৈধ ঘোষণা করেছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মোট বাল্যবিবাহের দুই-তৃতীয়াংশই হচ্ছে এমন সব দেশে যেখানে তা নিষিদ্ধ। এ থেকে বোঝা যায় যে, এসব দেশে বাল্যবিবাহ সংশ্লিষ্ট আইনের যথাযথ প্রয়োগ নেই।

আবার অনেক দেশে বিয়ের ন্যূনতম বয়স জাতীয় আইনের ভিত্তিতে নির্ধারণ না করে ধর্মীয় এবং সামাজিক রীতি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়। এর ফলে আইনের প্রয়োগ কঠিন হয়ে পড়ে। সেভ দ্য চিলড্রেনের পলিসি, অ্যাডভোকেসি এবং ক্যাম্পেইনের নির্বাহী পরিচালক ক্রিস্টি ম্যাকনেইল বলেন, বাল্যবিবাহ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত একটি বৈষম্যহীন পৃথিবী তৈরি হবে না। যেখানে ছেলে ও মেয়ে উভয়েই জীবনে সাফল্য অর্জনের সমান সুযোগ পাবে। কারণ, একটি মেয়ের অল্প বয়সে বিয়ে হওয়া মানে হলো নানা দায়িত্বের ভারে অথবা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার কারণে তার স্কুল ছেড়ে দেওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যাওয়া। তিনি বলেন, বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে আইনগত বিধিনিষেধ আরোপ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু লাখো কোটি মেয়ে বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতেই রয়ে যাবে যতক্ষণ পর্যন্ত পৃথিবীব্যাপী সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে না উঠবে। বাল্যবিবাহ চিরতরে নির্মূল করার জন্য আমাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 × four =