প্রথমবারের জন্য মহিলাদের নিয়োগ করার পথে ব্রিটেন গোর্খা রেজিমেন্ট

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

আর এক বছর। তারপরেই ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে নিজেদের রেজিমেন্টে মহিলাদের নিয়োগ করতে চলেছেন গোর্খারা। প্রথমবারের জন্য। নির্বাচিত মহিলাদের ব্রিটেনের মাটিতে প্রশিক্ষণের জন্য ২০২০ সালের মধ্যে প্রস্তুত করে ফেলা হবে বলেও জানা গিয়েছে। তবে এই রেজিমেন্টে নির্বাচিত হওয়াটা খুব একটা সহজসাধ্য নয়। মহিলাদের বেছে নিতে নির্বাচন প্রক্রিয়াতে কোনও বদলও আনা হবে না। পুরুষদের মতোই একাধিক কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরেই মিলবে নিয়োগের ছাড়পত্র। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে মাথার ফেটির সঙ্গে ৫৫ পাউন্ডের বালি ভর্তি বেতের ঝুঁড়ি বেঁধে তিন মাইল চড়াইয়ে দৌড়ানো। যা ‘ডোকো’ নামে পরিচিত।

জানা গিয়েছে, সেনায় নিয়োগ সংক্রান্ত ঘাটতি মেটাতে ৩ হাজার জনের গোর্খা ব্রিগেডে এবার আরও ৮০০ ট্রুপ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া আয়োজিত হবে নেপালের পোখরায়। যাঁরা এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন, তাঁদের ৪৮ মিনিটের মধ্যে ডোকো দৌড় সম্পূর্ণ করতে হবে। সেখানেই শেষ নয়। এর সঙ্গে এক মিনিটের মধ্যে লাফিয়ে ৭৫টি বেঞ্চ টপকানো এবং দু’মিনিটের মধ্যে ৭০ বার উঠবোসও করতে হবে। এই তিনটি ধাপ সফলভাবে উত্তীর্ণ হতে পারলে নির্বাচিতদের আনা হবে নর্থ ইয়র্কশায়ারের ক্যাট্রেরিকে। সেখানে ১০ সপ্তাহ ধরে ইংরেজি ভাষা এবং সংস্কৃতির উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

‘বর্তমান’-এর মুখোমুখি হয়ে প্রতিরক্ষা সচিব গেভিন উইলিয়ামসন জানান, বিশ্বের দরবারে গোর্খারা অন্যতম সেরা বাহিনী হিসেবে পরিচিত। ব্রিটেনের রাজপরিবারের প্রতি তাঁদের সেবার ইতিহাসও সর্বজনবিদিত। মহিলাদেরও এই ‘এলিট’ গ্রুপে যোগদানের যে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, তা অত্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্ত। ডেপুটি চিফ অব দি জেনারেল স্টাফ অ্যান্ড কর্নেল কম্যান্ডান্ট ব্রিগেড অব গোর্খা লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিক পোপ সিবিই বলেন, ‘সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে প্রতি বছর নেপাল এবং কমনওয়েলথ থেকে বহু সংখ্যক মানুষ আবেদন করছেন, যা দেখে আমি গর্বিত।

ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে গোর্খা এবং কমনওয়েলথের নাগরিকদের অবদানের সুদীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। দেশে এবং বিদেশের মাটিতে ব্রিটেনকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকাও আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটিশ সেনাবাহিনী কতটা খোলামেলা এবং বৈচিত্র্যময়, এর মধ্যে থেকেই তা স্পষ্ট।’ তিনি আরও জানান, ২০২০ সালের মধ্যে মহিলা আবেদনকারীদের সামনে গোর্খা রেজিমেন্টের দরজা খুলে যাবে।

একদা এই গোর্খা রেজিমেন্টের সদস্য ছিলেন মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) টীকেন্দ্র দাল দেওয়ান জেপি। বর্তমানে তিনি ব্রিটিশ গোর্খা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির চেয়ারম্যানের পাশাপাশি গোর্খা জনগোষ্ঠীর একজন নেতাও বটে। প্রতিবেদকের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই এই বিষয়টি আটকে ছিল। বহু বছর আগে বর্তমানে কর্মরত গোর্খাদের জন্য নতুন কিছু শর্তাবলী লাগুর আগে তা নিয়ে আলোচনার জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে ব্রিটিশ গোর্খা ওয়েলফেয়ার সোসাইটিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানেও এই বিষয়টি তোলা হয়েছিল। তবে এটা কোনও নতুন বিষয় নয়। এর আগে, প্রতি বছর গোর্খা মহিলাদের কিউএআরএএনসিতে নার্স হিসেবে নথিভুক্ত করা হতো। সেই সংখ্যা আগে বেশি থাকলেও পরে তা কমে প্রতি বছর দু-চারজনে এসে দাঁড়ায়। তবে তখনও তাঁরা সশস্ত্র বাহিনীর অন্য সদস্যদের মতোই গুরুত্ব পেতেন।

আরও জানা গিয়েছে, প্রতি বছর ২৫০টি আসনের জন্য ১০ হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়ে। ১৯৯৩ সাল থেকে অন্য ব্রিটিশ সৈন্যদের মতোই পেনশন সহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পান তাঁরা গোর্খা রেজিমেন্টের সদস্যরা। আগে গোর্খা বাহিনীর সদস্যরা সহজে ব্রিটেনের নাগরিকত্ব পেতেন না। কিন্তু জোয়ানা লুমলের নেতৃত্বে দীর্ঘ প্রতিবাদের পর আইন বদল করা হয়। ঠিক হয়, কেউ চার বছর গোর্খা ব্রিগেডে কর্মরত থাকলে তিনি ব্রিটেনে বাস করতে পারবেন। পাঁচ বছর ব্রিটেনে বাস করার পর তাঁরা সেদেশের নাগরিকত্ব পাবেন।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

two × 4 =