প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনাতেই সিলেটের আতিয়া মহলের জঙ্গি আস্তানায় সেনাঅভিযান

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সেনা গোয়েন্দা পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনাতেই সিলেটের আতিয়া মহলের জঙ্গি আস্তানায় সেনা অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত ৮টায় সিলেটের জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্টে আয়োজিত প্রেসব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। অপারেশন টোয়ালাইটের সমাপ্তি ঘোষণা করে ব্রিগেডিয়ার ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনার আলোকে সেনাবাহিনী অপারেশনের পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। অপারেশনে মূলত দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হয়। প্রথমত ভবনের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া। দ্বিতীয়ত জঙ্গিদের নির্মূল করা।ব্রিফিংয়ে অভিযানের অানুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণার পাশাপাশি অভিযানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনী সোমবারই জঙ্গিদের দমন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। সোমবারের মধ্যেই জঙ্গিদের নিষ্ক্রিয় করতে সমর্থ হয় ‘অপারেশন টোয়ালাইট’ এ অংশ নেয়া সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ানের সদস্যরা।

ব্রিগেডিয়ার ফখরুল আরো বলেন, দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে অপারেশন টোয়ালাইটের প্রথম পর্বটি ছিলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। কমান্ডোরা জীবন বাজি রেখে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে ২৫ মার্চ দুপুরের মধ্যে নারী-শিশুসহ ওই ভবনের বাসিন্দা ৭৮ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করে। পুরো ভবনের পাঁচতলা থেকে দোতলা পর্যন্ত উদ্ধার কাজ অত্যন্ত সন্তর্পনে করা হয়। নিচতলার উদ্ধার অভিযান ছিলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। তবে কমান্ডো সদস্যরা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে অভিনব পন্থা অবলম্বন করে সব বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে আনেন।

ব্রিগেডিয়ার ফখরুল বলেন, অভিযানের দ্বিতীয় পর্বে জঙ্গিদের নির্মূলের কাজ শুরু হয়। এ পর্বে সেনাবাহিনীর কমান্ডোদের পাশাপাশি স্নাইপার দলসহ বিশেষায়িত অনেক সদস্য নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেন। তিন দিন বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে সোমবার বিকেলের মধ্যেই চার জঙ্গিকে নির্মূল করা হয়।

বিগ্রেডিয়ার জেনারেল বলেন, পুরো অপারেশন পরিচালনায় পুলিশ, র‍্যাব, সোয়াট, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন সহ এলাকাবাসী যে সহায়তা প্রদান করেছে তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। অপারেশন টোয়াইলাইট যে কোন ক্রাইসিস মোকাবেলায় সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায়র একটি মাইল ফলক হিসেবে থাকবে বলে সেনাবাহিনী বিশ্বাস করে। 

এছাড়া সোমবার দুটি মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি মঙ্গলবার আরও দু’টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এই মরদেহ দুটিতে সুইসাইডাল ভেস্ট থাকায় তা ছিলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সব কার্যক্রম শেষে ভবনটি মঙ্গলবার পুলিশের ক্রাইম সিন ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ‘অপারেশন টোয়ালাইট’ এর সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

 

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

three × four =