প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ডাকা নৈশভোজে মাধুর্য-আন্তরিকতা

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ডাকা নৈশভোজে ‘তিস্তা নেই’। সেখানে শুধু মাধুর্য-আন্তরিকতা।

রবিবার রাতে নৈশভোজের আসর থেকে ফিরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, কীভাবে তাঁকে আন্তরিকতায় বেঁধে ফেলেছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। দিল্লিতে তাঁর বাসভবনের সামনে অপেক্ষমাণ সংবাদমাধ্যমকে মমতা শোনালেন সেই অভিজ্ঞতা। তাঁর কথায়, ‘‘প্রণবদা আমাকে বললেন, তুই একদম খাচ্ছিস না ! আমি বললাম, হ্যাঁ, খেয়েছি তো! তখন হাসিনাজি বললেন, তুমি খাইলা না ? বললাম, যখন বাংলাদেশে যাব, পেট ভরে ভাত আর ইলিশ মাছ খাব। তখন উনি আমাকে বললেন, আমি কিন্তু রান্না করব। আমি বললাম, আমিও পাল্টা রান্না করব।’’ হাসিনা যে খুব ভাল রান্না করেন, সেকথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন মমতা।

রাষ্ট্রপতি ভবনের নৈশভোজে এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন কেন্দ্রের শীর্ষ আমলারাও। এদিন সকালে রাজস্থানে অজমের শরিফে যান হাসিনা।

নৈশভোজে মাধুর্য থাকলেও রাজনীতিতে তিস্তা-উত্তাপ যথেষ্টই রয়েছে। তিস্তা চুক্তি নিয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি জানানোয় মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করতে ছাড়েননি কেন্দ্রীয় ভারী শিল্পমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। রাষ্ট্রপতি ভবনে যাওয়ার আগে তিনি বলেন, ‘‘তিস্তা নিয়ে দু’দেশের মধ্যে কথাবার্তা চলছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে এ ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন। তাই মুখ্যমন্ত্রী এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে পারতেন। জলের বিষয়টি রাজ্যের এক্তিয়ারভুক্ত হওয়ায় রাজ্যের মত না নিয়ে কেন্দ্র এ ব্যাপারে পদক্ষেপ করবে না।’’

তিস্তা চুক্তি নিয়ে মমতাকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীও। তাঁর তির্যক মন্তব্য, ‘‘এতদিন পর্যন্ত তিস্তার কথা শুনেছি। এখন মুখ্যমন্ত্রী তোর্সা এবং আরও কয়েকটি নদীর ব্যাপারে প্রস্তাব দিচ্ছেন, যেগুলির নাম আমি কখনও শুনিনি। খাল-বিলকে তো নদী বলা যায় না!’’

অধীরের মতে, দু’দেশের নদী বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসে তিস্তার বিষয়ে সমাধানসূত্র বার করা উচিত। তোর্সার বিষয়েও আলাদাভাবে আলোচনা হতে পারে। জলবণ্টন নিয়ে মমতার মন্তব্যের পিছনে ‘অন্য কারণ’ আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস সাংসদ। তাঁর কথায়, ‘‘প্রধানমন্ত্রী বলছেন আমি করব। মুখ্যমন্ত্রী বলছেন আমাকে ছাড়া হবে না। এর পিছনে কোনও গোপন কারণ থাকতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী হয়তো কোনও প্রতিশ্রুতি চাইছেন। তাই তাঁর তিস্তা নিয়ে আপত্তি।’’

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

14 − 9 =