প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Hasina wishing Zillurসূর্যবার্তা২৪.কম প্রতিবেদন :দেশের ইতিহাসের অন্যতম সফল রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের দ্বিতীয় মুত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৩ সালের ১০ মার্চ ৮৪ তম জন্মদিনের রাতে শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে তাঁকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর দু’দিন পর  ১২ মার্চ তাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেয়া হয়। সব চেষ্টা ব্যার্থ করে দিয়ে ২০১৩ সালের ২০ মার্চ সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষনা করা হয়েছিল।প্রয়াত রাষ্ট্রপতির দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে সূর্যবার্তা পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।Zillur Rahman Family Pic

ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত অমায়িক স্বভাবের মোহাম্মদ  জিল্লুর রহমান অসাধারণ প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। সাধারণ জীবন-যাপনে অভ্যস্ত জিল্লুর রহমান আজীবন বাংলাদেশের কল্যাণে কাজ করে গিয়েছেন।

জিল্লুর রহমান  ১৯২৯ সালের ৯ মার্চ কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরবে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন জিল্লুর রহমান। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ১৯৭০ সালে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন। কিশোরগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছাড়াও জিল্লুর রহমান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যসহ বিভিন্ন সময়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন ।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক জিল্লুর রহমান মুজিবনগর সরকার কর্তৃক পরিচালিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিচালনা এবং জয় বাংলা পত্রিকার প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই সময় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে ২০ বছর কারাদন্ডের সাজা দেয় ও তাঁর সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ `৭৩, `৮৬, `৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৬ (সংসদীয় আসন ১৬৭, কুলিয়ারচর-ভৈরব) থেকে জিল্লুর রহমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।`৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তিনি  স্থানীয় সরকার পরিষদ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালের ১১ জানুয়ারি ফখরুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিলে যখন শেখ হাসিনা গ্রেফতার হন,সেই  থেকে জিল্লুর রহমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাল ধরেন।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় মহাজোট বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। নবম জাতীয় সংসদে জিল্লুর রহমান সংসদ উপনেতা নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাঁকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেন। তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২০০৯ সালে বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ১২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মুত্যু বরণ করেন জিল্লুর রহমানের স্ত্রী, মহিলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভানেত্রী আইভী রহমান। তাঁদের এক পুত্র এবং তুই কন্যা। জিল্লুর রহমান আইভি রহমানের একমাত্র পুত্র নাজমুল হাসান পাপন জাতীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি।

মোঃ জিল্লুর রহমানের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা, রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এই দিনটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তাদের  বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন দিনব্যাপি বিভিন্ন কর্মসূচীর উদ্যোগ নিয়েছে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

19 − 8 =