প্রয়াত হকিংকে নয়া কৃষ্ণগহ্বর উৎসর্গ রাশিয়ার

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সময়ের সঙ্গে আজীবন লড়েছেন। যে রোগের কাছে মানুষ আত্মসমর্পণ করে দেয়। সেই রোগকেও হার মানিয়েছিলেন। মানুষকে দিয়েছিলেন কৃষ্ণগহ্বরের খোঁজ। হুইলচেয়ার বন্দি জীবনেও মহাকাশে ছিল তাঁর অবাধ বিচরণ। মহাজাগতিক রহস্য ভেদ করেই জাগতিক জগতে অমর স্টিফেন উইলিয়াম হকিং। ৭৬ বয়সেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ‘আ ব্রিফ হিস্ট্রি অফ টাইম’-এর স্রষ্টা। বিখ্যাত বিজ্ঞানীকে সম্মান জানিয়ে নতুন কৃষ্ণগহ্বর অর্থাৎ ব্ল্যাক হোলের আবিষ্কারকে তাঁর প্রতি উৎসর্গ করলেন রাশিয়ার গবেষকরা।

মার্চ মাসের ১৪ তারিখ হকিং প্রয়াত হন। আর ১৬ মার্চ এই কৃষ্ণগহ্বর প্রত্যক্ষ করেন রাশিয়ার মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটির সদস্যরা। অফিউকাস নক্ষত্রপুঞ্জে গামা রে-র বিস্ফোরণ হয়। যাতে এক নক্ষত্রের পতন হয়। এই ঘটনার ফলেই ওই কৃষ্ণগহ্বরের সৃষ্টি হয়। মহাকাশে এমন ঘটনা নতুন নয়। তবে সচরাচর টেলিস্কোপে ধরা পড়ে না। ঘটনাক্রমে অফিউকাসের ঘটনাটি মাস্টার-আইএসি রোবোটিক টেলিস্কোপে ধরা পড়ে। আর গবেষকদের নজরে কৃষ্ণগহ্বরটি আসে। নতুন ব্ল্যাক হোলের নাম রাখা হয় GRB180316A। আর তাঁকে উৎসর্গ করা হয় সদ্য প্রয়াত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংকে।

চলতি বছরই ৭৬তম জন্মদিন পালন করেছিলেন। এতদিন তাঁর বেঁচে থাকাই যেন অনন্ত এক বিস্ময়। বিরল ‘মোটর নিউরন’ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এই ধরনের রোগে আক্রান্ত কোনও ব্যক্তি সাধারণত রোগ ধরা পড়ার চার বছরের বেশি বাঁচেন না। তাঁর রোগ ধরা পড়েছিল ১৯৬৩ সালে। অর্থাৎ তারপরও ৫৫ বছর বেঁচে থাকা মিরাকলের চেয়ে কম কিছু নয়। তবে আরও আশ্চর্য তাঁর গবেষণা। এই রোগে আক্রান্ত হয়েও যেভাবে তিনি মহাবিশ্বের সৃষ্টি সন্ধানে রত হয়েছিলেন তা গোটা পৃথিবীকেই চমকে দিয়েছিল। পৃথিবীর অস্তিত্ব ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্রমাগত বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন তিনি। তাঁর এই অবদানকে এভাবেই সম্মান জানালেন রাশিয়ান গবেষকরা।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

nine + 6 =