ফুলবাড়ি সীমান্তে রাজকীয় প্যারেডের অপেক্ষায় ভারত-বাংলাদেশ

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পাঞ্জাবের ওয়াঘা-আটারির ওই সীমান্ত উৎসব দেখতে সেখানে ভিড় জমান বহু পর্যটক। পাঞ্জাবও তাদের পর্যটন মানচিত্রের অন্যতম অংশ হিসেবে রাখে ওয়াঘায় বিএসএফের এই কসরতকে। ওয়াঘা ছাড়াও পাকিস্তান-ভারতের একাধিক বর্ডারে ওই অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। কিন্তু পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ওই ওয়াঘাই। সুদূর পশ্চিমের সেই সংস্কৃতিকে টেক্কা দিতে এবার আসরে নামছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ।

বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে একইভাবে উত্তরবঙ্গে সীমান্তে প্যারেড করবে বিএসএফ। ভারত সরকারের আশা, গোটা বিষয়টিকে যে উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে রাজ্য, তা রঙে-গরিমায় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারে ওয়াঘাকে। দেশ-বিদেশের পর্যটকদের জন্য এবার সেই নতুন স্বাদের দুয়ার খুলতে চাইছে রাজ্য। উত্তরবঙ্গের ফুলবাড়িতে তা শুরু হবে।

বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স এবং পাকিস্তান রেঞ্জার্স নামে ভারত-পাক সীমান্তরক্ষীরা ওয়াঘায় প্রথম ১৯৬৯ সালে শুরু করে প্যারেড। সন্ধ্যার সময় ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-এর দু’ প্রান্তে দুই দেশের পতাকা নামানোর মুহূর্তের সাক্ষী থাকেন কয়েক হাজার মানুষ। সীমান্তরক্ষীদের আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কসরত তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করেন দর্শক। মুহূর্মূহু হাততালিতে মুখরিত হয় চারধার। ফাজিলকার কাছে মহাবীর এবং সাদকি সীমান্তে ওই ধরনের প্যারেড হয়। তা হয় ফিরোজপুরের হুসেনওয়ালা এবং গান্দাসিংওয়ালা সীমান্তেও। নামের ভারে সবার সেরা ওয়াঘাই।

যেখানে পশ্চিমবঙ্গও সীমান্তের রাজ্য, সেখানে ওয়াঘার মতো কেন প্যারেড হবে না? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই মাঠে নামে ভারতের রাজ্য পর্যটন দপ্তর। তারাই উৎসাহ দেখায় উত্তরবঙ্গের ফুলবাড়িতে ওই প্যারেডের আয়োজন করার। সেই অনুষ্ঠানকে যাতে সবার সামনে আনা যায় এবং পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে ফুলবাড়িকেও সামনে আনা যায়, তার চেষ্টা শুরু হয়। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে একযোগে সেখানে বিএসএফের একপ্রস্থ প্যারেড হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেবের কথায়, ওয়াঘা নিয়ে সবাই উৎসাহী। কিন্তু আমরা যে পরিকল্পনার বাস্তব রূপ দিতে চলেছি, তা ওয়াঘার থেকে আরও রঙিন হতে চলেছে। সেখানে দৈত্যাকার গ্যালারি তৈরি হচ্ছে, যেখানে পাঁচ হাজার মানুষ একসঙ্গে দু’দেশের সীমান্তের প্যারেডের সাক্ষী হতে পারবেন। রাজকীয় কায়দায় সীমান্তরক্ষীরা সেখানে মন জয় করবেন দর্শকের। প্রতিদিনের ওই অনুষ্ঠান ঘিরে গড়ে তোলা হচ্ছে পর্যটনের নানা উপকরণ। যেমন সরকারের স্যুভেনির শপ থাকবে, তেমনই থাকবে খাওয়াদাওয়া সহ ঘোরার আয়োজন। সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গে বেড়াতে আসা মানুষ এক নতুন স্বাদ পাবেন।

গোটা প্রকল্পটি যে সত্যিই অত্যন্ত রংদার হতে চলেছে, তা মেনে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীও। উত্তরবঙ্গের দায়িত্বে থাকা বিএসএফের এক মুখপাত্রের কথায়, আমরা সবদিক থেকেই আমাদের আয়োজন শেষ করে রেখেছি ফুলবাড়িতে। শুধু সময়ের অপেক্ষা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সবুজ সঙ্কেত পেলেই শুরু হবে ভারত-বাংলাদেশের যৌথ প্যারেড। সেই ইতিহাসের দোরগোড়ায় অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ভারতের রাজ্য পর্যটন দপ্তর।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

two + 5 =