বগুড়ায় শিয়া মসজিদে গুলি করে মুয়াজ্জিনকে হত্যা:জামায়াতের ছক?

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Bogra-002বগুড়ার শিবগঞ্জের হরিপুরে শিয়া মুসলিমদের একটি মসজিদে দুর্বৃত্তের গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের সময় এ হামলা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। হামলায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। বগুড়ার পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল বলেন, “গুলিতে একজন মারা গেছেন এবং তিনজন আহত হয়েছেন।”স্থানীয় লোকজনের তথ্যমতে, গোলাগুলির শব্দ শুনে তাঁরা কয়েকজন মসজিদের দিকে দৌড়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু গুলিবর্ষণকারীরা আগেই মসজিদে প্রবেশের মূল ফটকটি ভেতর থেকে বন্ধ করে রাখায় তাঁরা ঢুকতে পারেননি। খুব দ্রুত ঘটনা ঘটিয়ে গুলিবর্ষণকারীরা মসজিদের সামনের দেয়াল টপকে পালিয়ে যান।

উল্লেখ্য ,আশুরার আগের রাতে ঢাকার হোসেনিদালানে শিয়াদের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় গ্রেনেড হামলায় দুজন নিহত হয়।সেই ঘটনায় হামলাকারীদের আটক করেছে পুলিশ । মূল হামলাকারী শিবির ক্যাডার শাহাদত পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় ২৫ নভেম্বর ।এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এটা দেশি-বিদেশি চক্রান্ত। যারাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ হামলার তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খুব দক্ষভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় কারা হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে, কেন ঘটিয়েছে, তার তদন্তে কাজ শুরু হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশে আইএস আছে, সেটা প্রমাণ করতেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সব ঘটনা একই গোষ্ঠী ঘটিয়েছে। তারা দেশের একেকটি জেলায় একেকবার নাশকতামূলক কার্যক্রম করছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে, যাতে সেটা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনা হয়। ঘটনাগুলো একের পর এক মেলালে বোঝা যাবে। তবে সরকারও বসে নেই, সবই বেরিয়ে আসছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, আজ সন্ধ্যার দিকে উপজেলার চককানু গ্রামের ওই শিয়া মসজিদে তিন-চারজন যুবক ঢুকে পড়েন। এ সময় মসজিদে নামাজ আদায় করছিলেন অন্তত ৪০ জন মুসল্লি। যুবকেরা মসজিদে ঢুকে প্রথমে প্রধান ফটকটি আটকে দেন। এরপর আগ্নেয়াস্ত্র বের করে নামাজরত লোকজনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যান। এতে ইমাম শাহীনুর রহমান, মুয়াজ্জিন মোয়াজ্জেম হোসেন, আবু তাহের ও আফতাব উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে আফতাব ছাড়া অন্য তিনজনকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে মোয়াজ্জেম হোসেন মারা যান
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সন্ধ্যার দিকে উপজেলার চককানু গ্রামের ওই শিয়া মসজিদে তিন-চারজন যুবক ঢুকে পড়েন। এ সময় মসজিদের প্রার্থনারত ছিলেন অন্তত ৪০ জন। যুবকেরা মসজিদে ঢুকে প্রথমে প্রধান ফটকটি আটকে দেন। এরপর আগ্নেয়াস্ত্র বের করে প্রার্থনারত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যান। এতে মসজিদে থাকা ইমাম শাহীনুর রহমান, মুয়াজ্জিন মোয়াজ্জেম হোসেন, আবু তাহের ও আফতাব উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে আফতাব ছাড়া অন্য তিনজনকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে মোয়াজ্জেম হোসেন মারা যান।
মোয়াজ্জেমকে শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয় বলে ওই হাসপাতালের চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন।কারা এই হামলা চালিয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহত মোয়াজ্জেমের চাচা উকিল মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, “যখন সবাই মাগরিবের নামাজের সেজদায় ছিল, তখনই হঠাৎ গুলি হয়।”
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক যুবক বলেন, “তিনজন যুবক কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে প্রাচীর টপকিয়ে পালিয়ে যায়।”
এদের মধ্যে একজন টুপি-পাঞ্জাবি পরা এবং অন্য দুজন চেক শার্ট প্যান্ট পরা ছিলেন বলে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন।
গত মাসে পুরান ঢাকায় শিয়াদের ইমাম বাড়ায় বোমা হামলার পর সম্প্রতি শিবগঞ্জের শিয়ারাও হুমকি পাচ্ছিলেন বলে ওই এলাকার বাসিন্দা মোজাফ্ফর হোসেন জানান। তিনি বলেন, প্রায় ৩০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করছিল। তখনি গুলিবর্ষণ হয়।
উকিল মিয়া বলেন, “হঠাৎ নির্বিচারে গুলি করার ঘটনায় আমরা হতবাক হয়ে গেছি। এখানে শিয়া-সুন্নির কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না। কখনই কারও সঙ্গে মসজিদ নিয়ে কোনো বিরোধ ছিল না।” হামলাকারী কারা, তা এখনও চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ কিংবা স্থানীয়দের কেউ।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

twenty − 7 =