বাংলাদেশের কায়দায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও ব্লগার খুনের ছক ছিল ধৃত জঙ্গিদের

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বাংলাদেশের কায়দাতেই দেশের কয়েকজন ব্লগারকে খুনের পরিকল্পনা করেছিল কলকাতা থেকে ধৃত আনসারুল্লা বাংলা টিমের সদস্য (এবিটি) সামসেদ মিঞা ওরফে তনবীর।

কলকাতাকে কেন্দ্র করে জঙ্গি মডিউল তৈরির প্ল্যান, ৫ রাজ্যে গতিবিধি, তাদের হিট লিস্টে রয়েছেন এরাজ্যেরও কয়েকজন ব্লগ লিখিয়ে। যাঁদের গতিবিধি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখা শুরু করেছিল এই জঙ্গি। তাঁরা কারা, এ সম্পর্কে কিছু তথ্য হাতে পেয়েছেন গোয়েন্দারা। তাঁরা জেনেছেন, এই লক্ষ্যেই আগ্নেয়াস্ত্র কেনা শুরু করেছিল সে। ব্লগারদের ‘টার্গেট’ করা ছাড়াও কলকাতায় জঙ্গি ডেরা বানানোর জন্যও গোপনে কাজ শুরু করেছিল তনবীর। কলকাতায় পাকাপাকিভাবে ঘাঁটি গড়ার জন্য বাংলাদেশের আনসারুল্লা বাংলা টিমের মূল মাথা জিয়ার কাছ থেকে নির্দেশ পেয়েছিল সে।

গোয়েন্দারা জেনেছেন, বাংলাদেশে ২০১১ সালে আধা-সেনা বিদ্রোহের মাথা মেজর জিয়াই তনবীরের দীক্ষাগুরু। এই মেজরই এবিটি এবং আনসারুল ইসলামের মাথার বসে রয়েছে। সীমান্তের ওপারে থাকার সময় তনবীরের মগজ ধোলাই করে তারই কলেজের এক সিনিয়র। সে আবার আনসারুল্লা বাংলা টিমের সদস্য। তার কথাতেই জেহাদি ভাবধারায় উদ্বুব্ধ হয় তনবীর। এরপর ওই সিনিয়র দাদাই তাকে জিয়ার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। মেজর তাকে জেহাদি শিক্ষার পাঠ থেকে শুরু করে বিস্ফোরক তৈরি করা শেখায়। প্রশিক্ষণপর্ব শেষে জঙ্গি সংগঠন এবিটি’র হয়ে কাজ শুরু করে সে। বাংলাদেশে ব্লগার হত্যার ঘটনায় নাম জড়ানোর পর এদেশে পালিয়ে আসে তনবীর।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় ধৃত জানিয়েছে, এক দালাল মারফত সে সীমান্ত পেরিয়ে এদেশে ঢোকে। ওই দালালই তাকে হায়দরাবাদের একটি ফ্যাক্টরিতে কাজের বন্দোবস্ত করে দেয়। কিন্তু ওই কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সে চলে যায় কর্ণাটকের বেলগাঁওতে। সেখানে ভুয়ো আধার কার্ড তৈরি করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলে। সেখানে কিছুদিন কাজ করার পর ফের ফিরে যায় হায়দরাবাদে। পরে পুনে শহরে রাজমিস্ত্রি হিসেবে কাজ শুরু করে। এর আড়ালেই চলে তার জেহাদি কার্যকলাপ। সেখানে থাকাকালীনই তার কাছে নির্দেশ আসে, কলকাতায় সংগঠন বাড়ানোর পাশাপাশি ব্লগারদের চিহ্নিত করতে হবে। বলা হয়, বসিরহাটের বাসিন্দা মনোতোষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। তার সঙ্গে বাংলাদেশের এবিটি’র একাধিক সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। সে নিজেও ওই জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্য। সেইমতো পুনে থেকে রাঁচি হয়ে বসিরহাটে আসে তনবীর ও রিয়াজুল।

তার সাহায্য নিয়েই কলকাতায় পাকাপাকিভাবে থেকে সংগঠনের মডিউল তৈরির কাজ শুরু করে তনবীর। এরজন্য ছেলে জোগাড় করে জেহাদি প্রশিক্ষণও শুরু করে সে। পাশাপাশি এরাজ্যের কোন কোন ব্লগার বাংলাদেশের প্রতি সহানুভূতিশীল, সেই তথ্য জোগাড় করে ফেলে সে। কী কায়দায় তাঁদের খুন করা হবে, তার প্রস্তুতিও সেরে ফেলা হয়েছিল।

গোয়েন্দারা জেনেছেন, তনবীরকে টাকার জোগান দিয়েছে জিয়াই। বস্ত্র ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে হাওলা মারফত টাকা আসত তার কাছে। এমন কয়েকজন ব্যবসায়ীকে চিহ্নিতও করা গিয়েছে। সেই টাকা জমা পড়েছিল তনবীরের অ্যাকাউন্টে। এখনও পর্যন্ত তার চারটি অ্যাকাউন্টের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। যেখানে বড় অঙ্কের টাকা জমা পড়েছিল। ওই টাকাতেই কেনা হয়েছিল আগ্নেয়াস্ত্র। জানা যাচ্ছে, আগ্নেয়াস্ত্র কেনার পর তারা তা বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। মনোতোষের মাধ্যমে গত ছ’মাসে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছেছে আনসারুল্লা বাংলা টিমের হাতে। আর কিছু আগ্নেয়াস্ত্র তনবীর নিজের কাছে রেখেছিল অপারেশনের জন্য।

বর্তমান

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

17 + sixteen =