বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন রোধে ব্যবস্থা নিতে সেক্যুলার মুভমেন্ট বাংলাদেশ, ইউকে’র দাবী

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন রোধ করার দাবী জানিয়েছেন সেক্যুলার মুভমেন্ট বাংলাদেশ, ইউকে। নির্যাতনকারীদের বিচারের আ্ওতায় আনতে হবে যেন কেউ  আর নির্যাতনের সাহস না পায়। বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার সম্ভব হলে,রাজন হত্যা মামলার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে পারলে সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে নয় কেন?

৩১শে মার্চের মধ্যে  অন্তত: একটি অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে বা বিচার করে প্রমাণ করতে হবে সরকার সংখ্যালঘু সমস্যা সমাধানে সত্যিই আন্তরিক- এমন দাবি করেন তারা।বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে বিচার না হওয়ার রীতি নূতন নয়, নির্যাতিত যখন সংখ্যালঘু, প্রশাসন তখন উল্টোমুখে তাকিয়ে থাকে। ২০০১ সালের অত্যাচারের বিচার আমরা পাইনি।বাংলাদেশে হাজার হাজার মুর্তি-মন্দির ভাঙ্গা হলেও আজ পর্যন্ত একজনের বিচার হয়নি, বা কেউ শাস্তি পায়নি। এ সময়ে  শইপা বড়ুয়া বাংলাদেশে তার পরিবারের সদস্যদের উপর নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনার বর্ণনা দেন।

সদ্য অনুষ্ঠেয় পৌরসভা বা স্থানীয় নির্বাচনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বক্তারা দাবি করেন,কোন দলই সংখ্যালঘুদের তেমন মনোনয়ন দেয়নি। তাই দু’চারজন হাতেগোনা ব্যতীত কোন সংখ্যালঘু প্রার্থী বিজয়ী হয় নি।দেশে প্রথম আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে  শঙ্কা প্রকাশ করেন বক্তারা। এ প্রসঙ্গে তারা বলেন , দেশ সন্ত্রাসমুক্ত হোক আমরা কামনা করি।আমরা জামায়েতের সাথে সাথে আওয়ামী ওলামা লীগ ও নিষিদ্ধ করার দাবি জানাই। বাংলাদেশ ১৯৭২ সংবিধানের আলোকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক দেশে ফিরে যাবে এমন দাবি জানান বক্তারা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষেই এই কাজটি করা সম্ভব বলে তাঁরা আশা করেন। আগামী তিন মাসে মধ্যে কোন অগ্রগতি না হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যারা সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কাজ করেন, সেই সব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে অনশন করবেন বলে জানান তাঁরা।

শনিবার (৯ জানুয়ারি) পূর্ব লন্ডনের মন্টিফিউরি সেন্টারে এ সংবাদ সম্মেলনে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন রোধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশের সরকারের প্রতি সেকুলার মুভমেন্ট বাংলাদেশ ইউকের পক্ষ থেকে এসব দাবী জানানো হয়। সংগঠনের সভাপতি পুষ্পিতা গুপ্তার সভাপতিত্বে সংগঠনের সদস্য সাংবাদিক ও ব্লগার জুয়েল রাজ, মুসলেহ জাহিন এনামুল, সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। প্রেস কনফারেন্সে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য দ্বিগজয় শুভ।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন একটি দৈনন্দিন ঘটনা। আগে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে হিন্দুরা অপেক্ষাকৃত কম নির্যাতিত হতো, এখন সব আমলই সমান।গত সাত বছরে সংখ্যালঘুর ওপর অত্যাচার যেকোনো আমলের থেকে খুব একটা কম নয়।বিদায়ী বছরে এমন একটি দিনও হয়ত পাওয়া যাবে না যেদিন কোন না মিডিয়ায় দেশের কোথাও না কোথাও হিন্দু মন্দির বা মূর্তি ভাঙচুর, হিন্দুর জমি দখল, নাবালিকা ধর্ষণ ও ধর্মান্তরিতকরণ বা দেশত্যাগের হুমকি ইত্যাদি খবর প্রকাশিত হয়নি। ব্লগার হত্যার বিচারে তারা আনন্দিত এবং আশাবাদ প্রকাশ করেন এই বিচারটি ত্বরান্বিত হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাবার প্রত্যাশায় তারা  দেশে সব খুনের বিচার দাবি করেন।  শনিবার একযোগে স্যেকুলার বাংলাদেশ মুভমেন্ট, ইউকে এবং সিওআরএমবি, ​হিন্দু ফোরাম সুইডেন, ইউরোপীয় ঐক্য পরিষদ প্যারিস। বাংলাদেশ মাইনরিটি কাউন্সিল জেনেভা, ফ্রান্স ঐক্য পরিষদ, কানাডা ঐক্য পরিষদ, ক্যাম্ব (ক্যাম্পেইন এগেনস্ট এট্রসিটিস্ অন মাইনরিটিস অব বাংলাদেশ) কলকাতা , আরইএস (রিসার্চ এন্ড এম্পাওয়ারমেন্ট )বাংলাদেশ, সিপিআর এম্বি ফিন্ল্যান্ড, ঐক্য পরিষদ, ইতালি, সিঙ্গাপুর, হিন্দু গ্র্যান্ড এল্যায়েন্স, ডিএসসি রাশিয়া অস্ট্রেলিয়া, সংখ্যালঘু স্বার্থ সংরক্ষণ ও অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ, বাংলাদেশ,মালয়েশিয়া বাংলাদেশ মাইনরিটি রাইটস ম্যুভ্মেন্ট, ইউএসএ ও টাইমলাইন বাংলাদেশ ইউএস এ সহ বিশ্বের ১৫ টি দেশে একই দাবীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বক্তারা।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

one × two =