বাংলায় অন্যভাষার মিশ্রিত টোন জাতিসত্তায় হুমকিস্বরূপ

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

অহিদুল ইসলাম,সৌদি আরব:নিজের মাতৃভাষায় যে যত বেশি পারদর্শী সে ততই অন্যের ভাষা ও সংস্কৃতি বুঝতে সক্ষম। ভিন্ন ভাষা-সংস্কৃতি অনুধাবন করতে হলে যে কোনো জাতিকে তাঁর নিজের ভাষা-সংস্কৃতি ভাল করে বুঝতে হবে। যে জাতি নিজের সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতন না সে কখনোই অন্যের সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধশীল হতে পারে না।

অনুষ্ঠানে ভাষার গান পরিবেশন করছে শিক্ষার্থী রাহমা শাহিদ।
অনুষ্ঠানে ভাষার গান পরিবেশন করছে শিক্ষার্থী রাহমা শাহিদ।

সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশল স্কুল ইংরেজি শাখায় (বিআইএসইএস) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন বাংলাদেশ দূতাবাসের ইকনমি কাউন্সিলর ডক্টর মোঃ আবুল হাসান। অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন স্কুল-কমিটির সিগনেটরি ও ট্রেজারার মাহবুবুর রহমান।
বিআইএসআইএস প্রাঙ্গনে অস্থায়ী শহীদ মিনারে শিক্ষার্থীরা মহান ভাষাদিবস শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।
বিআইএসআইএস প্রাঙ্গনে অস্থায়ী শহীদ মিনারে শিক্ষার্থীরা মহান ভাষাদিবস শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।

এ সময় স্কুল প্রিন্সিপাল বজলুর রশিদ বাংলাভাষার শুদ্ধ চর্চার ওপর শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ইংরেজি শিক্ষা করতে যেয়ে এর টোনগুলি বাংলার সঙ্গে মিশিয়ে বলার অভ্যাস আজকাল প্রায়ই শোনা যায়। আমরা ইংরেজি শিখব কিন্তু বাংলাভাষার চালচলন অন্য ভাষার মধ্যে সংমিশ্রণ হলে এটি জাতিসত্তায় হুমকিস্বরূপ। কেননা ভাষা একটি জাতির নিজস্ব স্বকীয়তা রক্ষার প্রধান বাহন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, ৫২’র ভাষাশহীদদের আত্মদান পৃথিবীর সকল জাতিকেই তার নিজস্ব ভাষার প্রতি সচেতন হওয়ার মানদণ্ড হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। এ জন্যই ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। পৃথিবীর সকল মানুষকে এই দিবসটি সম্পর্কে সচেতন করার জন্য আমাদের সবাইকে কাজ করে যেতে হবে।
এ সময় তিনি বিআইএসইএস’র শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটিতে নানা ভাষার শিক্ষার্থীদের প্রধান কাজ হবে, নিজের মাতৃভাষাকে আগে ভাল করে জানা, তারপর ভিন্নভাষী বন্ধুদের সঙ্গে ভাব বিনিময় করা। এতে নিজের ভাষার উপর সচেতনতা যেমন বাড়বে তেমনি ভাষা-বিবর্তনের সহজাত শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন বিআইএসইএস-এর শিক্ষাকারা। এতে ভাষার গান, সমবেত দেশ-গান ও সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে স্কুলের শিক্ষার্থীরা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জামশেদ রানা ও কামরুন নাহার হাসি।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

eight − 6 =