বাগেরহাটে আইনজীবি ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ী হাসিবুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার আইনজীবি ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ী হাসিবুর রহমান হাসিব (২৭)কে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে।হাসিবুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক।সদর থানার ওসি মাহতাব উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় রোববার রাতে ‘সুমন গ্রুপ’ নামে খ্যাত ডিশ ব্যবসায়ী সুমন, সুজন হাওলাদার, সাথী এবং অজ্ঞাতনামা তার গ্রুপের আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় মামলা করেছেন হাসিবুরের মা হেলেনা পারভীন।

হাসিবের স্বজনদের অভিযোগ, এলাকার ডিশ  ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ঠেকাতেই হাসিবের ওপর হামলা করা হয়েছে।গত রোববার বিকেলে উপজেলার বাখরগঞ্জ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। চিতলমারী পুলিশিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মহসীন রেজার পুত্র হাসিবুর রহমান । হাসিবের মা হেলেনা পারভীন বাগেরহাট উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ ও মহিলা পরিষদ নেত্রী।

হাসিবের বোন মিল্কি রেজা জানিয়েছেন, আধুনিক উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের উপজেলাসহ বাগেরহাট সদরের পরেই যেসব এলাকা এখনো ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের বাইরে, সেসব এলাকা নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসতে ব্রডব্যান্ড ব্যবসা শুরু করেন হাসিবুর। চিতলমারীর বাখরগঞ্জ এলাকায় একটি গ্রুপ ডিশ লাইনের ব্যবসা করত। ইন্টারনেটের ব্যবসার কারণে তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে আশঙ্কা করে কয়েক দিন আগে  ওই গ্রুপের সুমন, সুজন হাওলাদার ও সাথীসহ ১০-১২ জন হাসিবুরকে হত্যার হুমকি দেয়। এ সময় তারা বিশাল অঙ্কের চাঁদাও দাবি করে। এই সন্ত্রাসীরা বাখরগঞ্জ বাজারের ত্রাস। বাজারের বিভিন্ন দোকানে নিয়মিত চাঁদাবাজি করে তারা।

‘‘হাসিবুর চাঁদা দিতে অস্বীকার করে ব্যবসা কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা গত রোববার বিকেলে বাখরগঞ্জ বাজারে কানেকশনের কাজ চলাকালে হাসিবুর রহমান ও তার সহকর্মী অশোক মণ্ডলের ওপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা হাসিবুর রহমানকে রড দিয়ে পেটায় এবং রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা নগদ ২৮ হাজার টাকা, গলার একটি সোনার চেইন ও তিনটি মোবাইল নিয়ে যায় তারা।

হাসিবুরের মা হেলেনা বেগমের অভিযোগ করেন হাসিব বাখরগঞ্জ বাজারে চিৎকার করে লোকজনের কাছে সাহায্যের আকুতি করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি; বরং হামলাকারীরা আবার তাকে ধরে পেটায়। একসময় মারা গেছে ভেবে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায়।পরে কয়েকজন পথচারী তাকে চিনতে পেরে উদ্ধার করে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

sixteen − 5 =