বাঙালি আইএস জঙ্গি সিদ্ধার্থ বিশ্ব সন্ত্রাসবাদী – ঘোষণা ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ব্রিটিশ বাঙালি যুবক সিদ্ধার্থ ধর আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আইএসের প্রধান কিলার মেশিন। জিহাদি জন টু! বন্দি বিদেশিদের লাইন দিয়ে হাঁটু মুড়ে বসিয়ে নৃশংসভাবে গুলিতে কিংবা মুন্ডচ্ছেদ করে হত্যা করা আইএসের প্রবণতা। সেই ভিডিও প্রকাশও করে তারা নিয়মিত। আর এভাবেই হত্যা করে থাকে সিদ্ধার্থ।

আমেরিকা সরকারের স্বরাষ্ট্র বিভাগের পক্ষ থেকে আজ চাঞ্চল্যকর এক ঘোষণায় সিদ্ধার্থকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্বের প্রতিটি দেশে সেই বার্তা পাঠিয়েও দেওয়া হয়েছে। এতদিন পর এই ঘোষণার কারণ হল, যে সন্দেহ বিগত দু’বছর ধরে করা হয়েছে তা সত্যি। আইএস জঙ্গিরা বন্দিদের ইসলাম বিরোধী তকমা দিয়ে যে শিরশ্ছেদ ও মাথায় গুলি করে হত্যার কর্মসূচির ভিডিও প্রকাশ করে গোটা দুনিয়ায় আতঙ্ক ছড়ায়, সেই নিমর্ম হত্যকাণ্ডের প্রধান মাথা এই বাঙালি পরিবারের সন্তান ৩৪ বছরের সিদ্ধার্থই।

ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড ও স্পাই এজেন্সি এম আই ফাইভের চোখে ধুলো দিয়ে সিদ্ধার্থ ২০১৪’তে লন্ডন থেকে ট্রেন ধরে প্যারিসে পালায় এবং সেখান থেকে সিরিয়ায়। ২০১৪ সালেই সিদ্ধার্থকে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ সন্ত্রাসবাদের আদর্শ প্রচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছিল। মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। যে সংগঠনের হয়ে সিদ্ধার্থ কাজ করেছে সেটি একটি নিষিদ্ধ সংগঠন ছিল ব্রিটেনে। নাম আল মুজহারিন।

দু’মাস পর তাকে জামিনে মুক্তি দিয়ে বলা হয়েছিল সে যেন পাসপোর্ট জমা দিয়ে যায়। চার মাসের জন্য জামিন দেওয়া হয়েছিল। পাসপোর্ট জমা দেওয়া তো দূরের কথা, ২৪ ঘন্টার মধ্যে সিদ্ধার্থ তার স্ত্রী আয়েশা আর দুই সন্তানকে নিয়ে লন্ডনের ভিক্টেোরিয়া স্টেশনে প্যারিসগামী ট্রেনে উঠে পড়ে। তারপর সোজা সিরিয়া। মেট্রোপলিটন পুলিশ কিছুদিন পর তাকে ফোনে না পেয়ে একটি শমন পাঠায়। সেখানে বলা হয় আপনাকে অনুরোধ করা হচ্ছে যত শীঘ্র সম্ভব পাসপোর্ট জমা দিয়ে যান।

মেট্রোপলিটন পুলিশ, এম আই ফাইভ এবং স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডকে রীতিমতো লজ্জায় ফেলে দিয়ে ঠিক একমাস পর ট্যুইটারে সিদ্ধার্থ ধর এক হাতে সদ্যোজাত পুত্র আর অন্য হাতে একটি অ্যাসল্ট রাইফেল ধরে ছবি দিয়ে লিখেছিল সিরিয়ায় এসে পুত্রসন্তান লাভ করেছি। এই সন্তান স্বাধীন ইসলামিক স্টেটের বাসিন্দা। ব্রিটিশ পুলিশ আমাকে মুক্তি দিয়ে কত বড় ভুল করেছে আজ তা বুঝতে পারছে। সিদ্ধার্থ ধর ধর্ম পরিবর্তন করেছিল আগেই। তার নতুন নাম আবু রুমায়েশ।

ব্রিটেনের একাধিক নিউজ চ্যানেল সে সাক্ষাৎকার দিয়েছিল।
পূর্ব লন্ডনের ১৬ বছরের কিশোর সিদ্ধার্থ বদলাতে শুরু করে বাবার মৃত্যুর পর। মা সবিতা ধর ও বোন কণিকা ধরকে নিয়ে সংসার ছিল। কিন্তু মীজানুর রহমান নামের এক বাংলাদেশি কিশোরের সঙ্গে আলাপ ও বন্ধুত্ব গাঢ় হওয়ার পর সিদ্ধার্থ দ্রুত বদলে যায়। ততদিন পর্যন্ত সে ছিল যে কোনও ব্রিটিশ যুবকের মতোই আর্সেনালের ফ্যান এবং লিংকিন পার্ক ও নির্বাণ ব্যান্ডের একনিষ্ঠ ভক্ত।

কিন্তু আল মুজাহিরনের প্রধান প্রচারক আঞ্জিম চৌধুরীর প্রতি আকৃষ্ট হয়। সবিতা ও তাঁর স্বামী ছেলেবেলা থেকেই লন্ডনের বাসিন্দা। তাই সিদ্ধার্থ এবং কণিকার মুখের ভাষা অবিকল ব্রিটিশ অ্যাকসেন্ট। ২০১৪ সালে আইএস প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বন্দিদের হত্যার সময় হত্যাকারীর একটি কন্ঠস্বর ছিল, যে হত্যার কারণ বর্ণনা করছে। সেই ভিডিও থেকে সন্দেহের সূত্রপাত। হত্যাকারীর মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা থাকলেও উচ্চারণে ব্রিটিশ অ্যাকসেন্ট। পুলিশ যোগাযোগ করে সিদ্ধার্থের বোন ও মায়ের সঙ্গে। কণিকা জানায় কন্ঠস্বর তাঁর ভাইয়েরই। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি জানিয়েছিলেন ভাই যে এতদূর যাবে ধারণাই ছিল না। এসব সত্যি হলে, ওকে শহিদ হতে হবে না। আমিই খুন করব সামনে পেলে! সিদ্ধার্থের যে ট্যুইটার অ্যাকাউন্টের সন্ধান মিলেছিল সেটি হল হ্যাশট্যাগ জেনারেশন খিলাফা!

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

nineteen − three =