বিএনপি নেত্রী অস্ত্র ও বিস্ফোরকের জন্যে জঙ্গীদের চার ধাপে এক কোটি আট লক্ষ টাকা নগদ জমা দিলো

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail
BNP leader Barrister Farzana
বিএনপি নেত্রী জঙ্গী অর্থায়নকারী ব্যারিষ্টার শাকিলা ফারজানা

সাবেক চীফ হুইপ বিএনপি নেতা  চট্টগ্রামের হাটহাজারির ওয়াহিদুল ইসলামের কন্যা ব্যারিষ্টার শাকিলা ফারজানা তার দুই সহযোগী সহ স্বীকার করলেন জঙ্গীদের অর্থায়নের কথা।

বাঁশখালী উপজেলার লটমণি পাহাড় থেকে অস্ত্র-বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এক সন্দিগ্ধ আসামির ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা দিয়েছিলেন ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাসহ তিন আইনজীবী।  চার ধাপে এক কোটি আট লক্ষ টাকা নগদে জমা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। র‌্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত হামজা ব্রিগেড সদস্যরা১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে তিন আইনজীবী তাদের টাকা দিয়েছে বলে  জানায়। এরপর ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে এর সত্যতা পাওয়া গেছে।

র‌্যাবের চট্টগ্রাম জোনের পরিচালক লে.কর্ণেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ আরো  বলেন, বেশ কয়েকজন  জঙ্গী ১৬৪ ধারার  জবানন্দিতে অর্থদাতা হিসেবে তাদের নাম বলেছে।  রিমান্ডে নিলে জিজ্ঞাসাবাদে সবকিছু পরিস্কার হবে।

‘জবানবন্দিতে অর্থদাতা হিসেবে তাদের নাম আসার পর আদালতের নির্দেশে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করি।  বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার অনুমতি নিয়ে ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করি।  আমরা নিশ্চিত হয়েছি, তিনজন আইনজীবী নগদে ব্যাংকে এক কোটি আট লক্ষ টাকা হামজা ব্রিগেডের সামরিক উইংয়ের ব্লু -শাখার প্রধান মনিরুজ্জামান ডনসহ কয়েকজনের হিসাব নম্বরে জমা দিয়েছেন। ’ বলেন মিফতাহ।

দুবাইয়ের নাগরিক আল্লামা লিবাদি নামে একজনও হামজা ব্রিগেডকে অর্থ দেন জানিয়ে মিফতাহ বলেন, লিবাদি অনেকবার বাংলাদেশ সফর করেছেন।  হামজা ব্রিগেডের নেতাদের সঙ্গে তিনি একাধিকবার বৈঠকও করেছেন।  তিনিও নিয়মিত হামজা ব্রিগেডের নেতাদের অর্থ দেন।

গ্রেপ্তার হওয়া তিন আইনজীবী হলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা (৩৯)।  তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।  চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য পদেও আছেন তিনি। অপর দু’জন অ্যাডভোকেট হাসানুজ্জামান লিটন (৩০) এবং অ্যাডভোকেট মাহফুজ চৌধুরী বাপন (২৫)। এদের মধ্যে শাকিলা ফারজানা ও হাসানুজ্জামান লিটন সুপ্রিম কোর্টে এবং মাহফুজ চৌধুরী বাপন ঢাকা জজ কোর্টে আইন পেশায় যুক্ত আছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে ঢাকার ধানমন্ডি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

র‌্যাব জানিয়েছে, এক কোটি আট লক্ষ টাকার মধ্যে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা দিয়েছেন ৫২ লক্ষ টাকা।  তিনি প্রথম ধাপে ২৫ লক্ষ ও পরবর্তী ধাপে ২৭ লক্ষ টাকা জমা দিয়েছেন।  হাসানুজ্জামান লিটন ৩১ লক্ষ টাকা এবং বাপন দিয়েছেন ২৫ লক্ষ টাকা।

এই টাকা কেউ তাদের অ্যাকাউন্টে জমা করেছিল কিনা, জমা স্লিপে তাদের স্বাক্ষর ছিল কিনা কিংবা টাকার উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে র‌্যাব পরিচালক জানিয়েছেন, রিমান্ডে তাদের এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

শাকিলা ফারজানার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, শাকিলা হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বেশ কয়েকটি মামলার আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন।  কয়েকটি মামলায় আসামিদের জামিন করানোর জন্য আইনজীবী হিসেবে তিনি এক তদবিরকারকের কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়েছিলেন।  জামিন না হওয়ায় ওই টাকা তিনি আবার তদবিরকারকের হিসাবে ফেরত দেন।  সেই ফেরত দেয়া টাকাকেই ‘জঙ্গি অর্থায়ন’ হিসেবে র‌্যাব ‘ প্রচার ‘করছে বলে ফারজানার আইনজীবীদের দাবি।

 

 

তবে শাকিলা ফারজানার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার বলেন, শাকিলা একজন পেশাদার আইনজীবী।  কে হেফাজত, কে জঙ্গি, কে হামজা ব্রিগেড তিনি চেনেন না-জানেন না।  ঢাকায় হেফাজতের বিরুদ্ধে যেসব মামলা আছে সেগুলো তিনি পরিচালনা করেন।  বাঁশখালীর লটমণি পাহাড় থেকে অস্ত্র উদ্ধারের মামলার এক আসামি শাকিলার সঙ্গে নিয়মিত হেফাজতের মামলার বিষয়ে যোগাযোগ রাখেন।

তিনি বলেন, হেফাজতের মামলা নিয়ে কিছু টাকা তিনি শাকিলাকে দিয়েছিলেন।  মামলা পরিচালনার পর আরও কিছু টাকা শাকিলা রিফান্ড করেন।  রিফান্ড করা টাকা জঙ্গি কার্যক্রমের জন্য দেয়া হয়েছে অভিযোগ করে শাকিলাকে তার দুই জুনিয়রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, শহীদ হামজা ব্রিগেডের সদস্যরা প্রথমে ‘লাভ ফর রোহিঙ্গা (এলএফআর)’ নামে একটি এনজিও গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন।  সেটার আড়ালে তারা জঙ্গি সংগঠনের কাজ করবে-এটাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।  তবে এনজিও তারা গঠন করতে পারেননি।  এরপর তারা সরাসরি জঙ্গি সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেড গড়ে তুলেন।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের চট্টগ্রাম জোনের পরিচালক লে.কর্ণেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, হামজা ব্রিগেডের সামরিক, দাওয়াতী, মার্কেটিং, মিডিয়া, মেডিকেল, নৌসহ বেশ কয়েটি উইং আছে।  এর মধ্যে সামরিক উইংয়ের গ্রিণ গ্রুপের প্রধান আজিজ তারেক, ব্লু গ্রুপের প্রধান মনিরুজ্জামান ডন, হোয়াইট গ্রুপের প্রধান খালিদ রাকিব, অস্ত্র সরবরাহকারী মোজাহের, বিস্ফোরক সরবরাহকারী ও বোমার কারিগর আনোয়ার, মিডিয়া উইংয়ের প্রধান আবদুল্লাহকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।  আটটি অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ২৯ জনের মধ্যে ২৮ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে তিনি জানান।

‘হামজা ব্রিগেডের একজন প্রধান আছেন।  তাকে সংগঠনের সবাই ‘বড় ভাই’ বলে চেনেন।  তিনিসহ কয়েকজন পলাতক আছেন।  আরও কয়েকজন অর্থদাতা আছে যাদের আমরা আইডেন্টিফাই করতে পারিনি।  তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ’ বলেন মিফতাহ।

১৯ ফেব্রুয়ারি হাটহাজারী এলাকায় ‘আল মাদরাসাতুল আবু বকর’ নামে একটি কওমি মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।  মাদ্রাসাটিকে হামজা ব্রিগেডের তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

২১ ফেব্রুয়ারি বাঁশখালীর লটমণি পাহাড় থেকে ৫ জন, ২৮ ফেব্রুয়ারি নগরীর হালিশহর থানার একটি আবাসিক এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

১২ এপ্রিল (রোববার) রাতে নগরীর কোতয়ালি থানার মিডটাউন আবাসিক হোটেলে অস্ত্র কেনাবেচার সময় বিক্রেতা মোজাহের হোসেন মিঞা (৩৫) এবং বাঁশখালীতে জঙ্গি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাব্বির আহমেদ ওরফে মুহিবকে (২৩) গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।  তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওইদিন রাতে আকবর শাহ থানার একে খান মোড়ে শ্যামলী বাস কাউন্টার থেকে মো.কামাল উদ্দিন ওরফে মোস্তফা (২৪) এবং আশরাফ আলীম ওরফে আদনানকে (২৫) আটক করা হয়।

র‌্যাব পরিচালক মিফতাহ বলেন, ‘আমরা যখন যার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ পেয়েছি, তখনই তাকে গ্রেপ্তার করেছি।  তথ্যপ্রমাণ ছাড়া আমরা কিছু করিনি। ’

ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানার স্বামী মো.বাহাউদ্দিন বুধবার সকালে বাংলানিউজকে বলেন,  ধানমন্ডির ২৭ নম্বর সড়কে চেম্বারের কাছ থেকে শাকিলাকে তার দুই জুনিয়রসহ র‌্যাব তুলে নিয়ে গেছে।  তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আমরা জানিনা।

তবে বিকেলে ফোন দিলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে এড়িয়ে যান।

র‌্যাব পরিচালক মিফতাহ বাংলানিউজকে জানান, বাঁশখালীর লটমণি পাহাড় থেকে অস্ত্র উদ্ধারের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।  বাঁশখালীর আদালতে তাদের সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

এদিকে বিকেল ৪টার দিকে তাদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে মাইক্রোবাসে করে নগরীর পতেঙ্গায় র‌্যাব কার্যালয় থেকে বাঁশখালীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।  তবে তিন আইনজীবীকে সাংবাদিকদের সামনে আনা হয়নি।  একটি তথ্যচিত্রে তাদের কিছু স্থির ছবি সাংবাদিকদের সামনে প্রদর্শন করা হয়।

বিকেল পৌনে তিনটার দিকে তাদের দুপুরে খাবার খাওয়ানোর জন্য একটি কক্ষ থেকে বের করে কিছুদূর হেঁটে আরেকটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়।  তখন ফটোসাংবাদিকরা ছবি তুলতে চাইলে র‌্যাব সদস্যরা তিনজনকে ঘিরে ধরেন।  বাঁশখালী নিতে গাড়িতে তোলার সময় ছবি তুলতে পারেন, এমন আশংকার কথা জানিয়ে সাংবাদিকদের কার্যালয় থেকে বের করে দেয়া হয়।  এমনকি সাংবাদিকদের কার্যালয়ের ফটকের সামনেও দাঁড়াতে দেয়া হয়নি।
জঙ্গি সংগঠন ‘শহীদ হামজা ব্রিগেড’কে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার তিন আইনজীবীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় বাঁশখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজ্জাদ হোসেন এ আদেশ দিয়েছেন।

র‌্যাবের চট্টগ্রাম জোনের পরিচালক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, বাঁশখালী থানায় দায়ের হওয়া অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা সাতদিনের রিমান্ড চেয়েছিলাম।  আদালত শুনানি শেষে চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

গ্রেফতার তিনজন হলেন, বিএনপি দলীয় সাবেক হুইপ ও কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা (৩৯), অ্যাডভোকেট হাসানুজ্জামান লিটন (৩০) এবং অ্যাডভোকেট মাহফুজ চৌধুরী বাপন (২৫)।  এদের মধ্যে শাকিলা ফারজানা ও লিটন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী।  বাপন ঢাকা জজকোর্টের আইনজীবী।

চট্টগ্রামের কোতয়ালি থানার রহমতগঞ্জ-২০৬ এলাকার বাসিন্দা মো. বাহার উদ্দিনের স্ত্রী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা।  অ্যাডভোকেট লিটন কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামাড়া থানার কুচিয়ামোড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।  তিনি ঢাকায় মিরপুর ১০ এলাকায় ব্লক-সি, লাইন ১২’র ২ নম্বর বাসায় থাকতেন।  বাপন ঢাকা জর্জকোর্ট মিরপুর ২ এর বড়বাগ এলাকায় ৩১/৩-বি এর বাসিন্দা মৃত মফিজ উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে।

র‌্যাব পরিচালক জানান, শহীদ হামজা ব্রিগেডের বিভিন্ন নেতাদের অ্যাকাউন্টে মোট ১ কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা জমা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেফতার হওয়া তিন আইনজীবী দিয়েছেন ১ কোটি ৮ লাখ টাকা। এছাড়া আল্লামা লিবাদি নামে দুবাইয়ের একজন নাগরিকও টাকা দিয়েছেন।

‘আদালত ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে শহীদ হামজা ব্রিগেড নেতাদের অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা দিয়েছেন মোট ৫২ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রথম দফায় ২৫ লাখ ও দ্বিতীয় দফায় ২৭ লাখ টাকা দিয়েছেন তিনি।  অ্যাডভোকেট লিটন ৩১ লাখ টাকা ও অ্যাডভোকেট বাপন দিয়েছেন ২৫ লাখ টাকা। তারা এ বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নগদে জমা দিয়েছেন। ’

তিন আইনজীবীকে বাঁশখালীর লটমণি পাহাড় থেকে অস্ত্র উদ্ধারের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।  তাদের বাঁশখালী আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানান লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ।

ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং উত্তর জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য।

চলতি বছরের এপ্রিলে নতুন জঙ্গি সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেডের সন্ধান পাবার কথা জানায় র‌্যাব।

এলিট ফোর্স র‌্যাব জানিয়েছিল, শহীদ হামজা ব্রিগেডের তিনটি সামরিক উইং আছে। এগুলো হচ্ছে, গ্রিন, ব্লু এবং হোয়াইট। প্রত্যেক উইংয়ে সাতজন করে সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য আছেন। ২০১৩ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রাম নগরীর ফয়’সলেকে একটি রেস্টুরেন্টে সভা করে এই জঙ্গি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটান সংগঠকরা।

১২ এপ্রিল (রোববার) রাতে নগরীর কোতয়ালি থানার মিডটাউন আবাসিক হোটেলে অস্ত্র কেনাবেচার সময় বিক্রেতা মোজাহের হোসেন মিঞা (৩৫) এবং বাঁশখালীতে জঙ্গি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাব্বির আহমেদ ওরফে মুহিবকে (২৩) গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

এদের মধ্যে মোজাহেরের বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলার উত্তর কাঞ্চনা এলাকায়। সাব্বির হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গুলগাঁও গ্রামের আবুল কালাম ফটিকের ছেলে।  তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওইদিন রাতে আকবর শাহ থানার একে খান মোড়ে শ্যামলী বাস কাউন্টার থেকে মো.কামাল উদ্দিন ওরফে মোস্তফা (২৪) এবং আশরাফ আলীম ওরফে আদনানকে (২৫) আটক করা হয়। তারা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পালিয়ে যাচ্ছিল।

পরে আরও তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচলাইশ থানার কসমোপলিটন আবাসিক এলাকার গ্রিন বাংলা জাহানার‍া অ্যাপার্টমেন্টের সপ্তম তলায় একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়।  অস্ত্রশস্ত্রের মধ্যে আছে, ৫টি একে ২২, ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি একনলা বন্দুক, ১টি এলজি, একে ২২ এর ১০টি ম্যাগজিন, ১টি পিস্তলের ম্যাগজিন, ২ হাজার ১৫৫ রাউণ্ড পয়েন্ট টুটু বোরের গুলি, ৫০১ রাউণ্ড শটগানের গুলি উদ্ধার করে র‌্যাব।

গ্রেফতার হওয়া ১২ জন, ২১ ফেব্রুয়ারি বাঁশখালীর লটমণি পাহাড় থেকে গ্রেফতার  হওয়া ৫ জন, ২৮ ফেব্রুয়ারি নগরীর হালিশহর থানার একটি আবাসিক এলাকা থেকে তিনজনসহ মোট ২৪ জন ‘শহীদ হামজা ব্রিগেডের’ সদস্য গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, বাঁশখালীর লটমণি পাহাড় ছিল শহীদ হামজা ব্রিগেডের সামরিক প্রশিক্ষণ ঘাঁটি।  সেখানে প্রত্যেক সদস্য ১০ রাউণ্ড করে গুলি ছুঁড়ে প্রশিক্ষণ নিত।  এর মধ্যে ৬ রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হত একে ২২ থেকে আর ৪ রাউন্ড ছোঁড়া হত অন্যান্য অস্ত্র থেকে।  ২০১৪ সালের শেষদিকে তারা লটমণি পাহাড়ে সামরিক প্রশিক্ষণ শুরু করে। নতুন জঙ্গি সংগঠনের পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউণ্টের সন্ধান  পেয়েছে র‍্যাব।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 × two =