বিজিবি’র বিরুদ্ধে এস এ পরিবহনের গাড়ি আটক করে মালামাল লুট করার অভিযোগ: তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন বললেন বিজিবি মহাপরিচালক

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের বিরুদ্ধে গাড়ি আটক করে মালামাল লুট করার অভিযোগ করেছেন কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠান এস এ পরিবহনের কর্মকর্তারা।বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ  এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে চিঠি পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। যদি বিজিবির কোনো সদস্য এসব অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত থাকে তবে অবশ্যই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিজিবির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগে জানানো হয়েছে, সন্ত্রাসী কায়দায় বিজিবির সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে এস এ পরিবহনের গাড়ি আটক করে চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারের ফোন কেড়ে নেয়। এরপর গাড়ি স্কট করে নিয়ে গিয়ে মালামাল নিয়ে যায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, গত ১৯ মে এস এ পরিবহনের একটি কাভার্ড ভ্যান খুলনা থেকে ঢাকা আসার পথে রাত সাড়ে তিনটার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার মনসুরাবাদ ব্রিজের ওপর বিজিবি-৬ ক্যাম্পের ১৫ থেকে ১৬ জন সদস্য জোর করে আটক করে। তাঁরা চালকসহ অন্যদের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে কন্টেইনারের তালা খুলতে বাধ্য করেন। সেখানে তাঁরা কাভার্ড ভ্যান থেকে মালামাল নিয়ে তাঁদের গাড়িতে ওঠাতে থাকেন। এ সময় এস এ পরিবহনের সাতক্ষীরার আরেকটি গাড়ি সেখানে আসে। খুলনার গাড়িটি দাঁড়ানো দেখে তারা সেখানে থামায়। সাতক্ষীরা এস এ পরিবহনের  ব্যবস্থাপক আয়ুব আলী সেখানে গিয়ে বিজিবি সদস্যদের গাড়ি থেকে মাল নামাতে বাধা দেন। এ সময় বিজিবি সদস্যরা তাঁর সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন। একপর্যায়ে বিজিবি সদস্যরা খুলনার গাড়িটি তাঁদের সঙ্গে নিয়ে যান। আইয়ুব আলী বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তিনি সাতক্ষীরার গাড়িতে ঢাকা অফিসে এসে কর্তৃপক্ষকে ঘটনাটি জানান। খোঁজখবর নেওয়ার একপর্যায়ে কুষ্টিয়া অফিসের ব্যবস্থাপক মো. শাহজাহান পরের দিন বেলা ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পে গেলে সেখানে গাড়ির সন্ধান পান। বিজিবি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি দেখতে পান বিজিবি সদস্যরা গাড়ি থেকে মালামাল নিচে নামাচ্ছেন। পরে খুলনার গাড়ি থেকে আটটি মেমোর ১৫ বস্তা মালের কাগজপত্রসহ রেখে দিয়ে অন্যান্য মালামাল গাড়িতে উঠিয়ে দিয়ে গাড়ি ছেড়ে দেন। যে কারণে গ্রাহকের মালামাল চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি বলে চিঠিতে বলা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে আরো বলা হয়, এই গাড়িতে খুলনা অঞ্চলের জরুরি সরকারি, বেসরকারি ডাক, আদালতের গুরুত্বপূর্ণ দলিল দস্তাবেজ ছাড়াও সময় এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত ওষুধ, কাঁচা মাছ ছিল, যা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। ওই গাড়িটি আট ঘণ্টা আটকিয়ে রাখার কারণে গ্রাহকদের মালামাল যথাসময়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া কাঁচা ও পচনশীল মালামাল সব নষ্ট হয়ে যায়। ফলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এর আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

এস এ পরিবহনের কর্মকর্তারা চিঠিতে আরো জানান, নিয়ম অনুযায়ী বর্ডার গার্ড সীমান্তের পাঁচ মাইলের মধ্যে তাদের চোরাচালান বিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে। সীমান্তের পাঁচ মাইলের বাইরে তাদের কর্মকাণ্ড করার ক্ষেত্রে অবশ্যই টাস্কফোর্সের মাধ্যমে হওয়াই বাঞ্ছনীয়। কিন্তু উল্লিখিত বিজিবি ব্যাটালিয়ন দ্বারা পরিচালিত বর্তমান কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ বেআইনি, হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এস এ পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালাউদ্দিন দাবি করেন, চুয়াডাঙ্গা রুটে এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে। মালামাল খুঁজতে বিজিবি ক্যাম্পে গেলে তাঁরা সেগুলো রেখে দিয়ে বলছেন, সিও-র নির্দেশে তাঁরা এটা করছেন।সালাউদ্দিন বলেন, বিজিবির সদস্যরা প্রায়ই গাড়ি আটকিয়ে মালামাল রেখে দিচ্ছেন। এরপর আর মালামাল ফেরতও দেন না তাঁরা। জব্দ করা মালামালের তালিকাও তাঁরা দেন না। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় একাধিক জিডি ও মামলা করা হয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিকার নেই।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

14 − 9 =