বিদায় নিলেন বলিউডের হ্যান্ডসাম, চৌকস অভিনেতা বিনোদ খান্না

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

হিন্দি ছবির অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা বিনোদ খান্না ২৭ এপ্রিল মাত্র ৭১ বছর বয়সে চলে গেলেন । মূত্রথলিতে ক্যানসার আচমকাই কেড়ে নিল জীবনটা। বলিউডের ভদ্র ও ব্যক্তিত্বপূর্ণ অভিনেতাদের মধ্যে বিনোদ খান্না একটা আলাদা জায়গা দখল করেছিলেন।

মুম্বইয়ের সিডেনহাম কলেজে কর্মাস নিয়ে ভর্তি হলেন। কিন্তু তত দিনে সিনেমার পোকাটা মাথায় ঢুকে গিয়েছে বিলক্ষণ। কারণ বোর্ডিংয়ে থাকতেই লুকিয়ে দেখেছেন ‘মুঘল এ আজম।’ সেই তখন থেকেই সিলভার স্ক্রিনের প্রেমে পড়েন সুদর্শন যুবকটি।

১৯৬৮ সালে সুনীল দত্তের ‘মন কা মিত’ ছবিতে খলনায়ক হিসেবে বিনোদ খান্নার আত্মপ্রকাশ। এই খলনায়ক হিসেবেই একের পর এক ছবিতে কাজ করে তিনি রীতিমতো জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। ‘পূরব অউর পশ্চিম’, ‘সাচ্চা ঝুটা’, ‘আন মিলো সাজনা’, ‘মস্তানা’, ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’, ‘এলান’ প্রভৃতি ছবিতে বিনোদজির উপস্থিতি ছিল একেবারে পরদা জুড়ে। নায়ক হিসেবে  কেরিয়ার শুরু ১৯৭১ সালে ‘হাম তুম অউর ও’ ছবিতে।

একজন খলনায়ক হয়েও যে সফল নায়ক হওয়া যায় তার প্রমাণও দিয়েছিলেন বিনোদ খান্না। গুলজারের ‘মেরে আপনে’ (১৯৭১) ছবিতে অ্যাংরি ইয়াং ম্যানের ভূমিকায় তাঁর অভিনয় ভোলার নয়। এমনকী মীনাকুমারীর মতো এক অভিনেত্রীর পাশেও বিনোদজির অভিনয় আজও অনেকের মনে দাগ কেটে আছে।

১৯৭৩ সালে গুলজারের ‘অচানক’ ছবিতে এক আর্মি অফিসারের ভূমিকায় তাঁর অভিনয় দর্শক-সমালোচকদের উচ্চ প্রশংসা লাভ করেছিল। এই ছবিতে তাঁর স্ত্রীর চরিত্রে ছিলেন লিলি চক্রবর্তী। ‘ইমতিহান’, ‘মুকাদ্দর কা সিকান্দর’, ‘অমর আকবর অ্যান্টনি’, ‘লহু কে দো রং’, ‘কচ্চে ধাগে’, ‘দ্য বার্নিং ট্রেন’, ‘কুরবানি’, ‘কুদরত’, ‘দয়াবান’, ‘জুর্ম’ প্রভৃতি বিনোদ খান্নার জনপ্রিয় ছবি। ধর্মেন্দ্র, রাজেশ খান্না, শশী কাপুরের পাশাপাশি হ্যান্ডসাম নায়ক হিসেবে তিনিও অচিরেই জায়গা করে নিলেন বলিউডে।

অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে বিনোদ খান্না যে কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেছেন সেগুলি সুপারহিট হওয়ার জন্য একসময় তাঁদের দু’জনের নাম দর্শকদের মুখে একসঙ্গে উচ্চারিত হত। জনপ্রিয়তার বিচারে কে এগিয়ে তা নিয়ে সেইসময় হিন্দি সিনেমাপ্রেমী জনসাধারণের মধ্যে তর্কবিতর্কও হত। কখনও কখনও অমিতাভের থেকেও বেশি পারিশ্রমিক পেয়েছেন ।

অভিনয়ের পাশাপাশি সাংসারিক জীবনেও যত্নবান ছিলেন বিনোদ খান্না। কোনও নায়িকার সঙ্গে বিতর্কে জড়াননি। তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি এবং দুই ছেলে অক্ষয় খান্না ও রাহুল খান্না। হিন্দি ছবির নায়ক হিসেবে একসময় বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেন অক্ষয়ও।

১৯৮২ তে হঠাৎ ফিল্ম ছেড়ে ধর্মগুরু রজনীশের আমেরিকার আশ্রমে গিয়ে পুরোপুরি সাধু বনে যান বিনোদ খান্না। এর ফলে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ডিভোর্স হয়। বছর পাঁচেক পর আবার বলিউডে ফেরেন বিনোদ। ‘ইনসাফ’,‘সত্যমেব জয়তে’ ‘চাঁদনি’ প্রভৃতি ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রতিভার ঝলক দেখা গিয়েছিল। অবশ্য পরে তিনি আবার বিয়ে করেন।

অভিনেতার পাশাপাশি একজন সফল রাজনীতিকও ছিলেন তিনি। গুরুদাসপুরের এই সাংসদ কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রীও হয়েছিলেন।

গোয়ালিয়রের রাজমাতা শ্রীমতী বিজয়রাজে সিন্ধিয়ার জীবনী নিয়ে জয়পুরে পরিচালক গুলবাহার সিং ‘এক থি রানি অ্যায়সি ভি’ ছবিটি করছিলেন। এটি তাঁর শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি। বিজয়রাজের (হেমা মালিনী) স্বামী জীবাজী রাওয়ের চরিত্রে অভিনয় করছিলেন বিনোদ।

আশা ভোঁসলের চোখে তিনি এখনও  ‘একজন সুন্দর পুরুষ এবং শেষদিন পর্যন্ত তারকা’।‘কুরবানি’ ছবিতে ফিরোজ খান তাঁকে বলেছিলেন, ‘মারলে খুব বেশি আর কী হত! ফওলাদি আদমি হো, গোলি টকরাকে ওয়াপস চলা আতা।’‘ব্যক্তিগত ক্ষতি’… শত্রুঘ্ন সিনহা শুধু এটুকুই বলতে পেরেছেন। ‘মেরে আপনে,’ ‘বম্বে ৪০৫’ এবং ‘দো ইয়ার’ ছবিতে শত্রুঘ্ন সিনহার সহঅভিনেতা ছিলেন বিনোদ। আর দীর্ঘদিনের বন্ধুও।

ঋষি কাপুর ট্যুইটারে লিখলেন, ‘অমর তোমাকে মিস করব। তোমার সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত চিরদিন মনে থাকবে।’ কারণ তিনি তো অ্যান্টনি ঋষি কাপুরের বড়দা হিসাবেই পরিচিত। আর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু রজনীকান্ত বলেছেন, ‘আমার কাছের বন্ধু বিনোদ খান্না আর নেই। তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।’

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

17 − five =