বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবদুল মান্নান

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail
অধ্যাপক আবদুল মান্নান
অধ্যাপক আবদুল মান্নান

বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের আচার্য  মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল মান্নানকে আগামী চার বছরের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করেছেন ।

শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২০১২ সালে তিনি ‘মার্কেন্টাইল ব্যাংক গোল্ড মেডেল ‘ এবং একই বছর তিনি ‘ইউনেস্কো’ পুরস্কারে ভূষিত হন ।

প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ প্রফেসর আবদুল মান্নানের জন্ম চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ির নিজ বাড়িতে । চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আবদুস সালাম এবং সালেমা খাতুনের জ্যেষ্ঠ সন্তান আবদুল মান্নান । চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মিশনারী স্কুল সেন্ট প্লাসিড’স হাই স্কুল, সরকারি কমার্স কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের  কৃতি ছাত্র অধ্যাপক আবদুল মান্নান ।

ছাত্রজীবনে প্রতিটি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগ অথবা প্রথম শ্রেনীতে উত্তীর্ণ হয়েছেন অধ্যাপক আবদুল মান্নান । তাঁর অধ্যয়ন ও গবেষনার বিষয় ‘কৌশলগত ব্যবস্থাপনা’ ।

১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে শিক্ষকতায় যুক্ত হবার প্রাক্কালে সে বছরের  ৬ আগষ্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য সাহিত্যিক আবুল ফজলের অনুরোধে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচারার হিসেবে যোগ দেন আবদুল মান্নান।

১৯৭৬ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বৃত্তি নিয়ে সে দেশে  স্নাতকোত্তর  ডিগ্রী অর্জন করতে যান । তিনি হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়, মায়ামী ইউনিভার্সিটি, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ওহাইও তে অধ্যয়ন করেন ।সেখান থেকে ফিরে এসে তিনি পুনরায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন ।

পরবর্তীকালে অধ্যাপক মান্নান ব্যবস্থাপনা  বিভাগের সভাপতি, অনুষদের ডিন, সিনেট, সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল, বোর্ড অব এডভান্সড ষ্টাডিস, ফাইনান্স কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন ।

১৯৮৯ সালে তিনি বিশ্বব্যাংকের ‘ফেলোশিপ’ নিয়ে ওহাইও ষ্টেট ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপর উচ্চতর গবেষণা করেন অধ্যাপক আবদুল মান্নান । ১৯৯৪ সালে প্রফেসর মান্নান নেদারল্যান্ডস পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের আমন্ত্রনে রটারড্যামে এক মাসব্যাপি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন । ১৯৯৮ সালে তিনি বৃটিশ কাউন্সিল ফেলোশিপের অধীনে চেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘উচ্চ শিক্ষা প্রশাসন’ এর উপরও বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন ।

প্রফেসর মান্নান পর পর দু’বার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, একবার সভাপতি ও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব নির্বাচিত হন । ১৯৯৬ সালে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। এই পদে ২০০১ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক আবদুল মান্নান ।এই সময় কালে তিনি ষ্ট্যান্ডিং কমিটি অব ভাইস চ্যান্সেলর্স ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন ।১৯৯৭-৯৯ মেয়াদ কালে তিনি লন্ডন এসোসিয়েশন অব  কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটিজেস এর  নির্বাহী সদস্য ছিলেন ।

১৯৯৭ সালে প্রফেসর মান্নান বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের খন্ডকালিন সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন ।

ইতোপূর্বে তিনি নিয়মিত বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) , বাংলাদেশ ন্যাভাল একাডেমি, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ট্রেনিং ইন্সটিটিউটে নিয়মিত ক্লাস নিতেন ।

প্রফেসর আবদুল মান্নান সার্ক চার্টার প্রাপ্ত ‘এসোসিয়েশন অব ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিউটিউশান’ এর ইন সাউথ ইষ্ট এশিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ।

১৯৯৮-৯৯ মেয়াদে তিনি ‘প্রফেসর শামসুল হক শিক্ষা কমিশনে’র সদস্য ছিলেন ।

প্রফেসর আবদুল মান্নানের  ত্রিশটির মতো  আন্তর্জাতিক ও দেশীয় প্রকাশনা রয়েছে । তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা নয়টি । তিনি দেশে ও বিদেশে অসংখ্য আন্তর্জাতিক সেমিনার কন্ফারেন্সে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন । বর্তমানে তিনি ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আটর্স বাংলাদেশে শিক্ষকতা করেন এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের একজন উপদেষ্টা । এর পূর্বে তিনি সাত বছর ইষ্ট ওয়েষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও ডীন এর দায়িত্ব পালন করেছেন ।  বর্তমানে তিনি দেশে ও দেশের বাইরে ছ’টি জাতীয় দৈনিকে সমসাময়িক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়, অর্থনৈতিক বিশ্লেষন ইত্যাদি বিষয়ে মন্তব্য প্রতিবেদন লিখেন ।প্রফেসর আবদুল মান্নানের একমাত্র সন্তান ফারজানা মান্নান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 × 2 =