বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের সংহতির দিন আজ :মহান মে দিবস

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail
maydayphotoআজ মহান মে দিবস। বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের সংহতির দিন ১৮৮৬ সালের এইদিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোসহ বড় বড় শহরে শ্রমিকরা দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ ও শ্রমের ন্যায্য মজুরির দাবিতে সর্বাত্মক ধর্মঘট শুরু করেন। বিৰুব্ধ শ্রমিকরা মালিকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে মিছিল-সমাবেশ করেন। এর আগে শ্রমিকদের সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কাজ করতে হতো। দৈনিক ১৪-১৮ ঘণ্টা শ্রম দেয়ার পরও শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হতো। শ্রমিকের তিল তিল শ্রমের ওপর ভিত্তি করে সভ্যতা গড়ে উঠলেও, শ্রমিকরা বরাবরই ছিল উপেক্ষিত। এমনকি শ্রমিকদের নির্দিষ্ট কোন ছুটির দিনও ছিল না।Labour right
শোষণ-বঞ্চনার প্রতিবাদে শ্রমিকরা ১৮৮৬ সালের ১ মে থেকে যে আন্দোলনের সূচনা করে তা চুড়ান্ত পরিণতির দিকে এগিয়ে যায় ৩ ও ৪ মে’তে। শিকাগো শহরের ওই শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশের বেপরোয়া গুলিতে কমপক্ষে ১০ শ্রমিক নিহত এবং বহু আহত হন। অনেক শ্রমিক নেতাকে গ্রেফতার করে দিনের পর দিন আটক করে রাখা হয়। গ্রেফতারকৃত শ্রমিকদের মধ্যে ৭ জনকে মৃতু্দন্ডে দন্ডিত করা হয়। শ্রমিক আন্দোলনের এই  রক্তাক্ত অধ্যায়কে চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক প্যারিস কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৮৯০ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে ‘মে দিবস’ পালিত হয়ে আসছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে মে দিবস উদযাপিত হচ্ছে। 
শ্রমিকদের বঞ্চনার ইতিহাস নতুন নয়। সব যুগে সব সমাজে এটি ছিল। শ্রমিকদের ঘামে মালিকদের প্রাসাদোপম অট্টালিকা তৈরি হলেও, অনেক শ্রমিককে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়। দিন-রাত শ্রম দিয়েও জীবনের ন্যূনতম চাহিদা তারা পূরণ করতে পারেন না। অনেক সময় শ্রমিক সমাজ তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য পথে নামতে বাধ্য হন। আমাদের দেশেও যথাযোগ্য মর্যাদা ও গুরুত্বসহকারে এই দিবসটি পালিত হয়। 
শ্রমিক কল্যাণে আমাদের দেশে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণ সুনিশ্চিত হয়েছে তা বলা যাবে না। গার্মেন্টস শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য বেতন ও সুযোগ-সুবিধা আদায়ের জন্য রাসত্মায় নামেন। সেখানে ছোটখাটো সহিংস ঘটনাও ঘটে। শুধু গার্মেন্টস শ্রমিক নয়, এর আগে নৌ ও বন্দর শ্রমিকরাও ন্যায্য মজুরির জন্য পথে নামেন।
দেশের রফতানিমুখী পোশাক শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের বঞ্চনার ইতিহাস নতুন নয়। দৈনিক ১২-১৪ ঘণ্টা কাজ করে অনেক শ্রমিকই ন্যায্য মজুরি পান না। তার ওপর বেতন বকেয়া, কথায় কথায় শ্রমিক ছাঁটাই, লকআউট ইত্যাদি কারণেও শ্রমিকদের দুঃখ, দুর্দশার অনত্ম থাকে না। আবার অনেক ফ্যাক্টরির কাজের পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত নয়।
বিভিন্ন সময় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকার দরুণ, অনেক শ্রমিককে দুর্ঘটনায় প্রাণ দিতে হয়েছে। দুর্ঘটনা মোকাবেলার জন্য কারখানাগুলোতে আলাদা সিঁড়ি থাকার কথা থাকলেও কোন কোন কারখানায় তা নেই। চা, চামড়া, পাটসহ অন্যান্য শিল্পের শ্রমিকদের চিত্রও প্রায় একই। একটা কথা সকলকে স্মরণ রাখতে হবে, শ্রমিক স্বার্থ সংরক্ষণ ব্যতীত যেমন শিল্পের বিকাশ সম্ভব নয়, তেমনি অহেতুক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা শিল্পের ক্ষতি সাধন শ্রমিকদের ভাগ্য বিড়ম্বনাই বাড়াবে ।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

thirteen − 5 =