বিয়ের বয়সসীমা শিথিল করার বিশেষ বিধান রেখে বাল্যবিবাহ নিরোধ বিল-২০১৭ সংসদে পাস

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সংসদ বার্তা পরিবেশক: নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স যথাক্রমে ১৮ এবং ২১ বছর নির্ধারণ করা হলেও ‘বিশেষ প্রেক্ষাপটে’ বিয়ের বয়সসীমা শিথিল করার বিশেষ বিধান রেখে সংসদে বাল্যবিবাহ নিরোধ বিল-২০১৭ পাস করা হয়েছে। গতকাল দশম জাতীয় সংসদের ১৪তম অধিবেশনের ২৩তম কার্যদিবসে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম, সেলিম উদ্দিন ও বেগম রওশন আরা মান্নান বিলের ওপর জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাব আনলে তা কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।

সরকারের অনুমোদিত বিলে ‘বিশেষ প্রেক্ষাপটে’ শুধু মেয়েদের বয়সসীমা শিথিলের প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। সংসদীয় কমিটি পুরুষদেরও এ সুবিধার আওতায় আনার বিষয়টি যুক্ত করে। এ আইন পাস হওয়ায় মেয়ে ও ছেলেদের বিয়ের ন্যুনতম বয়স আগের মতো ১৮ ও ২১ বছর বহাল থাকলেও ‘বিশেষ প্রেক্ষাপটে’ তার কম বয়সেও বিয়ের সুযোগ তৈরি হলো।

এ বিলের অন্য বিধানে যা কিছুই থাকুক না কেন, কোন বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্ত বয়স্ক কোন নারীর সর্বোত্তম স্বার্থে, আদালতের নির্দেশ এবং পিতামাতার সম্মতিক্রমে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণক্রমে বিবাহ সম্পাদিত হলে তা এ আইনের অধীন অপরাধ বলে গণ্য হবে না বলে বিলে বিশেষ বিধান করা হয়েছে। এখানে সংসদীয় কমিটি ‘কোনো নারীর’ শব্দটি বাদ দিয়ে শুধু ‘অপ্রাপ্তবয়স্ক’ এবং ‘মাতা-পিতা’র সঙ্গে ‘প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিভাবকের’ সম্মতির শব্দটি যোগ করেছে।

বিলে বিধিমালা দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের জন্য জাতীয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতিরোধ কমিটি গঠন ও এর কার্যাবলি নির্ধারণের বিধান করা হয়েছে। বিধিমালায় স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা এবং স্থানীয় পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তির সমন্বয়ে এ কমিটি গঠনের বিধান করা হয়েছে।

বিলে বাল্যবিয়ে বন্ধে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধির সাধারণ ক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক বা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, থানার ওসি বা স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি কোন ব্যক্তির লিখিত বা মৌখিক আবেদন অথবা অন্য কোন মাধ্যমে বাল্যবিয়ের সংবাদ পেলে তিনি ওই বিয়ে বন্ধ করবেন। অথবা বিধিমালার দ্বারা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

বিলে স্বউদ্যোগে বা কোন অভিযোগের ভিত্তিতে অথবা অন্য কোন মাধ্যমে তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়ে আদালত কোন বাল্যবিয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গকারীকে ৬ মাসের কারাদন্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত এবং অনাদায়ে আরও ১ মাসের কারাদন্ডে দন্ডিত করার বিধান করা হয়েছে।

বিলে বাল্যবিয়ের ক্ষেত্রে মিথ্যা অভিযোগজনিত অপরাধে অনধিক ৬ মাস কারাদন্ড বা অনধিক ৩০ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত এবং অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ১ মাস কারাদন্ডে দন্ডিত করার বিধান করা হয়েছে।

বিলে বাল্যবিয়ে করলে প্রাপ্তবয়স্ক নারী বা পুরুষ, যিনি দায়ী হবেন তাকে অনধিক ২ বছর কারাদন্ড বা অনধিক ১ লাখ টাকা অর্থ দন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত এবং অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ৩ মাস কারাদন্ডে দন্ডিত করার বিধান করা হয়েছে। তবে অপ্রাপ্ত বয়স্ক নারী বা পুরুষের ক্ষেত্রে অনধিক ১৫ দিনের আটকাদেশ বা অনধিক ৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় ধরনের শাস্তিযোগ্য করার বিধান করা হয়েছে।

বিলে বাল্যবিয়ে সংশ্লিষ্ট পিতামাতাসহ অন্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে বাল্যবিয়ের জন্য অনধিক ২ বছর ও অনূ্যন ৬ মাস কারাদন্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত এবং অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ৩ মাস কারাদন্ডে দন্ডিত করার বিধান করা হয়েছে।

বিলে বাল্যবিয়ে সম্পাদন বা পরিচালনাকারীর ক্ষেত্রে অনধিক ২ বছর ও অনূ্যন ৬ মাস কারাদন্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত এবং অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ৩ মাস কারাদন্ডে দন্ডিত করার বিধান করা হয়েছে।

বিলে বাল্যবিয়ে নিবন্ধকের ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল, তাকে অনধিক ২ বছর ও অনূ্যন ৬ মাস কারাদন্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত এবং অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ৩ মাস কারাদন্ডের বিধান করা হয়েছে।

এছাড়া বিলে বাল্যবিয়ে বন্ধে উদ্যোগী হতে শর্তে বাল্যবিয়ের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি, বয়সের প্রমাণের দলিল, ক্ষতিপূরণ প্রদান, অপরাধের আমলযোগ্যতা, জামিন যোগ্যতা এবং অ-আপসযোগ্যতা, বিচার পদ্ধতি, সরেজমিনে তদন্ত, মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯-এর প্রয়োগ, অপরাধ গ্রহণ ও আমলের সময়সীমাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিধান করা হয়েছে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

two × two =