‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’ ঘোষণা: ৫ দফা দাবি

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

দীর্ঘ আলোচনার পর এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বি. চৌধুরী) ও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’ গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এসেছে।
শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’র ৫ দাবি ও ৯ লক্ষ্য ঘোষণা করেন ড. কামাল। বিএনপির মতো তাদেরও প্রধান দাবি সংসদ ভেঙে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন।
বি. চৌধুরীর অসুস্থ হওয়ায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হতে পারেনননি।
তাদের দাবিগুলো হলো- তফসিলের আগে জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে সব দলের সঙ্গে আলোচনায় নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, সভা সমাবেশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার নিশ্চিয়তা, রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার- রাজবন্দির মুক্তি, নির্বাচনে আগে পরে ৪০ দিন বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়ন এবং ইভিএম ব্যবহারের চিন্তা বাদ দেওয়া।
গত বছরের ডিসেম্বরে বি. চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা, বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, আ স ম আবদুর রবের জেএসডি এবং মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য মিলে নতুন জোট যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। কাদের সিদ্দিকী যুক্তফ্রন্ট ত্যাগের পর ড. কামালের গণফোরামকে নিয়ে ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া’ গঠিত হয়। বিএনপি স্বাগত জানালেও আওয়ামী লীগ বিষয়টি নিয়ে বলছে, ঐক্যের নামে ষড়যন্ত্র চলছে।
শনিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের আগে ড. কামাল হোসেন, আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বে একটি মিছিল প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে শহীদ মিনারের দিকে রওনা হয়। ড. কামাল ও মান্না গাড়িতে করে আর অন্যান্যরা হেঁটে রওনা দেন। মিছিলটি কিছুদূর গিয়ে থেমে যায়।
আ স ম রব অভিযোগ করেন, তারা শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকারের বাধায় যেতে পারেননি। তারা শুনেছেন, শহীদ মিনারকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছেন।

কিন্তু জাতীয় ঐক্য সহিংসতায় যেতে চান না। তাই শহীদ মিনারের পরিবর্তে প্রেস ক্লাবে তাদের কর্মসূচি পালন করবেন।
আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষ্যে ঐক্য গঠনের ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন থেকে তাদের পাঁচ দফা দাবি জানান ড. কামাল হোসেন।

তিনি বলেছেন, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় সবাইকে চাই। গ্রামে-গ্রামে এবং ঘরে-ঘরে ঐক্য গড়ে উঠুক। গণতন্ত্রকে আবারো প্রতিষ্ঠা করতে পারবো বলে বিশ্বাস করি।
ড. কামাল বলেন, বৃহত্তর ঐক্য গড়তে তারা যৌথ ঘোষণা তুলে ধরেছেন। এ ঘোষণার অধীনে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। এর মাধ্যমে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য শুরু হলো। ঐক্যের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সামনেও কর্মসূচি হবে।

‘জাতীয় ঐক্য’ আগামী নির্বাচনে বিএনপির কাছে ১৫০ আসন দাবি করেছে। মালয়েশিয়ার আদলে দুই বছরের জন্য সরকার গঠনের সুযোগ চায় তারা।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ক্ষমতায় যেতে পারলে তাদের প্রতিশ্রুত ৯টি লক্ষ্য তুলে ধরেন- জাতীয় ঐক্যের অন্যতম লক্ষ্য; ব্যক্তিকেন্দ্রিক নির্বাহী ক্ষমতা অবসানে সংসদ, সরকার, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা এবং প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ, ন্যায়পাল নিয়োগ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকর করা। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন ও সাংবিধানিক পদে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ ও সৎ যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগে কমিশন গঠন।।
দুর্নীতি দমন কমিশনকে যুগোপযোগী করা, বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টি করে বেকারত্বের অবসান, সবার শিক্ষা-স্বাস্থ-পুষ্টি নিশ্চিত করা, জনপ্রশাসন, পুলিশ, স্থানীয় সরকারকে দুর্নীতি ও দলীয়করণ থেকে মুক্ত করাও জাতীয় ঐক্যের লক্ষ্য বলে জানান মাহমুদুর রহমান।
‘সংস্কারপন্থি’ হয়ে দল ছাড়া আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মান্না বলেছেন, জনসমর্থনহীন, অনির্বাচিত একটি সরকার দেশ শাসন করছে। সন্ত্রাস, গ্রেফতার, মিথ্যা মামলা ও পুলিশ প্রশাসন ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে আছে। জনসমর্থন নিয়ে কেউ যাতে ক্ষমতায় যেতে না পারে, তাই গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা সুলতান মো. মনসুর, জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, ফরোওয়ার্ড পার্টির সভাপতি আ ব ম মোস্তফা আমিন প্রমুখ।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

thirteen + twelve =