বৈশ্বিক তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে -‘হটহাউজ আর্থ’ ক্লাইমেট সিনারিও

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বৈশ্বিক তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা ৷ তাঁদের মতে, এটা হলে নিউ ইয়র্ক ও সিডনির মতো উপকূলীয় অনেক শহর ও দ্বীপে আর মানুষের বসতি থাকবে না ৷ জার্মানি, সুইডেন, ডেনমার্ক ও অস্ট্রেলিয়ার একদল বিজ্ঞানীর একটি যৌথ গবেষণায় হতাশাজনক এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে৷ তাঁরা বলেছেন, প্যারিস জলবায়ু চুক্তির লক্ষ্য অর্জন হলে এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বৃদ্ধি প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলেও জলবায়ু পরিবর্তন বিপর্যয়কর পর্যায়ে চলে যেতে পারে৷

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও সুইডিশ রিসার্চ ইনস্টিটিউট স্টকহোম রেজিলিয়েন্স সেন্টারের জলবায়ু গবেষক উইল স্টেফেন বলেন, ‘‘মানুষ যে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করে, সেটাই পৃথিবীর তাপমাত্রার মূল নিয়ামক নয়৷ আমাদের গবেষণা বলছে, মানবসৃষ্ট কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে তা পৃথিবীর অন্যান্য ব্যবস্থায়ও প্রভাব ফেলবে, যাকে ‘ফিডব্যাক’ বলা হয়৷ এটা আরও উষ্ণতা তৈরি করতে পারে, এমনকি আমরা গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ বন্ধ করলেও তা হতে পারে৷”

এ ঘটনায় বৈশ্বিক উষ্ণায়ন দীর্ঘমেয়াদে প্রাক-শিল্প যুগের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে বলে গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে৷ উষ্ণতা এভাবে বাড়লে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা ১০ থেকে ৬০ মিটার বাড়বে৷ ভেনিস, নিউ ইয়র্ক, টোকিও ও সিডনির মতো উকূলীয় অনেক শহর প্লাবিত হবে৷ এ ধরনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ শহরে আর মানুষের বসবাস থাকবে না৷

প্রসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস বা পিএনএএসে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বৈষ্ণিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি বৃদ্ধিতে ক্লাইমেট সিস্টেম কেমন হবে, তা বেশ কয়েকটি মডেলে বিশ্লেষণ করা হয়েছে৷

হিমবাহের গলন, হিমৈশল গলে যাওয়া, সমুদ্রে ব্যাকটেরিয়া ও কার্বন সিংক দুর্বল হয়ে পড়ার মধ্যে সম্পর্ক ও চেইন রিঅ্যাকশন দেখা গেছে৷

ফিডব্যাক প্রক্রিয়া হিসেবে জলবায়ুর পরিবর্তন, বনের ওপর প্রভাব ও হিমৈশলের গলনেতাতে বিদ্যমান কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেনের মতো গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ ঘটে তা পরিবেশের অন্যান্য ‘শত্রুদের‘ ওপর প্রভাব ফেলে৷ এতে দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিভিন্ন উপাদানে সংরক্ষিত কার্বন নিঃসরণ ঘটে তা বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে৷

ফিডব্যাক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তুষারপাত, বজ্রঝড় হয়ে থাকে বলে জানান স্টকহোম রেজিলিয়েন্স সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক জোহান রকস্ট্রম৷

‘‘এ সব টিপিং এলিমেন্ট সারিবদ্ধ ডোমিনোর মতো আচরণ করে৷ একবার কোনোটা দুর্বল হলে সেটা পৃথিবীর সিস্টেমের আরেকটিকে আঘাত করে৷ সব ডোমিনোকে ধসের হাত থেকে রক্ষা করা খুব কঠিন বা অসম্ভব হয়ে ওঠে৷”

এরপর পৃথিবী ক্রমশ বাড়তে থাকা তাপমাত্রায় উষ্ণ হতে থাকে৷ এমনকি মানুষ পুরোপুরি গ্রিন হাউস নিঃসরণ বন্ধ করলেও তা হতে থাকবে৷

‘‘যদি ‘হটহাউজ আর্থ’ বাস্তবে হয়, তাহলে পৃথিবীর অনেক জায়গা বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়বে,” বলেন রকস্ট্রম৷

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

nineteen + 6 =