ভারত-বাংলাদেশের সমুদ্রোপকূলে ক্রুজ ভ্রমণএবং নৌপথে পণ্য পরিবহন-দিল্লীতে ২৪ ঘন্টার মধ্যে যুগান্তকারী ২ চুক্তি স্বাক্ষর

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সরাসরি চেন্নাই থেকে বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিনস দ্বীপ অথবা ঢাকার কাছে নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর থেকে পর্যটকরা যেতে পারবেন ভারতের বিশাখাপত্তনমে।ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সমুদ্রোপকূল ঘেঁষে দুদেশের পর্যটকরা যাতে ক্রুজ বা প্রমোদতরীতে ভ্রমণ করতে পারেন, তার জন্য দু’দেশের মধ্যে আজ দিল্লিতে একটি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। দিল্লিতে আজ থেকে ভারত ও বাংলাদেশের জাহাজ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের মধ্যে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তাতেই নৌপথে পর্যটকদের সফর করার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। সোমবার সন্ধ্যায় এই সংক্রান্ত সমঝোতায় সই করলেন ভারতের নৌপরিবহন সচিব রাজীব কুমার ও বাংলাদেশে তাঁর কাউন্টারপার্ট শফিক আলম মেহেদি।বাংলাদেশে জাহাজ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রকৌশলী ফখরুল ইসলাম বলেন, এই চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে এই উপমহাদেশে বহু বছরের পুরনো একটি সমুদ্রপথ জিইয়ে তোলা হচ্ছে। তিনি বিবিসিকে আরো বলেন,‘ব্রিটিশ আমলে বা তারও আগে এই পথে জাহাজ চলাচল করত।এখন আবার আমরা সেটাই চালু করতে চাইছি। আজ যে সমঝোতাপত্র চূড়ান্ত হয়েছে, তার ভিত্তিতে দুই সরকার স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর চূড়ান্ত করবেন, যাতে বলা হবে কী পদ্ধতিতে এই জাহাজ-চলাচল হবে। এরপরই যাত্রী বা পর্যটক পরিবহন শুরু হবে বলে আমাদের আশা।’

ভারত- বাংলাদেশ  দুই প্রতিবেশী একই বঙ্গোপসাগরের তটরেখায় অবস্থিত হলেও ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর দু’দেশের মধ্যে কোনও জাহাজ চলাচল  ছিল না বললেই চলে। যাত্রী পরিবহন তো নয়ই, দ্বি-পাক্ষিক স্তরে নৌপথে সরাসরি পণ্য পরিবহনের পদ্ধতিও এতদিন স্থগিত ছিল।গত চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে সেই দুটো বাধাই প্রায় পর পর দূর হয়ে গেল – প্রথমে কোস্টাল শিপিংয়ের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের প্রোটোকলে স্বাক্ষর করলেন দুই দেশের কর্মকর্তারা – একই সাথে দু’দেশের মধ্যে যাত্রী বা পর্যটক পরিবহনের প্রস্তাবও তুমুল উৎসাহের সঙ্গে অনুমোদিত হয়ে যায়।

থাইল্যান্ড বা সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়ার উপকূল ঘেঁষে প্রমোদতরণীতে ভ্রমণ বা ক্রুজ সফর খুব জনপ্রিয়। অথচ বঙ্গোপসাগরের ভারত-বাংলাদেশ এলাকায় সেই ক্রুজের কিন্তু কোনও  প্রচলন নেই।তবে ভারত ও বাংলাদেশ আশা করছে এই রুটে যাত্রীদের মধ্যে ভাল চাহিদা থাকবে, সড়ক বা রেলপথের ঝক্কিঝামেলা এড়িয়ে দু’দেশের যাত্রীরাই সমুদ্রপথে প্রমোদভ্রমণে যেতে পছন্দ করবেন।ক্রুজের জন্য বড় জাহাজপথে কোস্টাল রুট বা ছোট নৌযানে প্রোটোকল রুটে ভারতীয় যাত্রীদের হাতের নাগালে এসে যাবে সুন্দরবন বা সেন্ট মার্টিন্স,বিবিসিকে বললেন ফখরুল ইসলাম।এই যাত্রী পরিবহন শুরু হতে প্রায় বছরখানেক লেগে যাবে বলে দু’দেশের কর্মকর্তা ধারণা করছেন।তবে এর আগেই শুরু হবে দু’দেশের মধ্যে উপকূলপথে কার্গো বা পণ্য পরিবহন।

ভারতের পারাদ্বীপ বা চেন্নাই বন্দর থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে এতদিন পণ্য আসতো কলম্বো বা সিঙ্গাপুর বন্দর ঘুরে – কিন্তু বেশ কয়েক সপ্তাহের লম্বা সেই নৌযাত্রাই এখন কমে আসবে মাত্র কয়েকদিনে। তবে এককথায়, পণ্য ও যাত্রী পরিবহন দু’টো ক্ষেত্রেই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সমুদ্রপথের এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

eleven + 2 =