ভারতীয় জাহাজ এবং বিমানে ইয়েমেনে আটক বাংলাদেশীদের উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

yemen-bangladeshi“প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্ধার প্রক্রিয়া নির্ভর করছে কে কোথায় অবস্থান করছেন তার উপরে”  বিবিসি কে জানালেন কুয়েতে বাংলাদেশের কাউন্সিলর এস এম মাহবুবুল আলম । তিনি আরো জানান , যারা তীরবর্তী এলাকায় আছেন তাদেরকে জাহাজে করে, যারা শহরাঞ্চলে আছেন তাদেরকে প্লেনে করে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান । এছাড়া যারা সীমান্ত এলাকায় আছেন তাদেরকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পাশের দেশ থেকে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। ইয়েমেনের প্রতিবেশী ৩টি দেশ রয়েছে। ওমান, সৌদি আরব আর জিবুতি।  এই ৩টা দেশ আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে। এছাড়া ‘ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন’ সংস্থাটির সহযোগিতা নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে ভারতের সাথে কথাবার্তা ফাইনাল হয়ে রয়েছে। তাদের জাহাজে যতটুকু সম্ভব বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনার কথা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, “আমরা এখন জিবুতিতে যাচ্ছি। ক্ষেত্রবিশেষে হয়তো ইয়েমেনে ঢুকতে হবে। অনেকের পাসপোর্ট নেই। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। সেখান থেকে বের হতে হলে ট্রাভেল পারমিট দরকার। সেখানে ভারতীয় এ্যাম্বাসী আছে। আমাদের অনারারী কনসাল আছে। সুযোগমত তাদের মাধ্যমে বাংলাদেশীদের বের করে আনা হবে।

বিবিসিকে এক প্রবাসী জানিয়েছিলেন ইয়েমেনে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশী রয়েছে। এ সম্পর্কে বাংলাদেশী কূটনৈতিক মাহবুবুল আলম বলেন, আমার মনে হয় না ইয়েমেনে এতো প্রবাসী রয়েছে। আমার সাথে বিভিন্ন দলের কথা হয়েছে। অনেকেই অনুমানের উপর তথ্য দেয় পরে তারা নিজেরাই তা প্রমান করতে পারে না।

ইয়েমেনের বন্দর নগরী এডেনে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ দখল করে নিয়েছে বিদ্রোহীরা। প্রেসিডেন্টের অনুগত বাহিনী ও শিয়া হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে লড়াই আরো তীব্র হয়েছে। বিদ্রোহীদের উপর প্রতিবেশী দেশ সৌদি আরবের বিমান হামলা সত্ত্বেও এডেন বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ পরিস্থিতির মধ্যে আটকে পড়েছে প্রবাসী বাংলাদেশীরা।

আটকে পড়া প্রবাসীদের নিরাপদে বাংলাদেশীদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছে বাংলাদেশ সরকার। এজন্য কুয়েত থেকে দুজন বাংলাদেশী কূটনৈতিক  জিবুতির পথে রওনা দিয়েছেন। সেখান থেকে তারা ইয়েমেনে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের উদ্ধারের চেষ্টা করবেন।

দুই কুটনৈতিকদের একজন কুয়েতে বাংলাদেশের কাউন্সিলর এস এম মাহবুবুল আলম জানিয়েছেন, ইয়েমেনের বাংলাদেশীদের সাথে তাদের যোগাযোগ হয়েছে। কোন এলাকায় কতজন বাঙালী আছেন তা এখন তা জানার চেষ্টা চলছে। অনেকে যোগাযোগের মধ্যে চলে এসেছেন। আমরা কিছু সতর্কতামূলক লিফলেট ছড়িয়েছি। তিনি বলেন, লিষ্টে এখন পর্যন্ত ৪০০ জনের নাম এসেছে।

যাদের সাথে কথা হয়েছে তারা কেমন আছে জানতে চাইলে এই কূটনৈতিক বলেন, প্রথমদিকে তারা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। আগে তারা তাদের পরিচিত দু চারজনের সাথে যোগাযোগ রাখতেন। অন্যান্য শহরে অবস্থানরত প্রবাসীদের সাথে যোগাযোগ ছিলো না। আমাদের সাথে যোগাযোগের পর সব গ্রুপের সবার সাথেই যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে তাদের দুশ্চিন্তা একটু কমেছে। তারা যেন রাত্রে বাসা থেকে বের না হন এবং ঝামেলা এড়িয়ে চলেন এমন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমরা যতদুর জেনেছি তারা ভাল আছেন।

তিনিবিবিসি

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

fifteen − 14 =