ভারতের কেরলে মসজিদে ঐক্যের বার্তাসমেত ক্যাথলিক ফাদার

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ভারতের কেরলবাসীর ঘর-বাড়ি, সম্পত্তি সবই বন্যার জলে ভেসে গিয়েছে। বেঁচে থাকার জন্য ত্রাণসামগ্রীর উপর নির্ভর করেই তাঁদের দিন কাটাতে হচ্ছে। জীবন সংগ্রামের এই লড়াইয়ে কেরলবাসী জয়ী হয়েছেন। আর এই সংগ্রামের পাশাপাশিই জাত-পাত, ধর্ম, বিদ্বেষের ভেদাভেদকেও জয় করেছেন  কেরলবাসী । কেরলের এই করুণ পরিস্থিতিতে মানুষকে উজ্জীবিত করতে গত শুক্রবার ৩১ আগস্ট কোট্টায়াম জেলার ভেচুরে জামা মসজিদে গিয়ে ভাষণ দেন সিরো-মালাবার গির্জার যাজক ফাদার সানু পুথুসেরি।

ঘটনার সূত্রপাত বেশ কয়েকদিন আগে। আচিনাকোমে সেন্ট অ্যান্টনি গির্জায় ত্রাণ শিবির বানানো হয়েছে। সেখানে প্রায় ৫৮০ জন গৃহহীন আশ্রয় নিয়েছেন। সেই গির্জায় বর্তমানে ফাদার পুথুসেরি যাজকের ভূমিকা পালন করছেন। বলতে গেলে, সেন্ট অ্যান্টনি গির্জা ইতিমধ্যেই জাত-পাত ভুলে ত্রাণ শিবির হিসেবে আপামর মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে। গির্জার হলঘর থাকার জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেখানে খাবার ও জলের প্রবল সমস্যা রয়েছে। সেই সমস্যা মেটাতেই ফাদার পুথুসেরি নিকটবর্তী ভেচুরের জামা মসজিদে বেশ কয়েকদিন আগে সাহায্য চাইতে গিয়েছিলেন। পুথুসেরি বলেন, ‘আমি সোজাসুজি মসজিদে চলে যাই। সেখানে আমাদের সমস্যার কথা জানিয়ে ইমামকে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করি। সেদিনের প্রার্থনা শেষে সংখ্যালঘু ভাইয়েরা গির্জায় এসে প্রচুর পরিমাণ খাবার ও পানি দিয়ে যান।’

এমন কী তারপর থেকে গির্জায় এসে বেশ কয়েকবার মসজিদের তরফে সাহায্য করা হয়। তারই সৌজন্যস্বরূপ গত শুক্রবার ফাদার পুথুসেরি ওই মসজিদে ধন্যবাদ জানাতে গিয়েছিলেন। এব্যাপারে তিনি বলেন, ‘ ইমাম এবং মসজিদ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানানোর জন্যই আমি সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু তাঁরা আমাকে তাঁদের প্রার্থনার ঘরে নিয়ে গিয়ে ভাষণ দিতে বলেন। এটা ঐক্যের এক অনন্য নজির।’ সেদিন মসজিদে প্রায় ২৫০ মানুষ প্রার্থনা করতে এসেছিলেন। তাঁদের সামনেই ফাদার পুথুসেরি মানবতার পক্ষে ভাষণ দেন। ১০ মিনিটের ওই ভাষণে তিনি বলেন, ‘বন্যা আমাদের সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে। কিন্তু এই বন্যার জলই আমাদের মধ্যে ভেদাভেদের বেড়াকেও ভাসিয়ে দিয়েছে।’

মানুষের উদ্দেশে ফাদারের বার্তা, ‘পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন সেতু তৈরি করো, দেওয়াল নয়। ধ্বংসাত্মক এই বন্যাই আমাদের মধ্যে ভেদাভেদের দেওয়াল ভেঙে একতার সেতুবন্ধনের সুযোগ করে দিল।’

 

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

fourteen − 10 =