ভারতের কেরালাতে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪০

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ভারতের কেরালায় এখন ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ জারি হয়েছে। সরকারিভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪০। শনিবার হেলিকপ্টারে করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বন্যাবিধ্বস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শন করবেন। ইতিমধ্যেই উদ্ধারকারী দলের প্রতিটি বিভাগই তাদের কর্মীসংখ্যা ও উদ্ধারকাজের সরঞ্জাম বৃদ্ধি করেছে। এদিন সকালেই জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা কমিটি (এনসিএমসি) কেরালার পরিস্থিতি নিয়ে দ্বিতীয়বার বৈঠকে বসে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে কীভাবে আরও গতি আনা যায় তা নিয়েই মূলত ওই বৈঠকে আলোচনা হয়। এদিন এনসিএমসির বৈঠকে ঠিক হয়, উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সেনা, নৌসেনা, উপকূলবাহিনী এবং জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা পর্ষদের কর্মীসংখ্যা ও সরঞ্জাম আরও বাড়ানো হবে। 

ইতিমধ্যেই সেখানে ৩৩৯টি মোটর বোট, ২ হাজার ৮০০টি লাইফ জ্যাকেট, ১ হাজার ৪০০টি লাইফ বোট, ২৭টি লাইট টাওয়ার এবং ১ হাজারটি রেনকোট পাঠানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, আগামী দিনে আরও ৭২টি মোটর বোট, ৫ হাজারটি লাইফ জ্যাকেট, ২ হাজারটি লাইফ বোট, ১৩টি লাইট টাওয়ার এবং ১ হাজারটি রেনকোট পাঠানো হবে। এছাড়া বন্যা-বিধ্বস্ত এলাকাগুলিতে রেলের তরফে ১,২০০টি জলের বোতল পাঠানো হয়েছে। আরও ১,২০০টি পানির বোতল পাঠানো হবে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি ১ লক্ষ খাবারের প্যাকেট সরবরাহ করা হয়েছে। আরও ১ লক্ষ খাবারের প্যাকেট সরবরাহ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। আগামী দিনে খাবারের সঙ্গে যাতে মিল্ক পাউডার সরবরাহ করা যায় সে ব্যাপারেও উদ্ধারকারী দলগুলি চিন্তাভাবনা করছে। নিমানবাহিনীর তরফে কেরালাতে ২৩টি হেলিকপ্টার এবং ১১টি এয়ারক্র্যাফ্ট পাঠানো হয়েছে।

বন্যার তোড়ে রাজ্যের অধিকাংশ রাস্তাই ধ্বংস হয়ে গেছে। রেল যোগাযোগও বিপর্যস্ত। কোচিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আগামী শনিবার পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। দেড় লক্ষের বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়ে পড়েছেন। সড়ক-সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় জলবন্দি অসংখ্য এলাকা রীতিমতো বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। শহরাঞ্চলের সুউচ্চ বহুতলের বাসিন্দারাও নিজেদের আর নিরাপদ বোধ করছেন না। বন্যাকবলিত এলাকাগুলির বিভিন্ন হাসপাতাল এবং আই সি ইউ-তে ভর্তি রোগীদের দ্রুত সরানো হচ্ছে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

five + seven =