ভারতের বর্ধমানে চাঞ্চল্যকর খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলায় ১৯ আসামির স্বীকারোক্তি

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বর্ধমানে চাঞ্চল্যকর খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলার ১৯ জন আসামি বৃহস্পতিবার আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। এই মামলায় এখন পর্যন্ত ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।২০১৪ সালের ২ অক্টোবর বর্ধমান শহরের উপকণ্ঠে খাগড়াগড়ের একটি বাড়িতে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) দুই সদস্য বিস্ফোরণে নিহত হয়।

ঘটনার তদন্তভার নেয় ভারতের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএ)। খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলার বিচার চলছে কলকাতায় বিশেষ নগর আদালতে।মামলায় এখন পর্যন্ত ৩১ জন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সবশেষ গ্রেপ্তার হয়েছে জঙ্গি জহিরুল শেখ। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ভারতের মধ্যপ্রদেশ থেকে চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে।

এনআইএর তদন্তে জানা যায়,৩৮ বছর বয়সী বোমা মিজান জেএমবির শীর্ষ নেতা এবং খাগড়াগড় বিস্ফোরণের মাস্টারমাইন্ড। তার কাজ ছিল পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে জেএমবি’র ঘাঁটি তৈরি করা।বিহারের বুদ্ধগয়ায় বৌদ্ধ ধর্মগুরু দালাইলামার সফরের প্রাক্কালে বুদ্ধগয়ায় বিস্ফোরণকাণ্ডেও জড়িত ছিল বোমা মিজান।২০১৮ সালের আগস্ট মাসে এনআইএ গ্রেপ্তার করে খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলার মূল অভিযুক্ত কাওসার ওরফে বোমা মিজানকে। ঘটনার চার বছর পর এনআইএ বোমা মিজানকে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরুর রামনগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ।

এনআইএর তদন্তে জানা যায়, জহিরুল শেখ এই জঙ্গি দলের ন্যানো গাড়ির ড্রাইভার। ঘটনার পর তদন্তে নেমে এনআইএ জব্দ করেছিল সেই ন্যানো গাড়ি। জহিরুল বর্ধমানের শিমুলিয়া মাদ্রাসা থেকে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে এনআইএ খুঁজছিল জহিরুলকে।এর আগে কাওসারকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য এনআইএ ১০ লাখ রুপি পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করেছিল।

মামলার বিচারের ধার্য তারিখে শুক্রবার হাজির করা হয় আসামিদের। মামলার বিচারক সিদ্ধার্থ কাঞ্জিলালের কাছে আগেই পেশ করা হয়েছিল ১৯ আসামির দোষ স্বীকার করার আবেদন। বিচারক জানতে চান, তারা কারও প্ররোচনায় দোষ স্বীকার করার আবেদন করেছে, নাকি স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করছে। এরপর একে একে ১৯ আসামি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বোমা বিস্ফোরণ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।তবে ওই দিন মূল অভিযুক্ত কাওসর ওরফে বোমা মিজান, কদর গাজি, ডালিম শেখ, ইউসুফ শেখ দোষ স্বীকার করেনি।

তার আগে বিচারক বলেন, দোষ স্বীকার করলে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে, তা তারা জানে কিনা। আসামিরা বলে তারা জানে। তখন আদালত বলেন, ‘তবু দোষ স্বীকার করছেন?’ আসামিরা উত্তর দেয়, ‘হ্যাঁ।’ তারা বলে, তারা তাদের সম্ভাব্য শাস্তি সম্পর্কে অবগত । ওই দিন বিচারক এই মামলার প্রধান তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, যারা দোষ স্বীকার করছে, তাদের কী শাস্তি হওয়া উচিত? জবাবে ওই তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ”আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি দিন তাঁদের।”

বোমা মিজান ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা করে দুই সঙ্গীসহ পলাতক হন। মিজান এরপর চোরাইপথে ভারতে এসে আত্মগোপন করেন। খাগড়াগড়ের যে বাড়িটিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, সেটার মালিক ছিলেন তৃণমূলের স্থানীয় এক নেতা। ওই বাড়ি ছিল জেএমবির ঘাঁটি। ওই বাড়িতে গ্রেনেড, বোমা তৈরি করা হতো। ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর দুপুরে দোতলা বাড়িটিতে বোমা তৈরির সময় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটলে দু’জনের মৃত্যু হয়। আহত হয় তিনজন। সেদিন প্রাথমিক তদন্ত শেষে পশ্চিমবঙ্গের গোয়েন্দা পুলিশ সিআইডি জানায়, নিহত দু’জন জেএমবির সদস্য। তারা হলেন শাকিল আহমেদ ও সুবহান মণ্ডল। আহত তিনজনের নাম আবদুল হাকিম, রাজিয়া বিবি ও আলিমা বিবি।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 × two =