ভারতের যুক্তিবাদী নেতা নরেন্দ্র দাভোলকরের খুনী শচীন প্রকাশরাও আন্দুরে ধৃত

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

২০শে আগস্ট। সাল ২০১৩। ঐ দিন মহারাষ্ট্রের পুনে শহরে দু’জন দুষ্কৃতী ওঙ্কারেশ্বর ব্রিজের কাছে গুলি করে খুন করে নরেন্দ্র অচ্যুত দাভোলকারকে। সারাজীবন অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কাজ করা, বৈজ্ঞানিক মেজাজ বা সায়েন্টিফিক টেম্পার গড়ে তোলার অক্লান্ত সৈনিকটির ৬৭ বছরের জীবনের সমাপ্তি ঘটেছিল এভাবেই। দাভোলকার ছিলেন মহারাষ্ট্র অন্ধ শ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতি বা মহারাষ্ট্র ‘অনিস’-এর প্রতিষ্ঠাতা। সারা মহারাষ্ট্র জুড়ে এই সংগঠনের প্রায় দুশোরও বেশি শাখা। আজীবন দাভোলকার লড়েছেন অলৌকিকতা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে। জ্যোতিষী ও সাধুবাবাদের ভণ্ডামির বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন একজন আপসহীন যোদ্ধা।

ধরা পড়লো ভারতের নরেন্দ্র দাভোলকরের খুনী শচীন প্রকাশরাও আন্দুরে। উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হাতে পাঁচ বছর আগে পুনেতে খুন হয়েছিলেন যুক্তিবাদী আন্দোলনের নেতা নরেন্দ্র দাভোলকর। সূত্রের খবর, সেই খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শচীনকে সি বি আই ভারতের ঔরঙ্গাবাদ থেকে ধরেছে। সি বি আই-র দাবি, ২০১৩ সালের ২০শে আগস্ট মর্নিং ওয়াকের সময় সেই দাভোলকরের উপর গুলি চালিয়েছিল।

দিন কয়েক আগেই এই খুনের তদন্তে ঢিলেমি নিয়ে বম্বে হাইকোর্টের তোপের মুখে পড়তে হয়েছিল সি বি আই সহ মহারাষ্ট্র পুলিশের সি আই ডি-কে। তারপরই সামনে পাঁচ বছর পালিয়ে থাকার খুনীর গ্রেফতার । উগ্র হিন্দুত্বাবাদী সংগঠন সনাতন সংস্থার এই খুনগুলির সঙ্গে জড়িত থাকার বেশ কিছু প্রমাণ সি বি আই-র হাতে এসেছে বলে জানা গেছে। ২০১৬ সালের ১০ই জুন এই খুনগুলির অন্যতম চক্রান্তকারী বীরেন্দ্র তাওড়েকে সি বি আই ধরেছিল। পানসারে খুনের মূল অভিযুক্ত হিন্দু জনজাগ্রুতি সমিতির সেই তাওড়ে অবশ্য এখন জামিনে মুক্ত।

চলতি মাসের শুরুর দিকে যুক্তিবাদী নেতা নরেন্দ্র দাভোলকর ও গোবিন্দ পানসারের খুনের তদন্তে আদালত সি বি আই-র পাশাপাশি মহারাষ্ট্র সি আই ডি-র ভূমিকারও সমালোচনা করেছিল। উভয় তদন্তকারী সংস্থাকেই আদালত স্মরণ করিয়ে দিয়েছিল, ন্যায্য তদন্তের দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থারই। এই খুনের ঘটনাগুলি স্বাধীন মত প্রকাশের ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব। এমনটা যাতে না হয় তা তদন্ত সংস্থাকেই দেখতে হবে।

বিচারপতি এস সি ধর্মাধিকারী এবং বিচারপতি ভারতী ডাঙরেকে নিয়ে গঠিত বম্বে হাইকোর্টের বেঞ্চ বলেছিল, সি বি আই এবং সি আই ডি-র পক্ষে এটা জরুরি যে এই খুনের ঘটনাগুলির ন্যায্য ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা।

আদালত বলেছে, দাভোলকর ও পানসারে খুনের পর কর্ণাটকেও একই ধরনের আরও ঘটনা ঘটেছে। মুক্ত মনের মানুষ,সমাজকর্মীদের মনে সংশয় তৈরি হয়, যদি তাঁদের বক্তব্য সামনে আসে তাহলে তাঁদের উপরেও হামলা হতে পারে। তাই প্রশাসনের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে তারা ন্যায্য ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে বাধ্য। তদন্তের যে কোনও বিলম্ব নিয়েও আদালতকে জবাবদিহি করতে হবে। সি বি আই-র জয়েন্ট ডিরেক্টর এবং মহারাষ্ট্র সি আই ডি-র বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-কে ডেকে পাঠিয়ে ধমক দিয়েছিল আদালত।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 × 2 =