ভারতের সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫এ ধারা রদ:এই দুই ধারায় বাড়তি যে সুবিধা পেত জম্মু ও কাশ্মীর?

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

১৯৫৪ সালে  ভারতের রাষ্ট্রপতির নির্দেশে ভারতীয় সংবিধানে ৩৭০ ও ৩৫এ ধারা সংযুক্ত করা হয় ।

অবশেষে জম্মু ও কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বাতিল করল ভারতের লোকসভা। একইসঙ্গে বাতিল হল ৩৭০ ধারার অন্তর্গত ৩৫এ ধারাও। ১৯৪৭ সালে এই ধারার খসড়া তৈরি করেছিলেন সেখ আবদুল্লা। সংবিধানের ১১ নম্বর অংশে কিছু অস্থায়ী ব্যবস্থার কথা বলা রয়েছে। সেই ক্ষমতা বলেই তৈরি হয় ৩৭০ ধারা। ১৯৫৪ সালে রাষ্ট্রপতির নির্দেশে ধারাটি ৩৭০-এ ঢোকানো হয় সংবিধানে।

সোমবার রাজ্যসভায় প্রবল হট্টগোলের মধ্যে ৩৭০ ধারা এবং এর  অন্তর্গত ৩৫এ ধারা রদ ঘোষণা করেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কাগজেকলমে সিলমোহর পড়ে গেল ভারতের কেন্দ্রীয় লোকসভাতেও। জম্মু-কাশ্মীর পুনর্গঠন বিলের প্রস্তাব রাজ্যসভার মতোই বিপুল ভোটে পাশ হয়ে গেল সেখানে।

মঙ্গলবার সারা দিন কাশ্মীরের পুনর্গঠন বিলের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলে লোকসভায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিলের সমর্থনে নিজের প্রস্তাব দেন। বিরোধীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘‘জম্মু-কাশ্মীরের অবস্থা স্বাভাবিক হলেই আবার তাকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা কাশ্মীরের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত।’’ ফারুক আবদুল্লার গ্রেফতারির অভিযোগ উড়িয়ে দেন তিনি। বিরোধীদের বার্তা দিয়ে বলেন, ‘‘ঐতিহাসিক ভুল নয়, বরং ঐতিহাসিক ভুল শুধরে নিচ্ছে বিজেপি।’’

দিনের শেষে ভোটাভুটি শুরু হলে দেখা যায়, রাজ্যসভারই পুনরাবৃত্তি। প্রাথমিক ভাবে ৩৫১টি ভোট পড়ে বিজেপির পক্ষে। কিছু ক্ষণের মধ্যেই তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬৬ তে।শেষ বেলায় ভারতের লোকসভায় বড় ‘নাটক’ হল কাশ্মীর পুনর্গঠন বিল নিয়ে। এ দিন মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস সাংসদ জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন, ‘‘আমি জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখকে ভারতের অভিন্ন অংশ হিসেবে যুক্ত করার এই পদক্ষেপকে সমর্থন করি। কিন্তু যদি সাংবিধানিক রীতি মেনে এটা করা হত, তা হলে প্রশ্ন তোলার কোনও জায়গা থাকত না।’’

সংবিধানের প্রতিলিপি ছিঁড়ে প্রতিবাদ করলেন ভারতের পিডিপি সাংসদ মির মহম্মদ ফায়াজ

কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বিলোপ করার প্রস্তাব করার সঙ্গে সঙ্গেই তোলপাড় হল রাজ্যসভায়। সরকারের এই প্রস্তাব দেশের সংবিধানকে হত্যা করেছে, এমনই অভিযোগ তুললেন বিরোধীরা। সরকারের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে নিজের জামা ছিঁড়ে, সংবিধানের প্রতিলিপি ছিঁড়ে প্রতিবাদ করলেন পিডিপি সাংসদ মির মহম্মদ ফায়াজ। ঘটনায় অবাক হয়ে যান সাংসদরা। ফায়াজকে সভা থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন ক্ষুব্ধ চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু।
সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ফায়াজ। রাজ্যসভার বাইরে এসেও বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তিনি। প্রতিবাদে নিজের জামাও ছিঁড়ে ফেলেন।

এদিকে, ৩৭০ ধারা বাতিলের প্রতিবাদ করলেও বিরোধী নেতা গুলাম নবি আজাদ পিডিপি সংসদ ফায়াজের সংবিধানের  প্রতিলিপি ছেঁড়ার তীব্র নিন্দা করেন। গুলাম নবি বলেন, পিডিপি সাংসদ মির ফায়াজ ও নাজির আহমেদ সংবিধানের প্রতিলিপি ছেঁড়ার যে চেষ্টা করেছেন তা নিন্দনীয়। আমরা সংবিধানের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের মান বাঁচানোর জন্য আমরা প্রাণ প্রর্যন্ত দিতে পারি। কিন্তু আজ বিজেপি যা করল তা সংবিধান খুন করার সামিল।

কিন্তু এই দুই ধারার বলে কী বিশেষ সুবিধা পেতেন জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষ?

৩৭০ ধারায় জম্মু ও কাশ্মীরকে দেওয়া হয়েছিল বিশেষ মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসনের অধিকার। এর ফলে দেশের অন্যান্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে যেসব নিয়ম লাগু হয় তা জম্মু ও কাশ্মীরের ক্ষেত্রে খাটতে নাও পারে।

অর্থ, যোগাযোগ, প্রতিরক্ষা ও বিদেশ বিষয় ছাড়া অন্য কোনও বিষয়ে রাজ্যে নাক গলাতে পারতো না কেন্দ্র।

প্রয়োজনে অন্যান্য রাজ্যে আর্থিক জরুরি অবস্থার ব্যবস্থা থাকলেও জম্মু ও কাশ্মীরে তা ছিল না।

জম্মু ও কাশ্মীরে কোনও আইন প্রণয়ন করতে পারতো না ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

৩৫এ ধারা

৩৭০ ধারার মধ্যেই ছিল ৩৫এ ধারা। ফলে ভারতের কেন্দ্রীয় লোকসভায় বিজেপির দাবি অনুযায়ী বাতিল হয়েছে এই ধারাও। এই ধারা অনুযায়ী বাইরের রাজ্যের কোনও লোক জম্মু ও কাশ্মীরে স্থাবর সম্পত্তি কিনতে পারতেন না। রাজ্য সরকারই ঠিক করতো কে স্থায়ী বাসিন্দা আর কে নয়। সেই ঘোষণা করার একমাত্র অধিকার ছিল জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভার। কোনও সম্পত্তি কিনতে গেল জম্মু কাশ্মীর রাজ্যে থাকতে হতো অন্তত ১০ বছর।

কোনও মহিলা জম্মু ও কাশ্মীরের বাইরের কাউকে বিয়ে করলে তিনি বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হতেন। তার উত্তরাধিকারীরাও সম্পত্তির অধিকার পেতেন না। এছাড়া রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দারাই একমাত্র ভোট দিতে পারতেন এবং চাকরির পরীক্ষায় বসতে পারতেন।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 × two =